১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুফ রায়হান

ভাদ্র মাস আসতে এখনও কিছুটা বাকি। অথচ রাজধানীর রোদ্দুরে ভাদ্রের তালপাকা গরমের তেজ পাওয়া যাচ্ছে। শ্রাবণের বৃষ্টি যেন বিদায় নিয়ে চলে গেছে। এমনকি বাইশে শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসটিতে মহানগরীর কোথাও কি বৃষ্টিপাত হয়েছে? প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা প্রায় বৃষ্টিহীন! সেই সাত সকালে, সাড়ে পাঁচটায় সূর্যোদয় হচ্ছে। দিনগুলো অনেক দীর্ঘ, তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ছুঁইছুঁই। তীব্র গরমের ভেতর যথারীতি যানজটে নাকাল হচ্ছে রাজধানীবাসী।

একের পর এক

মুক্তমনার প্রস্থান!

শুধু লেখার জন্য এই দেশে তরুণ লেখকরা একের পর এক খুন হবেন! ২০১৩ সালে অভূতপূর্ব গণজাগরণ দেখেছিলাম আমরা শাহবাগে। সেই সময়েই মিরপুরে প্রথম খুন হন একজন ব্লগার, তার নাম রাজীব হায়দার। ওই সময়েই ব্লগার নামে কবিতাটি লেখা হয় :

তোমার অক্ষর হতে জন্ম নেয় সহস্র বল্লম

তোমার কী-বোর্ড থেকে প্রবাহিত আলোর ফোয়ারা

অন্তর্জালে বুনে দাও মহাকাব্য অন্তরযোগের

তোমার মস্তক ছোঁয় মহাকাশÑ সুপ্রিয় বিদ্রোহী

তোমাকে কুর্নিশ করে বটবৃক্ষÑ বনসাই-বঙ্গে

ল্যাপটপে তুমি থাকো অচঞ্চল ঋজু ধ্যানী স্রষ্টা

ক্রান্তিকালে একমাত্র বাতিঘর প্রজন্ম-চত্বরে

এমনকি হতে পারে স্বকালের সেøাগানও কবিতা

জেনেছি নির্ঘুম শাহবাগে অগ্নি-ভগিনির কাছে

চার দশকের গ্লানি মুছে যাক তোমার সৌজন্যে

কেমন বদলে গেছে চারপাশ তোমার সাহসে

নিরুদ্দেশ দেশপ্রেম গান গায় দুখিনী বাংলায়

আজকের শব্দসেনা ও ব্লগার, সৌন্দর্যসম্ভার

‘তুমি তো আমার ভাই, হে নতুন, সন্তান আমার’

হায়, ২০১৫ সালে এসে স্বল্প সময়ের বিরতিতে একের পর এক ব্লগার নৃশংসভাবে খুন হচ্ছেন। গত সপ্তাহে রাজধানীতে ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয়) নিহত হওয়ার পর তার সতীর্থ বন্ধুরা প্রতিবাদে রাজধানীর রাজপথ কাঁপিয়ে চলেছেন।

আমরা স্মরণ করতে পারি একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বরে মুক্তচিন্তার মানুষগুলো হত্যার মূল অভিপ্রায়কে। আজকে যারা মুক্তচিন্তক ও মুক্তচিন্তার পক্ষের মানুষগুলোকে অপমান করছে, হত্যার হুমকি দিচ্ছে তারা কোনভাবেই মানবতাবাদ, সমাজের সুস্থতা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অনুসারী হতে পারে না। বরং আরও স্পষ্ট করে বললে বলতে হবেÑ তারা দেশের মানুষের শত্রু। মুক্তচিন্তার বড় ধারক হতে পারে তরুণ প্রজন্ম। বর্তমানে যেমন অনেক উজ্জ্বল ব্লগার। অথচ তরুণ প্রজন্মের একাংশের ভেতর সত্যের যুক্তি ও জ্ঞানের আলোর সমান্তরালে অন্ধ বিশ্বাস এবং অজ্ঞানতার অন্ধকারও বিস্তার লাভ করছে। চাপাতি শানাচ্ছে যে সেও তরুণ! বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সড়কের অসুস্থতা

একটা কথা আছেÑ বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট। মানুষ তার ভেতরের দুর্বলতাগুলো চেপে রেখে বাইরের চাকচিক্য বজায় রাখে। আবার কেতাদুরস্ত পোশাক-আশাক দেখে মনেই হবে না তার মানিব্যাগের করুণ হাল। সড়ক হলো একেবারে খোলামেলা বহিরাঙ্গন। সড়কের চেহারা দেখে কোন এলাকার দারিদ্র্য বা আভিজাত্য সম্পর্কে কি ধারণা পাওয়া সম্ভব? মনে হয় না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যে এলাকায় তার সামনের অল্প কিছু অংশ সড়ক বাদ দিলে গোটাটাই দুর্দশাগ্রস্ত। সড়ক পাশের ফুটপাথ বা পেভমেন্টÑ সর্বত্রই রুগ্ন দশা। ভিআইপি রোডে ভিআইপিরা বিলক্ষণ চলাচল করেন। সেইসঙ্গে আমজনতাও ব্যবহার করেন ভিআইপি রোড। ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার হয়ে বাংলা মোটর পর্যন্ত সড়কটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। বিশেষ করে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার মোড়টি হয়ে উঠেছে নগরীর ব্যস্ততম ট্রাফিক মোড়ের প্রতীক। কমপক্ষে এক হালি করে টিভি সেন্টার ও সংবাদপত্রের কার্যালয়, বিরাট কাঁচাবাজার, বিশাল ও বাহারি শপিং সিটি, এমনকি পাঁচতারা নামজাদা হোটেল একে কেন্দ্র করেই অবস্থান করছে। অথচ এই সিকি কিলোমিটার সড়কটুকু দুর্গন্ধ, আবর্জনা, খোলা ম্যানহোল ইত্যাদিতে বস্তির গলির চেহারা নিয়েছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি যেন শেষই হতে চায় না এখানে। এবড়ো-খেবড়ো ইট-সিমেন্টের চাপড়গুলো পেভমেন্টের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়। সেখানে বালুর স্তূপও দেখি মাঝেমধ্যে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বলে এসব দেখভালের জন্য একটা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তারা সব কোথায় গেল? রাজধানীর ভিআইপি রোডের এমন এতিম-দশা হলে অন্য ছোট সড়কগুলোর কী দুর্দশা তা সহজেই অনুমান করা যায়। একই বিষয়ে বার বার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।

গাড়ির আলো গাড়ির শব্দ!

বড় রাস্তায় রাতের বেলা গাড়ি চলাচলের সময় হেডলাইট উঁচু থাকাটাই সমীচীন। আলোকরেখা সরলপথে চলে বলে দূরবর্তী অঞ্চল অন্ধকারের মধ্যে ভালমতো ঠাহর করার জন্য গাড়িচালক আলোর দ্যুতি উর্ধমুখী রাখেন। কিন্তু পাড়া-মহল্লার ভেতর সরু গলিতে গাড়ি চালানোর সময় তার দরকার নেই। তাছাড়া গলির ভেতর সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকার অধিবাসীরাই যাতায়াত করেন। কখনও হেঁটে কখনও বা রিক্সায়। গাড়ির তীব্র উর্ধমুখী আলো তাদের চোখকে কী মারাত্মক পীড়া দেয় তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। গাড়ি চালনার লাইসেন্স গ্রহণের সময় এসব শিক্ষা দেয়ার কথা। হয় অধিকাংশ গাড়ি চালকের সঠিক শিক্ষা হয়নি, অথবা চালকরা ভুয়া লাইসেন্সধারী।

গাড়ির হর্ন বাজানো নিয়েও দু’কথা বলা দরকার। রাজধানীতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই নতুন গাড়ি নামছে। রাস্তা সীমিত, আর রাস্তার বাহন সীমাহীন। সেই সঙ্গে অসীম তার শব্দদূষণ। শব্দদূষণ নিয়ে অল্প করে হলেও বলা দরকার। ঢাকার রাজপথে হরেক রকম উচ্চ শব্দের ভেতর সবচেয়ে অসহনীয় মনে হয় এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। সাইরেন একটানা বেজে চলে, তার থামাথামি নেই। ঢাকার রাস্তার ওপর গাড়ির যে চাপ তাতে এক সিগন্যাল থেকে অন্য সিগন্যাল পর্যন্ত পেছনের গাড়িকে ওভারটেক করে এ্যাম্বুলেন্সের সামনে এগিয়ে যেতে অল্প পথই পাড়ি দিতে হয়। তাই সামনে চলা পাঁচ-দশখানাকে জায়গা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ-সঙ্কেত দেয়ার জন্য অতি উচ্চ অতি তীব্র শব্দে সাইরেন বাজানোর সামান্যতম যুক্তি নেই। এই সাইরেন শুনে বরং সুস্থ মানুষই অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম ঘটে। সুতরাং ঢাকার পাড়ায়-পাড়ায় গজিয়ে ওঠা হাসপাতাল-ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে নির্বাচিত মেয়রের পক্ষে একটি নোটিস পাঠানোর অনুরোধ করতেই পারে ঢাকাবাসী। এবং একইসঙ্গে মোটরসাইকেলগুলোর হর্নের ব্যাপারেও একটা কার্যকর অভিযান চালানো অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত আমাদের এক সাংবাদিক বন্ধুর অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরছি। এতে যানজটের বিষয়টি বেশ সরস ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে। সচেতন এই রাজধানীবাসী তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন : সন্ধ্যা ৬টা, সাড়ে ৬টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে কী অবস্থা হয়, আমরা তো জানি। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে রাস্তা আর ফুটপাথের অবস্থা আরও খারাপ।

প্রাইভেট কারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মোটরসাইকেল বাড়ছে। এরপর বোধহয় বাড়তে শুরু করেছে বাইসাইকেল কেনা। চিপাচাপা দিয়ে দ্রুত চলে যাওয়ার জন্য সাইকেল ভাল।

এ রকম কয়েকটি মোটর আর বাইসাইকেল ওখানে ভাঙাচোরা, কর্দমাক্ত ফুটপাথের ওপর দিয়ে হর্ন বাজিয়ে আসছিল। এতে রাগ করার কিছু নেই। এটা তো অভ্যাস হয়ে গেছে।

যেটা অভ্যাস হয়নি, কাল সন্ধ্যায় সেটা দেখতে হলো। দু’জন লোক দেখতে পেলাম উল্টো দিক দিয়ে একটা মোটর আর একটা বাইসাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ফুটপাথের ওপর দিয়ে।

আমি অবাক হইনি। কিন্তু এক কর্মজীবী নারী দেখি খুব বিরক্ত। তার সঙ্গে থাকা লোকটি রসিক মনে হলো। বলল, ‘একটু সবুর কর। এর পর দেখবা, মাথার ওপর দিয়া যাইতে চাইব। হেই ব্যবস্থাও কইরা দেওন লাগব’।

ফেরার পথে ইস্কাটন, সবজিবাগান এলাকায় ভয়ানক জ্যাম। বিরাট কোন বিয়েশাদি হচ্ছিল বোধহয় ... গাড়ি আর গাড়ি। এর মধ্যে কিছু আবার বিশাল সাইজের উঁচু-উঁচু গাড়ি। এ রকম দুটো গাড়ি থেকে শশব্যস্ত হয়ে মাত্র দু’জনকে নামতে দেখা গেল। অগত্যা তারা স্থির করেছেন, হেঁটেই যাবেন গন্তব্যে।

আমার রিক্সার পাশে এক চালক গাড়িতে বসে হাসছিল তখন। বলল, ‘দুইদিন পর গাড়ি আর চালান লাগব না। তহন আর কী রিক্সা চালামু’।

তার কথায় আমার রিক্সাচালক দেখি খুব উৎসাহিত। বলল, ‘এই যে সব চকচইক্যা গাড়ি দেকতাছেন স্যার- এইগুলান ধুইয়া পানি খাইতে অইব’।

বললাম, তা-ই?

গাড়িচালকের জবাব, ‘হে খারাপ কয় নাই। এসব গাড়ি গেরেজ থাইক্যা বাইর করনই যাইব না। নতুন বউয়ের মতো আদর কইরা রাইখ্যা দিতে অইব। আর কোনমতে রাস্তায় বাইর অইলে জামে আটকাইয়া গাড়িটারি মাথায় লইয়া দৌড়াইতে অইব’।

চলছে অভিযান

কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ দিতে হয় রাজধানীতে দু’ধরনের অভিযান চালানোর জন্য। প্রথম অভিযানটি অবশ্য সারাদেশেই চলছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ভুয়া লাইসেন্সধারী চালকের বিরুদ্ধে এই অভিযান। দ্বিতীয়টি উত্তরায় প্রধান প্রধান সড়কে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার।

বুধবার ঢাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা কিছুটা কমে যায় অভিযানের কারণে। ফলে সঙ্গত কারণেই যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরদিন বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতি ছিল। লক্কড় ঝক্কড় ও রংচটা বিচ্ছিরি দেখতে বাস-মিনিবাসগুলোর মালিক ও চালকরা ভাল করেই জানে তাদের দুর্বলতা। তবু বছরের পর বছর তারা ওই ‘অপকর্ম’ চালিয়ে যায়। যাত্রীরাও বাধ্য হয়ে এসব গাড়িতে সওয়ার হন। মাঝপথে বিকল হওয়া এসব গাড়ির ক্ষেত্রে একটি নিয়মিত বিষয়। তাছাড়া গাড়ির ভেতরে যন্ত্রণা ভোগ করাটাও বাস্তবতা। যাহোক হঠাৎ করেই এই অভিযান চলায় গাড়িমালিকদের ভেতর সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারা ভাল করেই জানে এই অভিযানের সময়টুকু পার করে দিতে পারলেই কেল্লাফতে। তারপরে আর পায় কে! আবার অনেকের ভেতর তোয়াক্কা না করার প্রবণতাও রয়েছে। ফলে দুদিন না যেতেই সেই পুরনো অবস্থায় ফিরে আসা। চালাক লোকজন তাদের গাড়িতে আলগা রঙ লাগিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। আসলে অবস্থার সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্য এসব অবৈধ কারবারিদের বড় ধরনের শাস্তি দেয়া দরকার। যাতে পরে তারা শুধরে যায়। চালকরা পেটের দায়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমে থাকে। দরকার হচ্ছে তাদের গাড়ির মালিকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

উত্তরায় এটি প্রথম নয়। কয়েক বছর পরপরই দেখে আসছি বৈধ কর্তৃপক্ষের বিশাল গাড়ি এসে গুড়িয়ে দিচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। অবস্থা বেগতিক বুঝে ঝটপট সংশ্লিষ্ট এলাকার দোকানপাটের মালিক বা দোকানিরা শাটার টেনে দোকান বন্ধ করে দিয়ে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায় দোকানগুলো। তাহলে এ সবই কি লোক দেখানো? এমন একটা জিজ্ঞাসা উঠে আসে সাধারণ নাগরিকদের মনে। আসলে দরকার একটি পাকাপাকি বন্দোবস্ত। বলা দরকার বুধবার অভিযান চালিয়ে রাজউক একটি ব্যাংক সহ চল্লিশটি দোকান সিলগালা ও বন্ধ করে দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে এসব কি বন্ধই থেকে যাবে, নাকি অল্প কদিনের ভেতরই ফের খুলে যাবে?

বুক লাভার্স ডে

এবং ‘সেই বই’

৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে থাকে বুক লাভার্স ডে বা বইপ্রেমী দিবস। ঘটনাটি কাকতালীয়। ওই দিন বই নিয়ে অনলাইনে সক্রিয় নতুন সংস্থা ‘সেই বই’ রমনা উদ্যানের রেস্তোরাঁয় গ্রন্থ লেখকদের ঈদোত্তর পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছিল। বিপুল সংখ্যক নবীন-তরুণ-প্রবীণ কবি-সাহিত্যিক এতে যোগ দেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম ই-বুক স্টোর বা লাইব্রেরি হলো ‘সেই বুক ডটকম’। এই লাইব্রেরি থেকে একজন ব্যবহারকারী তার পছন্দের বইগুলো নিজ লাইব্রেরিতে সংগ্রহ করতে পারবে। এই ইবুকগুলো মোবাইল ডিভাইসে পড়ার জন্য ব্যবহারকারীকে বিশেষায়িত ‘সেইবই’ বাংলা ইবুক রিডার অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। এই অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনামূল্যে অ্যানড্রয়েড ডিভাইসে ডাউনলোড এবং ইনস্টল করা যায়। বেশ কিছু গ্রন্থ পাওয়া যাবে একদম বিনামূল্যে এবং অল্প কিছু টাকা অ্যাড করে কেনা যাবে আরো ২ হাজার বই, মানে ই-বুক। বাস কিংবা লঞ্চে ভ্রমণের সময় স্মার্ট ফোনটি এভাবেই হয়ে উঠতে পারে পাঠকের একান্ত পাঠাগার। একুশের বইমেলায় ‘সেই বই’-এর স্টল বইপ্রেমিদের আকর্ষণ করেছিল। সে সময় ত্রিশ হাজার পাঠক রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। রমনায় লেখকদের মিলনমেলায় সেই বই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিল উদ দৌলাহ ও ফাইন্যান্স ডিরেক্টর সেঁজুতি দৌলাহ-র বক্তব্য থেকে অনেক লেখকই নিজেদের বই ই-বুক হিসেবে অনলাইনে রাখার উৎসাহ পাবেন।

১০ আগস্ট ২০১৫

সধৎঁভৎধরযধহ৭১@মসধরষ.পড়স