২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেরিলিন মনরোর অপ্রকাশিত ছবির প্রদর্শনী

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ বিশ্ববিখ্যাতই শুধু নয় শতাব্দীর সেরা আবেদনময়ী অভিনেত্রী বলা হয় মেরিলিন মনরোকে। বিশেষ করে ৫০ এবং ৬০-এর দশকে হলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে আবেদনময়ী চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। শুধু অভিনয় নয় ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা আর স্ক্যান্ডালের কারণেও আলোচিত ও সমালোচিত ছিলেন এই অভিনেত্রী। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে এই অভিনেত্রীর পর্দায় সৌন্দর্যের উপস্থাপনা। ৪০ দশকের শেষ পর্যন্ত ধারাণা ছিল অভিনেতা, অভিনেত্রীদের নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে আসা উচিত নয়। এই বক্তব্যে সেই সময়টায় মোটের ওপর একমত ছিল আমেরিকা তথা গোটা দুনিয়া। ঠিক সেই সময়ই সাহসী কয়েকটি ছবি পাল্টে দিয়েছিল নগ্নতার পুরনো ধারণা। এবার বিরল সেই ছবি সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন আম-জনতা। একেবারে মূল ছবিগুলোই। সেই নগ্ন ছবিগুলোর মডেল হয়েছিলেন মেরিলিন মনরো। শনিবার সানফ্রান্সিসকোর সারা স্টকিংস গ্যালারিতে দু’দিনব্যাপী মূল সেই ছবিগুলোর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। জানা গেছে আগামী ১৩-১৫ অগস্ট লাস ভেগাসে এবং আগামী সেপ্টেম্বরে শিকাগো এবং নিউইয়র্কের প্রদর্শনীতেও দেখা যাবে ইতিহাস সৃষ্টিকারী নগ্ন ওই মেরিলিনকে। এমন তথ্যই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যম। জানা যায় ওই সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি মেরিলিন মনরো নামের হলিউড আইকনকে। কিন্তু দারিদ্র্যের জ্বালায় ক্যামেরার সামনে নগ্ন হয়ে ফোটো শুট করেছিলেন সেই মেরিলিনই। পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। মডেলের নাম হয়েছিল মোনা মনরো। তারিখটা ছিল ১৯৪৯ সালের ২৭ মে। ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিক। টাকার অনেক অভাব। বাধ্য হয়েই নগ্ন ফটো শুট করেছিলেন মেরিলিন। জন বাউমগ্রাথ কোম্পানির ফটোগ্রাফার টম কেলিকে মাত্র দু’ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন মনরো। পরবর্তীকালে সেই ছবিই মার্কিন সংস্কৃতিতে বেঞ্চমার্ক হয়ে দাঁড়ায়। ছবিগুলো নিয়ে তিন বছর পর ১৯৫২ সালের মার্চে মুখ খোলেন মেরিলিন। ততদিনে বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন তিনি। সেই সময়ই স্বীকার করেন, ওই ছবি তাঁরই। যদিও জন বাউমগ্রাথ কোম্পানির কর্তারা মেরিলিনকে ওই ফটো শুট সম্পর্কে প্রকাশ্যে কিছু বলতে বারণ করেছিলেন। তাঁরা মনে করেছিলেন এই খবর প্রকাশ্যে এলে প্রভাব পড়তে পারে মেরিলিনের ক্যারিয়ারে। কিন্তু ‘নগ্নতা’ নিয়ে মার্কিন সমাজের যাবতীয় ‘ট্যাবু’ ভেঙে দেন নায়িকা। তাঁর সাহসী ফটো শুটের কথা জানিয়ে দেন সকলকে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়, মেরিলিন স্বীকার করেছেন ওই ক্যালেন্ডারের নগ্ন মহিলা তিনি নিজেই। ১৯৫৩ সালের ডিসেম্বরে জন বাউমগ্রাথ কোম্পানির কাছ থেকে ৫০০ ডলারে মেরিলিনের ওই ছবির স্বত্ব কিনে নেন হাগ হেফনার। প্লেবয় ম্যাগাজিনে ‘সুইটহার্ট অব দ্য মান্থ’ হিসেবে বেরোয় ওই ছবি। তারপর বাকিটা ইতিহাস। ওই মাসে ৫৪ হাজার কপি বিক্রি হয় ম্যাগাজিনের। ছাপিয়ে যায় আগের সব রেকর্ড। ক্যালেন্ডার, ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য মাধ্যমে ছাপা হয় ওই ছবি। সবচেয়ে বড় কথা, যৌনতা এবং নগ্নতার প্রকাশ সম্পর্কে আমেরিকার ধারণা বদলে দেন মেরিলিন। সেই ছবিই এ বার প্রদর্শনীতে দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ।