১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়ক কাউন্সিলের সুপারিশ

সড়কে নিরাপত্তা জোরদার, ঝুঁকি হ্রাস এবং যানবাহন চলাচল নিরাপদ করার লক্ষ্যে গঠিত সংস্থা জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল প্রায় মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হওয়াটা অনভিপ্রেত। সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণে যারা আছেন তারা কতটুকু দায়িত্ববান, করিতকর্মা বা কর্তব্যপরায়ণ সে প্রশ্ন তোলা অপ্রাসঙ্গিক বা অবান্তর নয়। ওই কাউন্সিলকৃত ৮৬টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র একটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। কাজের এ বাস্তবতা শুধু অনাকাক্সিক্ষতই নয়, দুঃখজনকও। কেননা, যে কমিটির বয়স ৩৭ মাস অতিবাহিত হয়েছে সেই কমিটির একটি মাত্র সুপারিশ বাস্তবায়িত হওয়ার পথে, এমন যদি হয় বাস্তবতা তা মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। সুপারিশটা হলো মহাসড়ক থেকে অযান্ত্রিক ও তিন চাকার যান্ত্রিক বাহন নিষিদ্ধকরণ। বর্তমানে এটির কার্যক্রম চলছে, তবে তা নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

২০১২ সালের জুলাইয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল যাত্রা শুরু করে। সংস্থাটি তিন রকম মেয়াদের কার্যক্রম হাতে নেয়। স্বল্প, দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদী এ কার্যক্রমের আওতায় ছিল মহাসড়কে চাপ ও যানজট সৃষ্টিকারী এবং দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অযান্ত্রিক ও তিন চাকার যান্ত্রিক বাহন নিষিদ্ধকরণ, মহাসড়কে চিহ্নিত অন্তত প্রায় দেড় শ’য়ের মতো দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ব্যবস্থা গ্রহণ, বাসস্ট্যান্ড ব্যতীত যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা, মহাসড়কের দু’পাশে বাজার, ফুটপাথ উচ্ছেদ, দক্ষ-প্রকৃত চালক ও সহকারীদের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে পরিচয়পত্র প্রদান ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ইত্যাদি। এসব পরিকল্পনার কথায় তখন বেশ আশ্বস্ত হওয়া গিয়েছিল যে, এরপর থেকে মহাসড়কে দুর্ঘটনা সম্ভবত কমে আসবে। কেননা, এই কাউন্সিলের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রজ্ঞা, কর্মদক্ষতা, সততা নিয়ে কোন সন্দেহ বা প্রশ্নের অবকাশ ছিল না। কিন্তু কাউন্সিলের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে দেখা দেয় জটিলতা। সেই জটিলতা অনেকটাই আমলাতান্ত্রিক। একটি সুপারিশ পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন সরকারের আটটি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশগ্রহণ। খুব সম্ভবত এ কারণেই কাউন্সিল সম্পর্কে একটা নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিয়মানুসারে দুই মাস অন্তর কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এটাও দুর্ভাগ্যজনক। এ বাস্তবতাও অনুসন্ধানযোগ্য। এই ‘শক্তিশালী’ কাউন্সিল এখন অনেকটাই নখদন্তহীন বাঘের মতো হয়ে পড়েছে বললে বোধ করি অত্যুক্তি হবে না।

এই কাউন্সিল গঠিত হওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। শুরুর দিকে একটি ইতিবাচক সাড়া ও সমর্থন পেলেও তাদের সুপারিশ বাস্তবায়িত না হওয়া বা দীর্ঘসূত্রতায় আক্রান্ত হলে সাধারণের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনা বেড়ে যায় মহাসড়কে। সরকারী হিসেবেই প্রাণ হারিয়েছেন ১২ হাজার আর বেসরকারী মতে ২০ হাজার মানুষ। এ চিত্রের নেতিবাচক ঢেউ যে ওই কাউন্সিল ও এর নিয়ন্ত্রকদের ওপর পড়েছে তা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সুপারিশমালা জনকল্যাণমূলক তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। তবে প্রশ্ন হলো, এর বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে। সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা এর সুপারিশমালা বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সেসবের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়ে প্রমাণ করতে হবে সড়কে সাধারণ মানুষ, বাহন ও যাত্রী নিরাপদ। এই দায়িত্ব বাস্তবায়নের সুফলভোগী তারাও হবেন, কেননা মহাসড়ক নানাভাবে তারাও ব্যবহার করেন।