১১ আগস্ট ২০১৫

অবকাঠামো সমস্যায় ধুঁকছে যশোর বিসিক

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোর বিসিক শিল্পনগরী নানা সমস্যায় জর্জরিত। তারপরও গত অর্থবছরে ৫৫০ কোটি টাকার বেশি পণ্য উৎপাদন করেছে। কিন্তু যশোর বিসিক শিল্পনগরীর উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই। এই অভিযোগ বিসিক শিল্পনগরীর শিল্প মালিকদের। নিরাপত্তার অভাব ও অবকাঠামো সমস্যা প্রকট হলেও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়া প্লট খালি না থাকায় নতুন উদ্যোক্তারা এখানে শিল্প স্থাপন করতে পারছেন না। দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগটিও দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে। এসব কারণে হতাশ হয়ে পড়ছেন স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা।

যশোর বিসিক কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যশোর বিসিক শিল্পনগরীতে ৫৫৮ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রি হয়েছে ৩শ’২৫ কোটি টাকার। এছাড়া রফতানি করা হয়েছে ২শ’৩৩ কোটি টাকার পণ্য। যশোর শহরের পাশেই যশোর-নড়াইল সড়কের ঝুমঝুমপুরে ৫০ একর জমির ওপর ১৯৬২ সালে গড়ে ওঠে এ শিল্পনগরী। বিসিক কর্মকর্তারা জানান, শিল্পনগরীটিতে মোট ১২৩টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১১৫টি ইউনিটেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু। এসব শিল্প-কারখানায় ছয় হাজারেরও বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

বিসিকের শিল্প মালিকরা জানান, যশোর বিসিক শিল্পনগরী থেকে সরকার লাভবান হলেও এর উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের কোন দৃষ্টি নেই। এখানে কোন পুলিশ ক্যাম্প নেই। সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়। প্রায়ই চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এ শিল্পনগরীতে তিন কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও ছয় কিলোমিটার নর্দমা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ১৯৬২ সালে যশোর বিসিক শিল্পনগরীর ২৫টি ইউনিটের জন্য পানির পাম্প স্থাপন করা হয়। ইউনিট সংখ্যা ১২৩-এ পৌঁছলেও পুরনো পাম্প দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পানি সরবরাহ ঠিকমতো হয় না।

এ বিষয়ে শিল্পোদ্যোক্তা ও যশোর চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমায়ূন কবীর কবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যশোর বিসিক নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখানে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে পানি, বিদ্যুত ও রাস্তার সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধান হলে এখানে আরও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠত। যশোর বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা আলী বলেন, কোন ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগলে তা নেভানোর জন্য এখানে পানি নেই। ১৯৬২ সালে স্থাপন করা পানি সরবরাহ লাইন অকেজো হয়ে আছে। এখানে ছয় হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন। রাত ১০টার দিকে যেসব নারী শ্রমিক বাড়ি ফেরেন ও কাজে যোগদান করতে আসেন, তাদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে।

মোস্তফা আলী আরও বলেন, ১৯৬২ সালে বিসিকের ভেতর পাঁচ টন সহ্যক্ষমতার রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। এর পর আর রাস্তা সংস্কার করা হয়নি। এসব ব্যাপারে বার বার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোন কাজ হয়নি।

যশোর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা লুৎফর রহমান এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। দেশের অধিকাংশ বিসিক শিল্পনগরীতে উদ্যোক্তার অভাবে অনেক প্লট খালি পড়ে আছে। অথচ অনেক নতুন উদ্যোক্তা যশোর বিসিকে শিল্প স্থাপনের আবেদন করলেও আমরা তাদের জায়গা দিতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, যশোরে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এজন্য যশোর সদর উপজেলার দাইতলা পুলিশ ফাঁড়ির কাছে ৪০ একর জায়গাও বেছে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় এ বিসিক শিল্পনগরীতে যশোরের সম্ভাবনাময় অটোমোবাইল শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অথচ তিন বছর পার হয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ ওই আবেদনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, যশোর বিসিক একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানে বিভিন্ন ধরনের শিল্পপণ্য উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না। সহজ শর্তে আর্থিক সহযোগিতা পেলে বিসিকে আরও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠত। একই সঙ্গে পণ্য উৎপাদনও বেড়ে যেত কয়েক গুণ। এ ব্যাপারে যশোর বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক জামাল উদ্দিন বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিসিকের সব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হবে।