২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাজ না করেই ॥ কোটি টাকা ভাগাভাগি

  • তিস্তা ব্যারাজের আরএসকিউ ও ইমার্জেন্সি ওয়ার্ক

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ কেপিআই-১ এর আওতায় তিস্তা ব্যারাজ ও তার কমান্ড এলাকা এবং নদীর তীর বাঁধ সংস্কার ও মেরামতের নামে গত অর্থ বছরের প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা হরিলুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরএসকিউ ও ইমার্জেন্সি ওয়ার্ক নামের বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে কাজ না করেই বিভিন্ন ঠিকাদারের নামে ভুয়া বিল ভাউচারে এসব টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। এ নিয়ে সরকারে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে এসব কাজের অনিয়ম দুর্নীতির বিস্তারিত খতিয়ান সংগ্রহ করছে। অপর দিকে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী ও প্রকৃত ঠিকাদাররা এ জন্য উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টিমের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিচার ও অপসারণ দাবি করেছে।

সূত্র মতে, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ও তার অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগ রয়েছে। একটি পওর ও অপরটি যান্ত্রিক বিভাগ। পওর বিভাগের কাজ হলো তিস্তা ব্যারাজের উজান ও ভাটির ডান /বাম তীর বাঁধ,স্পার্ক বাঁধ, বিভিন্ন ক্যানেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কার করা। আর যান্ত্রিক বিভাগের কাজ হলো তিস্তা ব্যারাজের জলকপাট সচল রাখা এবং সেচের জন্য জলাধারের পলি অপসারণ ও ব্যারাজের কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন যানবাহন মেরামতকরণ।

অভিযোগ মতে জানা যায়, ১৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিস্তা ব্যারাজটি দেশের কেপিআই-১ এর আওতায় সংরক্ষিত এলাকা। গত অর্থবছরের(২০১৪-২০১৫) জুন টু জুন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় তিস্তা নদীর ডানতীর বাঁধ, বামতীর বাঁধ, প্রধান ক্যানেল, স্টাফ কলোনি সংস্কার ও মেরামত, ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর বিভাগের পক্ষে ৬৪টি গ্রুপের কাজ কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর এ কাজে বিভিন্ন ঠিকাদারের নামে ওই সব কাজের বিপরীতে উত্তোলন করা হয় এক কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা। সর্বোচ্চ ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর সর্বনি¤œ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের বিল করা হয়। আরএসকিউ ও ইমার্জেন্সি ওয়ার্ক নামে এসব কাজ দেখানো হলেও তার কোনো অস্তিত্ব নেই।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও দুই এসও ৩০ জুনের আগে প্রভাবশালী কয়েকজন ঠিকাদারকে অফিসে ডেকে এনে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের লাইসেন্সে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখায়। এদের মধ্যে এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের ভাই, চাচাসহ চারজনের ও এক এসওর বিয়াই ও পওর বিভাগের সার্ভেয়ার আতাউর রহমানের স্ত্রী কহিনুর বেগমের লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের ঠিকাদারদের লাইসেন্স ভাড়া করে নিয়ে এসে ব্যবহার করা হয় এসব গ্রুপের কাজে। প্রকৃত মালিক না থাকায় সম্প্রতি ডালিয়া এ্যাকাউন্ট অফিস বিল আটকিয়ে দিলে ভাড়া করা লাইসেন্সের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ফয়সাল আহমেদের নামে এবং তার লাইসেন্সে আট লাখ ৫০ হাজার টাকার বিল দাখিল করা হয়। কিন্তু চেক দেয়ার সময় প্রকৃত মালিক না পাওয়ায় তা আটকে দেয় এ্যাকাউন্ট অফিস। পরে সেটি সংশোধন করে ওই কাজের বিল উত্তোলনে ঠিকাদার পরিবর্তন দেখানো হলেও ওই টাকা শেষ পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারেনি। স্থানীয় একাধিক ঠিকাদার জানান, ৬৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে নামে-বেনামে যে বিল উত্তোলন করা হয়েছে তার বেশিরভাগেরই অস্তিত্ব নেই। এছাড়া ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে সেসব প্রকল্প আবারও দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ডালিয়া পওর বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফজলুল হক অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে জানান, ঠিকাদারদের যেসব কাজের বিল দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অপর দিকে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরে এই সব কাজের বিল উত্তোলন করা হলেও তিনি জানান, আমার সময় এসব কাজ করা হয়নি তাই এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারবো না।