২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দর উন্নয়ন

  • সোনাহাট স্থলবন্দর প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি স্থরবন্দর উন্নয়ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামীতে আরও নতুন স্থলবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্য বাণিজ্য বাড়াতে উন্নয়ন করা হচ্ছে সোনাহট স্থলবন্দর। এতে ব্যয় হবে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হতে পারে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানিকৃত পণ্যসামগ্রীর গুদামজাতকরণ ও আনানেয়ার সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান এ বিষয়ে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রসারে স্থলবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুরুঙ্গামারী স্থলবন্দর তারই মধ্যে অন্যতম, এর ফলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া তাদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও হবে।

সূত্র জানায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কানেকটিভিটিতে জোর দিচ্ছে সরকার। এজন্য পর্যায়ক্রমে স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে সমান্বত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় অপ্রতুল সুবিধা থাকা বিভিন্ন স্থল বন্দরের পর্যাপ্ত বন্দরকাঠামো নির্মাণসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা বাড়ানো হবে। ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটানসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে স্থলবন্দরগুলো উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি হলে দেশের আমদানি রফতানিসহ বৈদেশিক বাণিজ্য কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এজন্য পর্যায়ক্রমে দেশের স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমারেখা ৪ হাজার ৯৫ কিলোমিটার। মিয়ানমারের সঙ্গে ২৫৬ কিলোমিটার এবং উপকূলীয় সীমারেখা ৫৮০ কিলোমিটার। এসব সীমারেখায় স্থাপিত শুল্কস্টেশন ও স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মালামাল এবং পণ্যসামগ্রী আমদানি-রফতানি হয়। এসব স্থান দিয়ে পর্যটকও আসা-যাওয়া করে। প্রতিবেশী এ দু’দেশের সঙ্গে বিদ্যমান স্থলবন্দরগুলোর যথাযথ উন্নয়নের মাধ্যমে এদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষা হবে, সীমান্ত বাণিজ্য জোরদার হবে, বাণিজ্য ঘাটতি কাটিয়ে ওঠাও সম্ভব হবে। পাশাপাশি পার্শবর্তী দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে প্রচুর সংখ্য পর্যটক আগমনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে বেনাপোলের পাশাপাশি সিলেটের তামাবিল, লালমনিরহাটের বুড়িমারি ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে দিনাজপুরের হিলি, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা, লালমনিরহাটের বুড়িমারি এবং সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি নতুন স্থলবন্দর করারও পরিকল্পনা রয়েছে। যেগুলোর সম্ভাবতা যাচাইয়ে বিশ্ব ব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা নেয়া হবে। সম্প্রতি শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় আসামসহ অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে রাঙ্গামাটির রামগড়, টেগামুখ ও সিলেটের শ্যাওলাতে নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সূত্র জানায়, সমন্বিত পরিকল্পনা অংশ হিসাবে ‘সোনাহাট স্থলবন্দর উন্নয়ন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থলবন্দর সংলগ্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণ, পণ্য রাখার জন্য পর্যাপ্ত গুদাম ও অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন হবে। পরিকল্পনা কমিশন জানায়, কুড়িগ্রাম জেলা থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সোনাহাট স্থলবন্দরের অবস্থান। এর বাংলাদেশের অংশের নাম বঙ্গসোনাহাট। ভারতের অংশের নাম সোনাহাট। ভারতীয় অংশে সোনাহাটে এলাকাটি আসাম রাজ্যের ধুবরী জেলার গোলকগঞ্জ থানায় অবস্থিত। এই স্থানের খুব কাছে ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের অংশবিশেষ রয়েছে। সোনাহাট সংলগ্ন ভারতীয় অংশে ওয়্যারহাউজ, পার্কিং ইয়ার্ড, বাউন্ডারিসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ অংশে কোন অবকাঠামো নাই। এমনকি সোনাহাট জিরো পয়েন্ট থেকে ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অভ্যন্তুরে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প ছাড়া এখানে সরকারী কোন অফিস নেই। তাই সোনাহাটে শুল্ক ও ইমিগ্রেশন বিভাগের অংশে স্থলবন্দরটি নির্মাণ করা হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নেয়া এ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুন মেয়াদে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ১৪ দশমিক ৮৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ১ লাখ ৬৫ হাজার ঘন মিটার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ৭ হাজার ৭শ’ বর্গ মিটার রাস্তা, ১৩ হাজার বর্গ মিটার ওপেন ইয়ার্ড, ১ হাজার ২০৮ বর্গ মিটার ওয়্যারহাউজ ও ১ হাজার ৭৮ মিটার এলাকা জুড়ে ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করাসহ ১ হাজার ১২৮ রানিং মিটার ড্রেন, দুটি প্রক্ষালন কমপ্লেক্স, ফার্নিচার ও কম্পিউটার ক্রয় করা হবে। দুটি এক শ’ টন ধারণক্ষমতার ওয়েব্রিজ সংগ্রহ করা হবে।

এ বিষয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি-রফতানি তথা বাণিজ্য বাড়াতে স্থল বন্দরগুলোর উন্নয়নে কোন বিকল্প নেই। এজন্য সব বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বেশ কয়েকটি বন্দরের উন্নয়ন কাজ জোড়েশোরে চলছে।