২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা॥ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ আনন্দ বাজার গ্রামের ৬ জন নিরীহ গ্রামবাসির বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করে তাদের বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে ভাংচুর লুটপাট করা হয়। এমনকি আবাদি জমি পর্যন্ত জবর দখল করে নেয়া হয়া হয়েছে। এই সন্ত্রাসী তৎপরতায় বসতবাড়ি ছেড়ে ওই গ্রামবাসিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং মানবেতর জীবন যাপন করছে।

গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এর প্রতিকার এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে এই সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আনারুল হক, মনোয়ারা বেগম, মোস্তাফিজার রহমান, লাহু মিয়া, মজিভান বেগম, মশিউর রহমান, হাবিল মিয়া প্রমুখ। উল্লেখ্য, ওই এলাকার হাজী লুৎফর রহমানের পুত্র সন্ত্রাসী ক্যাডার সাইফুল ইসলামকে গত ৭ জুলাই রাতে কেবা কাহারা খুন করে। এই খুনের ঘটনায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশী অসহায় দরিদ্র কৃষক রহমত আলী, নুহু মিয়া, রুহুল আমিন, আতারুল ইসলাম, রুস্তুম আলী, রওশন আলীকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রমিছা বেগম তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই খুনের ঘটনার সাথে সাথেই হাজী লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে তার ৮ ছেলে ও সহযোগী সন্ত্রাসীদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম, মফিজুল হক, আশিদুল ইসলাম, তোতা মিয়া, টুলু মিয়া, এন্তাজুল হক, নজরুল ইসলাম, হারুন মিয়া, মোজাফ্ফর হোসেন, মঞ্জু মিয়া, মিঠু মিয়া, আইয়ুব আলী, জামিল মিয়া, সাইদার রহমান, আফছার উদ্দিন, সুমন মিয়া, মাইদুল ইসলাম, সহরা বেগম, হালিমা বেগম, আনোয়ারা বেগম, লিলি বেগম, রাশেদা, রনজিনা, অমিছা, আলেয়া, ছাদেকা, মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ লাঠিসোটা নিয়ে ১০ জুলাই উক্ত কথিত খুনের আসামিদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ধান-চাউল, আসবাবপত্রসহ সকল মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় ওই সন্ত্রাসীরা মোস্তাফিজার রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, কাশেদ আলীর স্ত্রী রমিছা বেগম এবং রওশন আলীর স্ত্রী মজিভান বেগমকে লাঞ্ছিত করে এবং তাদের শ্লীলতাহানীরও চেষ্টা চালায়। এব্যাপারে ইতোমধ্যে তারা বাদি হয়ে সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে উক্ত ২৭ সন্ত্রাসীকে আসামি করে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়ের হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। ফলে খুনের মিথ্যা মামলায় কথিত আসামিরা সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকি এবং পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে বাড়ি থেকে ঘটনার দিন থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে।