১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাজে আসছে না ৫ কোটি টাকার সেতু

  • ভেঙ্গে গেছে সংযোগ সড়ক

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ তানোরে শিব নদের ওপর নির্মিত সেতুটি কাজে আসছে না। তানোর ও মোহনপুর উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সেতুটি দীর্ঘসূত্রতার পর শেষমেশ নির্মিত হলেও সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ না হতেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখন আর সেটি কোন কাজে আসছে না। অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জলে গেছে সরকারের কয়েক কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০৩ সালে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর মাঝখানে ২১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১০ বছর অপেক্ষা করার পর ২০১৩ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও ছিল না সড়ক। পরের বছর এক হাজার ৪০০ মিটার রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ কাজে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ছয় কোটি ৪০ লাখ টাকা। রাস্তাটি নির্মাণও শেষ হয়েছে। তবে উদ্বোধনের আগেই বানের পানিতে বিলীন হয়ে গেছে সেতুর সংযোগ সড়কটি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, দুই সপ্তাহ আগে ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে সেতু থেকে সড়কটি বিচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে তানোর ও মোহনপুর উপজেলার যাতায়াতকারী ৩০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

তানোর উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, ভারি বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও প্রবল স্রোতে সংযোগ সড়কটি সেতু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানি কমলে পুনরায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ওই সড়ক মেরামত করে দেবেন বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রামে ভাঙ্গন রোধে

ব্যবস্থা নেই

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে জানান, কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমোর, কালজানি, সংকোশ, গঙ্গাধর এবং ব্রহ্মপুত্রসহ নদ-নদীতে চলছে তীব্র ভাঙ্গন। ভাঙ্গন আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে পড়ছে নদীতীরবর্তী মানুষ। ভাঙ্গনের কারণে জমিজমা-ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মানুষ হচ্ছে নিঃস্ব। ভাঙ্গনকবলিত মানুষ সব হারিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে রাস্তার উপর। জুন মাসের প্রথম দফা বন্যার পর নদ-নদীর পানি কমে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র দ্বারা বিচ্ছিন্ন যাত্রাপুর ইউনিয়নের ভগবতীপুর, কালির আলগা, রাউলিয়া, পোড়ারচর, ঝুনকারচরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ সবচেয়ে বেশি ভাঙছে। এই মুহূর্তে ভাঙ্গনকবলিত মানুষের হাতে কাজ নেই। এমন অবস্থায় তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার টাকা পর্যন্ত নেই। গত দুই মাসে ওই সব এলাকায় প্রায় ২শ’ ঘরবাড়ি এবং শতাধিক একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন নদীতে তীব্র ভাঙ্গনে শত শত ঘরবাড়ি এবং ফসলী জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙ্গন রোধের জন্য নদীতীরবর্তী মানুষ প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছে না। যাত্রাপুর এলাকায় ভাঙ্গন ঠেকাতে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে দিয়েছে বাঁশের পাইলিং। তাতেও কাজ হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন নদী ভাঙ্গনের কথা স্বীকার করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।