১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কে হচ্ছেন খাজার বিকল্প?

  • ভাঙছে হকির বর্তমান কমিটি, গঠিত হবে এ্যাডহক কমিটি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘যার জন্য করি চুরি, সেই বলে চোর।’ খাজা রহমতউল্লাহ্র অবস্থাটা এখন হয়েছে অনেকটা এই প্রবাদের মতোই। কেননা যাদের নিয়ে হকি ফেডারেশনে কার্যক্রম চালাতে এসেছিলেন, তারাই এখন তার বিরুদ্ধাচারণ করছেন! তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ ক্লাবগুলোকে লীগসহ বিভিন্ন হকি টুর্নামেন্টে ফিরিয়ে আনতে না পারা এবং দল বদল সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করতে না পারায় অনেকদিন ধরেই দারুণভাবে সমালোচিত হয়ে আসছিলেন হকি ফেডারেশনের এই সাধারণ সম্পাদক। নিজের এই ব্যর্থতার কারণেই ‘জিততে’ চলেছে বিদ্রোহী ক্লাব খ্যাত মোহামেডান, মেরিনার্স, ওয়ারী, ওয়ান্ডারার্স ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং। তাদের অনড় অবস্থানের কারণে নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে অচিরেই হতে যাচ্ছে হকির এ্যাডহক কমিটি। একটি সূত্র থেকে জানা গেছেÑ বর্তমান কমিটিতে যে যেই অবস্থানে আছে তারা সেই পদেই বহাল থাকবেন। বর্তমান দুজন সহ সভাপতি শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা কারণে কাজ করতে পারছেন না। এ জন্য সহ-সভাপতি পদে বিদ্রোহী ক্লাবের দু-একজন আসতে পারেন। তবে সাধারণ সম্পাদক কে হবেন? এটি এখনও ঠিক হয়নি। হকি ফেডারেশনের নির্বাচনের পরই বেঁকে বসে পাঁচ ক্লাব। এই কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে তারা হকি খেলা থেকে বিরত থাকে। খাজা রহমতউল্লাহ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো সফলভাবে শেষ করতে পারলেও ঘরোয়া লীগে ছিলেন ব্যর্থ। গত বছর ওই পাঁচ ক্লাবকে বাদ দিয়ে বাকি ৭ দলকে নিয়েই করেন প্রিমিয়ার লীগ। কিন্তু এবছর ঊষা ক্লাব সব দলকে নিয়েই প্রিমিয়ার লীগ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করলে এবং তাতে আবাহনী সায় দিলে শুরু হয় নতুন সঙ্কট। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গত ১৩ মে ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসে ফেডারেশন ও বিদ্রোহী ক্লাবের কর্মকর্তারা। কোন রকম সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, কায়সার সিনহা ও দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুলদের নিয়ে পরবর্তীতে সভায় বসার ঘোষণা দিয়ে শেষ হয় ওই বৈঠক। ৩ জুন মোহামেডান সাফ জানিয়ে দেয়, হকি না খেললে মোহামেডানের কিছু যায় আসে না। ২৪ জুলাই ঊষাকে মানাতে জরুরী সভার সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন। ২৮ জুলাই সেই সভায় হকির স্বার্থে নিজেদের লোকেরাই পদত্যাগ চান খাজার! ৬ আগস্ট হকির নতুন সভাপতি বিমান বাহিনী প্রধানের প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে খাজার হাতে তুলে দেন আরিফ খান জয়। সেই সময় হকি সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে আব্দুর রশীদ সিকদারকে দায়িত্ব দেয়া হয় বিদ্রোহী ক্লাবগুলোর মান ভাঙ্গাতে। গত পরশু স্থানীয় একটি হোটেলে আলোচনায় বসেন বিদ্রোহী ক্লাবের কর্মকর্তারা। আব্দুর রশীদ সিকদার কতটুকু সফল হলেন তা জানা যায়নি। তবে গুঞ্জন রটেছে, বেশিদিনের অপেক্ষা নয়।