২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মফস্বলে শিক্ষক সঙ্কট

মফস্বল শহর এমনকি জেলা শহরের অনেক সরকারী কলেজেই একাধিক বিষয়ের কোন শিক্ষক নেই। ইংরেজী, গণিত, রসায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি বিষয়ের শিক্ষক ছাড়াই চলছে এসব কলেজ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষক থাকলেও সপ্তাহে একদিনের বেশি ক্লাস নিতে আগ্রহী নন তারা। সবার লক্ষ্য যেন রাজধানীকেন্দ্রিক। জানা গেছে, সারাদেশে সরকারী কলেজগুলোতে একজন শিক্ষকও নেই এমন কলেজের সংখ্যা কমপক্ষে দেড় শ’টি। এর বিপরীতে ঢাকার সরকারী কলেজগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। খোদ রাজধানীতে ১৫টি সরকারী কলেজ, একটি সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা, একটি সরকারী কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট ও একটি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিটিতে অতিরিক্ত শিক্ষকের ছড়াছড়ি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় পদ খালি না থাকার পরও তদ্বিরের জোরে অনেকে ওএসডি অথবা সংযুক্তি আদেশ নিয়ে ঢাকায় থাকছেন। পরিসংখ্যান বলছে, সরকারী কলেজগুলোর ১২ হাজারের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষক এখন ঢাকায় বসে বসে বেতন নিচ্ছেন। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কলেজগুলোর শিক্ষক পদায়নে এই ভারসাম্যহীনতা শিক্ষাক্ষেত্রে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

এতদিন শোনা যেত ডাক্তার এবং সরকারী কর্মকর্তারা মফস্বলে থাকতে চান না। এখন শিক্ষকরাও মফস্বলবিমুখ। দিন দিন শিক্ষকদের এই অনীহা বাড়ছে। ফলে মফস্বলের অধিকাংশ সরকারী কলেজেই এখন শিক্ষক সঙ্কট চরমে। অথচ রাজধানীতে পদের চেয়ে দ্বিগুণসংখ্যক শিক্ষক থাকার নজিরও রয়েছে। সারাদেশের ৩১১টি সরকারী কলেজে শিক্ষকের পদ ১৪ হাজার ৬৩২। এর মধ্যে দুই হাজার ৭৫৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার প্রভাষক নেয়া হয়। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে মোট ওএসডি কর্মকর্তার সংখ্যা এখন এক হাজার ৫২৪। এদের মধ্যে মাউশিতে ওএসডি হয়ে বিভিন্ন সরকারী কলেজে সংযুক্ত রয়েছেন এক হাজার ৭১ জন। শিক্ষা প্রেষণে রয়েছেন আরও ৩৭৫ জন। কেবল ঢাকা মহানগরের কলেজগুলোতে ওএসডি হয়ে সংযুক্ত রয়েছেন ৪৬৫ জন। বর্তমানে মফস্বলে শিক্ষক সঙ্কট তৈরি করে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরে বসে বসেই সরকারী বেতন-ভাতা নিচ্ছেন প্রায় দেড় হাজারের বেশি শিক্ষক। এসবই করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাব ও তদ্বিরের জোরে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় রাজধানীমুখী শিক্ষকের ভিড় কতটা প্রকট।

শিক্ষকরা মফস্বলে থাকতে চান না তার প্রধান কারণ মফস্বলে কোচিং ও প্রাইভেটে আয় খুব কম। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের নির্দেশে কোন কলেজে যুক্ত থাকা ও পদোন্নতির পর সংশ্লিষ্ট পদ না থাকায় আগের পদে বহাল থাকার অনুমতি নিয়েও মফস্বল ছাড়ছেন শিক্ষকরা। এসব শিক্ষক রাজধানী ও বিভাগীয় শহরে নিজেদের পছন্দের কলেজে অতিরিক্ত হিসেবে রয়েছেন। অথচ এসব শিক্ষক নিজেদের কলেজে ফিরে গেলে শিক্ষক সঙ্কট অনেকটাই লাঘব হতো। এতে একদিকে যেমন সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে মফস্বলের কলেজগুলোতে ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

চাকরির বিধান অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারের নিয়োগকৃত স্থানে কাজ করতে বাধ্য। অথচ সেই অঙ্গীকারনামার গুরুত্ব দেন না অনেকে। আমরা মনে করি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে গতিশীল করতে অবিলম্বে এই বিষয়টির প্রতি মন্ত্রণালয়ের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সেইসঙ্গে বদলি, পদায়ন ও সংযুক্তির ক্ষেত্রেও সব অনিয়ম দূর করা হবে বলে মনে করি।