১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রাহকের ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও

  • জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এ্যান্ড কমার্স

শংকর লাল দাশ, গলাচিপা ॥ পটুয়াখালীর গলাচিপায় ‘জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এ্যান্ড কমার্স লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠান কয়েক হাজার গ্রাহকের অন্তত ১০ কোটি টাকা নিয়ে হাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থাকলেও সেটিতে ৬ মাস ধরে তালা ঝুলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ অফিসের ধারে কাছে ঘেষছে না। এদিকে জমা টাকা ফেরত পেতে গ্রাহকদের অনেকে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্ত হলেও মিলছে না প্রতিকার।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ২০১০ সালে উপজেলা শহরের কর্মকার পট্টির একটি ভবনের তিনতলায় জাঁকজমকভাবে সাজিয়ে প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়। ‘ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত’ সেøাগান দিয়ে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়। মুদারাবা লাখপতি ডিপোজিট স্কিম, হাউজ বিল্ডিং ডিপোজিট স্কিম, জয়েন্ট ডিপোজিট পেনশন স্কিম, মুদারাবা হজ ডিপোজিট স্কিম, মুদারাবা সাধারণ সঞ্চয়ীসহ প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন নামের প্রকল্প রয়েছে। যার সবগুলোই লাভজনক বলে ব্যাপক প্রচারণা চালান হয়। উপজেলার মুরাদনগর গ্রামের মোঃ আলমগীর হোসেন নিজেকে মালিক, হিসাবরক্ষক হিসেবে পানপট্টি গ্রামের আঃ ছত্তার মাঝির ছেলে শাহআলম, পানখালী গ্রামের আবু বক্কর হাওলাদারের ছেলে, উলানিয়া কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মাওলানা মোঃ শাহিন হিসাবরক্ষক ও রতনদী গ্রামের হাছন আলী মুন্সীর ছেলে আলমগীর হোসেন ডিজিএম হিসাবে পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন। একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থানীয় এবং আরেকদিকে মোটা মুনাফা। যে কারণে সাধারণ মানুষ সহজেই আকৃষ্ট হয় এবং সরল বিশ্বাসে টাকা জমা রাখে। গলাচিপা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাসিরউদ্দিন প্রতি এক লাখ টাকায় মাসিক ২ হাজার টাকা মুনাফা এবং ১০ বছর পরে আসল টাকা ফেরত, এ চুক্তিতে সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। আবদুল হাকিম খান একই চুক্তিতে এককালীন জমা দিয়েছেন এক লাখ এবং প্রতি মাসে ডিপিএস প্রকল্পে তিন বছর এক হাজার টাকা করে জমা দিয়েছেন। পৌর শহরের বনানী এলাকার নাসিরউদ্দিন খান এক লাখ, আবদুর রাজ্জাক খান এক লাখ, কামাল ৩৪ হাজার টাকা, গৃহবধূ নূপুর আখতার ২৩ হাজার টাকা ও মাহফুজা বেগম ২৭ হাজার টাকা জমা রেখেছেন। এসব গ্রাহক অভিযোগ করেন, তাদের মতো আরও কয়েক হাজার গ্রাহক গত ৬ বছরে জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এ্যান্ড কমার্স লিমিটেডে অন্তত ১০ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু জমা দেয়ার পরে মাস শেষে মুনাফা চাইতে গেলে কর্মকর্তারা টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় শহরের সামুদাবাদ সড়কের একটি ভবনের দোতলায় স্থানান্তর করা হয়। গত ৬ মাস ধরে সেটিতেও তালা ঝুলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গা ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি কারও মোবাইল ফোন খোলা পাওয়া যায়নি। অনেক চেষ্টার পরে যোগাযোগ করা হলে উলানিয়া কলেজের প্রভাষক মাওলানা মোঃ শাহিন মোবাইল ফোনে জানান, পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়া হবে মর্মে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ফয়সালা করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান লিকন বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, এটি কোন সাধারণ ঘটনা নয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। এদিকে জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এ্যান্ড কমার্স লিমিটেডের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০০০১ ববি লেখা রয়েছে। তবে তা সরকারের কোন দফতর থেকে নেয়া হয়েছে, তা উল্লেখ নেই। প্রধান কার্যালয় হিসাবে ঢাকা ও বরিশালের দুটি ঠিকানা লেখা রয়েছে। কয়েক প্রতারিত গ্রাহক ঢাকার ১/এ, ফকিরাপুলের ৬ষ্ঠ তলায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানের কোন হদিস পাননি। বরিশালের সান প্লাজা, তৃতীয় তলা, ৪/৯ ব্লক-এ, রূপাতলী হাউজিংয়ে কোন দফতর নেই।