২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এইচএসসি পরীক্ষার ফল

আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আশানুরূপ হয়নি। গতবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ও উত্তীর্ণের সংখ্যা কম। কয়েকটি বোর্ডে যে ফল হয়েছে, তাকে ফল বিপর্যয়ও বলা যেতে পারে। যশোর বোর্ডে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, এক দশকে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলে এবারই প্রথম ছন্দপতন ঘটল। উচ্চ মাধ্যমিকে এবার পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে কমে যাওয়ার জন্য বছরের শুরুতে বিএনপি ও জামায়াতের টানা হরতাল-অবরোধকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষামন্ত্রীও একই ধরনের মত দিয়েছেন। এই বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও দেশবাসী অবগত। এবারের এসএসসিসহ স্কুল-কলেজের অন্যান্য পরীক্ষাও এই হরতাল-অবরোধ কর্মসূচীর কারণে ব্যাহত হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের সামগ্রিক শিক্ষাজীবন। এ নিয়ে শুভ বুদ্ধিসম্পন্নদের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ-আবেদন জানানো হলেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি, যা দুঃখজনক।

এবার ফল বিপর্যয়ের কারণ শুধুই রাজনৈতিক অস্থিরতা, এমনটি নয়। আরও কিছু কারণ নিশ্চয়ই রয়েছে। ফল বিপর্যয়ের কারণ বিশ্লেষণ করছেন শিক্ষক-অভিভাবকগণ। যেসব কারণ সামনে চলে আসছে তার ভেতর রয়েছেÑ প্রশ্নের ধরন পরিবর্তন, প্রশ্ন ফাঁসের গুজব, প্রথম চালু হওয়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে বেশি অকৃতকার্যতা। লক্ষণীয়, কেবল ইংরেজী ভাষা নয়, মাতৃভাষা বাংলাতেও তুলনামূলক খারাপ করেছে শিক্ষার্থীরা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি ১০০ নম্বরের বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে চালু হলেও বহু শিক্ষালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ নেই। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এ বিষয়ে শিক্ষকের অভাব প্রকট। এ ছাড়া ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় প্রতিটি বিভাগেই ইংরেজীতে পাসের হার উল্লেখযোগ্য শতাংশ হারে কমেছে। উচ্চ শিক্ষাই শুধু নয়, আধুনিক যে কোন শিক্ষার প্রধান বাহন এখন পর্যন্ত ইংরেজী ভাষা। বিপুলসংখ্যক নাগরিক কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গমন করে থাকেন। সর্বক্ষেত্রেই ইংরেজী অপরিহার্য বিষয়। তাই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজীর ফল মন্দ হওয়ার ব্যাপারটি শঙ্কাজনক।

শিক্ষার মান বাড়ানোর কথা আমরা বার বার বলে থাকি। সে লক্ষ্যে প্রয়োজন মানসম্মত শ্রেণীকক্ষ, যা নির্ভর করে মানসম্পন্ন শিক্ষকের ওপর। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করা দরকার। ভুলে গেলে চলবে না, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। দেশের সেই ভবিষ্যত নাগরিককে গড়ে তোলার দায়িত্ব যাঁদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে তাঁদের মান হতে হবে প্রশ্নাতীত। পরীক্ষার ফলের সঙ্গে শিক্ষার মানের বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষার মানের উন্নতি হলে পরীক্ষার ফলেরও উন্নতি হবে, এটা সাধারণ হিসাব। কিন্তু রাতারাতি শিক্ষার মান বাড়ানো অসম্ভব। এর জন্য সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যাবশ্যক। সেই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যত নাগরিকের স্বার্থে শিক্ষাক্ষেত্রকে রাজনৈতিক কর্মসূচীর বাইরে রাখতে হবে সব সময়ই। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে এমন রাজনীতি অবশ্যই পরিত্যাজ্য।