২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘থুতনি কেটে রক্ত ঝরেছে, তবু জিতেছি’

  • কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা

রুমেল খান ॥ একদিনে জোড়া সাফল্য। রবিবার দিনটা যেন ‘বৃহস্পতি তুঙ্গে’র মতোই ছিল শিফার জন্য। ভাল নাম হুমায়রা আক্তার অন্তরা। সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমন্যাশিয়ামে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ালটন সিতোরিউ কারাতে-দো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ।’ তার আগের দিন দুটি ইভেন্টে স্বর্ণপদক লাভ করে বাংলাদেশ আনসার এ্যান্ড ভিডিপির প্রতিশ্রুতিশীল ষোড়শী সুদর্শনা কারাতেকা অন্তরা। ঢাকার পল্টন নিবাসী (গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের রাজবাড়ী) অন্তরা জেতে ব্যক্তিগত একক কুমির মাইনাস ৫০ কেজি এবং উন্মুক্ত কুমির প্লাস ৬০ কেজি ওজন শ্রেণীতে।

এত খেলা থাকতে কারাতেকা খেলায় কেন? মিষ্টি হেসে অন্তরার জবাব, ‘আমার মা জাহানারা বেগম একসময় কারাতেকা অনুশীলন করতেন। তার অনুপ্রেরণা তো আছেই। তাছাড়া যখন বুঝতে শিখেছিÑ এই খেলাটি আত্মরক্ষামূলক, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, শরীরের সঙ্গে বুদ্ধিও খাটাতে হয়; তখন এই খেলাটি সম্পর্কে আগ্রহী হই। ২০১৩ সাল থেকে খেলাটি পুরোদমে খেলতে শুরু করি।’ কারাতেতে আসার পর যে দুজন কারাতে কোচের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাদের নামও উল্লেখ করতে ভোলেনি অন্তরা, ‘তারা যমজ দুই ভাই সেনসি হাসান খান সান এবং সেনসি হোসেন খান সান।’

দুই বছরে বিভিন্ন কারাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এ পর্যন্ত অন্তরা জিতেছে ১২ স্বর্ণ, ৫ রৌপ্য এবং ২ তাম্রপদক। অন্তরারা চার বোন। অন্তরাই সবার বড়। তার ছোট দুই বোনও কারাতেকা। একজন জান্নাতুল ফেরদৌস সুমী, অন্যজন সানজিদা সিদ্দিকা শোভা। ‘আমার দুই বোনই এবারের ওয়ালটন কারাতে আসরে পদক জিতেছে। সুমী পেয়েছে দুটি সিলভার আর শোভা পেয়েছে একটি ব্রোঞ্জ মেডেল।’ অন্তরার গর্বিত অভিব্যক্তি।

পল্টনে নিজের এলাকাতেই একবার একদল ইভটিজার জালাতন করছিল অন্তরাকে, ‘আমি তখন ওদের হুমকি দিলাম এ রকম করলে পরিণতি ভাল হবে না। আমার আত্মবিশ্বাস দেখে ওরা ভয় পেয়ে যায় এবং চলে যায়।’ উইলস লিটিল ফ্লাওয়ার স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়া কারাতেকা অন্তরার স্মৃতিচারণ।

কারাতে নিয়ে ভবিষ্যত লক্ষ্য? ‘আমি এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিক গেমসে অংশ নেয়ার স্বপ্ন দেখি।’ অন্তরার আদর্শ কারাতেকা কাজাখস্তানের রাফায়েল আজায়েব। কারাতে নিয়ে স্মরণীয় ম্যাচ? ‘এ বছরই একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। তখন আমার স্কুলের পরীক্ষা চলছিল। ফলে কোন রকম অনুশীলন ছাড়াই খেলতে নামি। তারপরও রৌপ্যপদক জিতেছিলাম! আসলে সাফল্য অর্জনের জন্য অনুশীলনের কোন বিকল্প নেই। আরেক স্মরণীয় ম্যাচ হচ্ছে এ বছরই একটি আন্তর্জাতিক কনফেডারেশন কারাতে প্রতিযোগিতায় খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কারাতেকা আঘাতে আমার থুতনি কেটে গিয়ে প্রবল রক্তপাত শুরু হই। তারপরও আমি খেলা চালিয়ে যাই এবং জিতি।’ অন্তরার ভাষ্য।

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি মাসুম পারভেজ রুবেল রূপালি পর্দার একজন মারদাঙ্গা ও ডাকসাইটে চিত্রনায়কও। রুবেল সম্পর্কে অন্তরা বলে, ‘আমি তার অনেক ভক্ত। মাঝে মাঝে তার কাছ থেকে অনেক টিপসও পাই। যা অনেক কাজে লাগে।’ যতদিন ফর্ম-ফিটনেস থাকবে, ততদিনই খেলাটা চালিয়ে যেতে চায় অন্তরা। তবে স্কুলের পরীক্ষার কারণে তার খেলাটা প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয়। ‘এ পর্যন্ত ৩-৪ বার খেলার কারণে স্কুলের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি।’ আক্ষেপ অন্তরার।