২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সম্পাদক সমীপে

  • বিষয়টি ভেবে দেখবেন

আমরা বিএডিসি হতে ১৯৯৭ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ৫৭ বছর বয়সে অবসরপ্রাপ্ত হয়ে অতি সামান্য পরিমাণ আর্থিক সুবিধা পাই। উক্ত সামান্য অর্থের ওপর প্রাপ্ত পেনশনার/সাধারণ সঞ্চয়পত্রের সুদের আয়ে আমরা জীবিকা নির্বাহ করছি। এছাড়া আমাদের আর অন্য কোন আয়ের উৎস নেই। এমনকি অন্যান্য সরকারী সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো আমরা মাসিক চিকিৎসা ভাতা ও বাৎসরিক উৎসব ভাতাও পাই না।

উল্লেখ্য যে, আপনাদের ১৯৯৬-২০০১ সালের সরকারের সময়ে বিগত জুলাই ১৯৯৭ জাতীয় বেতন স্কেল প্রদানের ৮-৯ বছর সময়ের মধ্যেও পরবর্তী চারদলীয় জোট সরকার কর্র্তৃক কোন বেতন স্কেল প্রদান না করলেও (যে সময়ে আমরা সামান্য বেতনের ভিত্তিতে অবসরপ্রাপ্ত হই) জানুয়ারি ২০০৫ সালে ১৯৯৭ সালের বেতনের ওপর কমপক্ষে ৬৫% আর্থিক সুবিধা দিয়ে বেতন স্কেল প্রদান করা হয়, পুনরায় আপনাদের ২০০৯-২০১৩ সালের সরকার কর্তৃক জানুয়ারি ২০০৫-এর পর মাত্র সাড়ে চার বছর সময়ের মধ্যে কমপক্ষে পুনরায় ৬৫% আর্থিক সুবিধা দিয়ে জুলাই ২০০৯ জাতীয় বেতন স্কেল প্রদান করা হয় এবং আবারও ২০০৯ সালে প্রদত্ত বেতন স্কেলের ওপর প্রায় ১০০% আর্থিক সুবিধা দিয়ে কর্মরত সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেল জুলাই ২০১৫ থেকে প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ১৯৯৭ হতে অদ্যাবধি কর্মরত একজন সরকারী কর্মচারী ১০০ টাকার স্থলে বর্তমানে মূল বেতন ও বাড়িভাড়ায় প্রায় ৮০০ টাকার কাছাকাছি আর্থিক সুবিধা পাবেন, তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। অন্যদিকে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী ১৯৯৭ হতে আজ অবধি ১০০ টাকার আর্থিক সুবিধায় রয়ে গেছেন, যার পেনশনের/সাধারণ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২০০৯ সালে একবার কমিয়ে পুুনরায় বর্তমান অবস্থায় করা হয়েছে এবং অতি সম্প্রতি পুনরায় প্রায় ২% কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজিত আর্থিক বৈষম্যটি সহজেই অনুমেয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, ব্যবসায়ী সমাজকে কম সুদের হারে কর্জ দেয়ার জন্য তাদের কর্জের ওপর সুুদের হার কমানোর লক্ষ্যে প্রদত্ত সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে এ আর্থিক দুর্দিন ও মূল্যস্ফীতিতে আমাদের জীবনধারণ অতীব কষ্টকর করা হচ্ছে, যা সামাজিক ন্যায়ানুগ ব্যবস্থার পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি। এতে একদিকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে অধিক আয়ের সুবিধা করা হচ্ছে, অন্যদিকে আমাদের মতো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাঁচতে দেয়ার দায় যেন আপনাদের নেই।

সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়িভাড়া ও যাতায়াত ভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের মূল্য হু হু করে বেড়ে যায় ও মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করে, যা এ যাবত কোন সরকারই সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এ ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের পক্ষে সহনীয় ও লাভজনক হলেও আমরা যারা অবসরপ্রাপ্ত তাদের ক্ষেত্রে সাংঘাতিকভাবে অসহনীয় ও দুঃখজনক হয়ে যায়। আমরা অহরহ শুনে আসছি, আমাদের দেশের জনগণের গড় আয় বেড়ে ১০৭৪ ডলার বা আরও বেশি হয়েছে। আমাদের মতো অবসরপ্রাপ্তদের আয় কি এক টাকাও বেড়েছে? বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে বলে প্রচারণা করা হলেও আমরা কি বাড়তি আর্থিক সুবিধার অংশীদার হই? এটা কি আমাদের মতো অবসরপ্রাপ্তদের (যারা একমাত্র সঞ্চয়পত্রের সুদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল) সঙ্গে হালকা রসিকতা নয়? এমনকি কর্মরত সরকারী কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের যেভাবে আর্থিক সুবিধা ও প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে সেভাবে আমাদের সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও বাড়ানোর প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

আরও উল্লেখ্য, বৃদ্ধকালে শরীর চলাচলের শক্তি হারায়। দৈনন্দিন জীবনধারণের ব্যয় ছাড়াও চিকিৎসা ও ওষুধের একটি দৈনন্দিন খরচ এবং আমৃত্যু সাংসারিক দায়দায়িত্ব (ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ও বিবাহ দেয়া ইত্যাদি) লেগেই থাকে। এমতাবস্থায়, অনুগ্রহ করে আমাদের আর্থিক অসুবিধার কথা মানবিকভাবে ও সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে পেনশনার ও সাধারণ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না বাড়ালে অন্তত বর্তমান স্থিতাবস্থায় রেখে আমাদের জীবনধারণে সহায়তা করতে কর্তৃপক্ষের কাছে সবিনয় আবেদন জানাচ্ছি।

সৈয়দ আহমদ, মাকসুদ আহম্মদ

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

হিসাব অফিস, বিএডিসি, চট্টগ্রাম।

নির্বাচিত সংবাদ