২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এ যেন মৃত্যুফাঁদ

  • সাইনবোর্ড- মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা মহাসড়ক

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ “ওরে বাবারে, ওই পথে যাব মরতি... একবার গেলে প্রাণে ফিরে আসলেও, ওষুধ খেয়ে শুয়ে থাকতে হবে এক সপ্তাহ...। মোরেলগঞ্জের রামচন্দ্রপুরের কর্মজীবী গৃহবধূ কহিনুর বেগম এভাবেই মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা সড়কের যাবার কথা উঠতে আঁতকে ওঠেন। অথবা চলন্ত বাস হঠাৎ থামিয়ে হেলপার জোরে জোরে ডাকছে ‘নাইম্যা আসেন ভাই, গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটলে আমাগো কোন দোষ নাই।’ ততক্ষণাৎ সবাই হুড়মুড় করে নেমে পড়লেন। নেমেই কাদা-পানিতে একাকার। গর্ত আর খানাÑখন্দে ভর্তি। যাত্রীরা খিস্তিখেউর করতে করতে বলেন, এমন মরনের পথ বুঝি আর নাই।

বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-বগি ভায়া মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের নাজুক অবস্থার বর্ণনা যেন কোন ভাষাতেই বলে শেষ করা যায় না। কলেজ শিক্ষক মনিমোহন পাল বা জাকির হোসেন রিয়াজের ভাষায়, কতদিন আর এমন থাকবে, আপনারা (সাংবাদিক) একটু লিখতে পারেন না? যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সাইনবোর্ড থেকে মোরেলগঞ্জ ফেরিঘাট পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার পথ চলতেই তাদের বাস থেকে নামতে হয় কয়েকবার। এমন বেহাল সড়ক পাড়ি দিয়ে বাগেরহাট থেকে মোরেলগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার পথ পার হতে সময় লাগবে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা।

মোরেলগঞ্জ-বাগেরহাট রুটের লাইনম্যান শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, সড়ক না বলে কাদামাটির গর্ত বলা ভাল। বাগেরহাট আন্তঃজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার এ বাকি বলেন, মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বাগেরহাট থেকে মোরেলগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস চলছে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, মোটর শ্রমিক ও চালকরা এখন এ সড়কে বাস চালাতে চাচ্ছে না। এ সড়কটি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার কথা জানান তিনি।

সওজ সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন পায় সাইনবোর্ড- মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা-বগি আঞ্চলিক মহাসড়কের পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। ৫৩ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণে প্রথমে ব্যয় ধরা হয় ৯৭ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে সড়কে মাটির (চওড়া ও উঁচু করা) কাজ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে সড়কের কাজ শুরু হয়।

এরপর কয়েক দফা প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে এর বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১২৩ কোটি টাকা। দু’টি ব্লকে ভাগ করে সাইনবোর্ড থেকে নব্বই রশি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত কাজ পায় এমএম বিইএল জেভি নামে একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নব্বই রশি থেকে বগি পর্যন্ত কাজ পায় এসটি-এমই জেভি নামে একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বাগেরহাট সওজের তথ্য অনুযায়ী এসটি-এমই জেভি ধারাবাহিকভাবে কাজ অব্যাহত রাখে এবং সড়কের শেষ প্রান্তের ১৯ কিলোমিটার কাজ তারা শেষ করেছে। এখন তাদের বাকি ১৪ কিলোমিটার অংশের কাজ চলছে। কিন্তু সড়কের প্রথমাংশের সাইনবোর্ড থেকে ১৯ কিলোমিটার কাজের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদার কাজ তুলতে ব্যর্থ হয়। এজন্য ওই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিলসহ পুনর্দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় সড়কের এই অংশে দুর্ভোগ বেড়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসটি-এমই জেভি কার্যাদেশ পেয়েছিল ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল। ওই বছরের ২০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলে ২০১৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের কার্যাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এ সময়ের মধ্যে কাজ তুলতে পারেনি।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, একটি জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আগের ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নির্বাচনে কিছুটা বেশি সময় লেগে গেছে। আমরা বিধি অনুযায়ী ওই ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের প্রায় দেড় কোটি টাকা কেটে রেখেছি। যদিও ঠিকাদার আদালতের আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু আদালতের আদেশ সরকারের পক্ষে এসেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সড়কটির এ অংশের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষের আশাবাদ জানিয়ে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কালাম মজুমদার জানান, তারা কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যে তাদের মালামাল ও যন্ত্রপাতি পৌঁছে যাবে। আগামী সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু হবে।

নির্বাচিত সংবাদ