২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বনদস্যুরা পেশা বদলে নেমেছে বাঘ ও হরিণ শিকারে

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ সুন্দরবনের বনদস্যু ও জলদস্যুরা তাদের ‘পেশা’ পরিবর্তন করে বর্তমানে বাঘ ও হরিণ শিকারে নেমেছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাহিনীপ্রধানসহ বনদস্যুরা নিহত হওয়ার পর অনেক বাহিনী তছনছ হয়ে গেছে। অবশিষ্টরা এখন জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের পুরনো কৌশল (পেশা) বদল করে বনজীবীদের দলে রিক্রুট করে সুন্দরবনে তাদের এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। খুলনার উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) এসএম মনির-উজ-জামান মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোঃ একরামুল হাবি, খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) জহির উদ্দিন আহমেদ, পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

খুলনার ডিআইজি আরও বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের গৌরবই নয়, এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এই সুন্দরবনকে যে কোন মূল্যে রক্ষা করতে হবে। সুন্দরবনের বাঘ, হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে হবে। এ জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সুন্দরবনে অভিযান চালানোর জন্য পুলিশের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। বর্তমানে কোস্টগার্ডের সহায়তা নিয়ে অভিযান চালাতে হচ্ছে। তিনি পুলিশের বিভন্ন সরঞ্জাম বৃদ্ধির দাবি জানান।

রবিবার বন্দুকযুদ্ধে ৬ জন নিহত হওয়া প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, এক সপ্তাহ যাবত সুন্দরবনের অভ্যন্তরে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। একপর্যায়ে একজনকে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরামুখা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে তাকে নিয়ে সুন্দরবনের গহীনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৬ বাঘ শিকারি মারা যায়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, সুন্দরবনের পাশেই খুলনা জেলা অবস্থিত। এখানে বন আদালত না থাকায় প্রচলিত আদালতে সুন্দরবনের বিভিন্ন অপরাধীদের বিচার করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। তিনি খুলনায় একটি বন আদালত প্রতিষ্ঠান দাবি জানান। সুন্দরবন ও বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স কাজ করছে। সুন্দরবনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে টাস্কফোর্স আরও জোরদার অভিযান পরিচালনা করবে বলে তিনি জানান।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের ডিএফও মোঃ জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবনে কাঁকড়া, মধু আহরণ করতে বন সংশিষ্ট এলাকার লোকজন পাস নেয়। পরে বনের মধ্যে প্রবেশ করে লোভের বশবর্তী হয়ে তারা বাঘ, হরিণ নিধনে মেতে ওঠে। বনবিভাগের হাতে প্রায় প্রতিদিনই হরিণের মাংস, চামড়া, কর্তননিষিদ্ধ সুন্দরীসহ অন্যান্য সম্পদ উদ্ধার হচ্ছে। তিনি জানান, বন্দুকযুদ্ধে যে ছয় বাঘশিকারি নিহত হয়েছে তার মধ্যে আনসার আলী সানা ও সিদ্দিক সানার কাঁকড়া আহরণের পাস-পারমিট রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএফও বলেন, সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের (ক্যামেরা ফাঁদ) মাধ্যমে গণনা অনুযায়ী সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘ রয়েছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের আগে ২০০৪ সালে বাঘের পায়ের ছাপ গণনা করে যে শুমারি করা হয়, সেই শুমারির ফল অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। তিনি বলেন, সনাতন পদ্ধতির ওই শুমারি সঠিক ছিল না। তিনি জানান, সুন্দরবনের ভারতের অংশে সনাতন পদ্ধতির শুমারি অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ছিল ২৫০টি।

কিন্তু ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে সেখানে বাঘের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪টি।