২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাঘ্র নিধন পর্ব

খেলার মাঠে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ বলে যতই হল্লা করা হোক, খেলোয়াড়দের ‘টাইগার’ বলে যতই করা হোক অভিহিত; এদিকে আসল ‘টাইগার’ সে উজাড় হওয়ার পথে। ডোডো পাখির মতো বিলীন হওয়ার তালিকায় উঠে এসেছে বাংলার বাঘ তথা সুন্দরবনের বাঘ। বাঘেরা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। বাঘের মন্ত্রী অবশ্য বীরবলীয় কায়দায়, তাদের ভিনদেশে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলেছেন। যখন বাঘের মোটসংখ্যার চেয়ে বর্তমান সংখ্যা অনেক কম তখন প্রশ্ন ওঠে- বাঘেরা গেল কোথায়? এতদিন তো পরিবেশবাদীরা বলে আসছিলেন যে, খ্যাদ্যাভাবে ও বৃক্ষনিধনের কারণে বাঘের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। প্রাণী নিধনে যে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠেছে, সে বিষয়টি যেন আড়ালে রয়ে গেছে। নিধনের তালিকায় অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে বাঘও রয়েছে। বাঘের চামড়া নখ, দাঁত ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যারা পাচার করে তারা বনের শত্রু। প্রাণিকুলের শত্রুরা আবার নিখুঁত শিকারি। তবে শিকারের কাজটা সারে চোরাইপথে। বন বিভাগের চোখে ধুলা দিয়ে কিংবা কারও কারও যোগসাজশে তারা ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে ব্যাঘ্রশূন্য করতে চাচ্ছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য বন্যপ্রাণীও দেদার শিকার হয়ে আসছে। বাঘশূন্য মানে বনের গর্ব ও গৌরব শুধু নয়, বাংলাদেশের পরিচিতিতে পড়বে টান। সুন্দরবনে বাঘের চামড়া ও হাড় পাচারকারী চক্র বেশ প্রভাবশালী। স্থানীয় প্রশাসন বা বন বিভাগও তাদের প্রতি কঠোর, তা নয়। তাই তারা দীর্ঘদিন ধরে চামড়া ও হাড় পাচার করে আসছে। বাঘের চামড়া ও হাড় পাচারের সঙ্গে খুলনাসহ রাজধানী ঢাকায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত। এ সিন্ডিকেট চীনসহ বিভিন্ন দেশে বাঘের চামড়া ও হাড় পাচার করে আসছে। সুন্দরবনের বাঘ কমার পেছনে এরাও অনেকখানি দায়ী। এরা অন্যান্য পশু-প্রাণীও শিকারসহ পাচার করে আসছে নির্বিঘেœ। তাদের কার্যক্রম কেউ টের পায়নি এতকাল, এটা অবিশ্বাস্য। আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দাম পাওয়ার জন্য চোরাকারবারিদের ক্রমাগত লোভের শিকার হচ্ছে সুন্দরবনের বাঘ। কিন্তু এদের অর্থ বেশ কথা বলে, বশ মানায় বলে এরা ধরা পড়ে না দশকের পর দশক। আর পশু-প্রাণী হত্যাকারীরা নিজেদের শিকারি পরিচয় দেয়।

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে মাত্র ১০৬টি বাঘ রয়েছে বলে সাম্প্রতিক বাঘ শুমারির জরিপে উঠে এসেছে। কেন কমে যাচ্ছে বাঘ? নানা মুণি নানা মত দিচ্ছেন। কিন্তু ব্যাঘ্রশূন্য সুন্দরবন সৃষ্টির ব্রতধারীরা বাঘ মেরে সেই বাঘ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্য করে আসছে। গ্রামের শিকারিরা শিকার করে পাচার করে সিন্ডিকেটের কাছে, তা চলে যায় বিদেশে। এত প্রক্রিয়ায় কতশতজন জড়িত, তা জানা না গেলেও একটা সংঘবদ্ধ গ্রুপের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাণিজ্য হচ্ছে ব্যাঘ্র। মাত্র কয়েকদিন আগে খুলনায় বাঘের ৬৯টিরও বেশি হাড়সহ অসংখ্য দাঁত ও নখ আটক করার পর সাতক্ষীরা অঞ্চল হতেও অনুরূপ দ্রব্যাদি পাওয়া যায়। এছাড়া বাঘের তিনটি চামড়াসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুন্দরবনের গভীরে রয়েছে এই ব্যাঘ্র নিধনকারীদের আস্তানা। বাঘের চামড়া উদ্ধার অভিযানকালে পুলিশ ও চোরাশিকারিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ৬ জন নিহত হয়েছে। ওই পাচারকারীরা শুধু দেশ ও জাতির নয়, পশু-প্রাণীর শত্রু। এরা দেশের মূল্যবান সম্পদকে ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ থেমে থাকলে চলবে না।