২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদায় বেলায় সন্তুষ্ট সাঙ্গাকারা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বয়স ৩৭, রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গে। চাইলে আরও দু-এক বছর অনায়াসে চালিয়ে যেতে পারতেন। ভারি হতো ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান। বোর্ডের কাছ থেকে অনুরোধও এসেছিল। কিন্তু ক্রিকেটে ভদ্রলোকের প্রতিমূর্তি কুমার সাঙ্গাকারা খুশি। যা পেয়েছেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট তিনি। ড্রেসিং রুমে সতীর্থদের কাছ থেকে এমন ভালবাসা, সম্মান সঙ্গী করে বিদায় নিতে পেরে আপ্লুত লঙ্কান ক্রিকেটের চলমান কিংবদন্তি। গলে আজ থেকে শুরু হওয়া ভারত সিরিজই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ। কলম্বোর পি সারা ওভালে খেলবেন শেষ ম্যাচ। সিরিজে আর সব কিছু ছাপিয়ে সাঙ্গার বিদায়ে বুঁদ লঙ্কাবাসী, গোটা ক্রিকেট বিশ্বও।

মঙ্গলবার গলে প্রস্তুতি শেষে অনেকটা মজার ছলে সাঙ্গাকারা বলেন, ‘তাকিয়ে দেখুন দলে একমাত্র রঙ্গনা হেরাথের বয়স ৩৭, বাকিরা সবাই ২৬-এর ঘড়ে। ড্রেসিং রুমে ওদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে ডাইনোসর বলে হয়! বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’ ১৩২ টেস্টে মোট রান ১২,৩০৫, সেঞ্চুরি ৩৮। ৪০৪ ওয়ানডেতে রান ১৪,২৩৪ সেঞ্চুরি ২৫। অর্থাৎ দুই ভার্সনে সেঞ্চুরি সংখ্যা ৬৩। সাঙ্গাকারা কেন গ্রেট? সেটি বোধ হয় ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় পঞ্চম স্থানে সাঙ্গাকারা। ১৫,৯২১ রান ও ৫১ সেঞ্চুরি নিয়ে যে তালিকায় সবার ওপরে শচীন টেন্ডুলকর। ভারতীয় গ্রেটকে হয়ত ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে ১১ ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এ তালিকায় স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ঠিক পেছনে। বিশ্বকাপে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চার ম্যাচে হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরি। দুই টেস্টের চার ইনিংসে ব্র্যাডম্যানকে ছোঁয়া বা ছাড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। ‘চাইলে অনায়াশে দুই বছর চালিয়ে যেতে পারতাম। তাতে কম করে ১০০০ রান যোগ হতো। অবশ্যই ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক বনে যেতে পারতাম। গড়তে পারতাম সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরিসহ আরও দারুণ কিছু রেকর্ড, হয়ে যেত ৪০টির বেশি টেস্ট সেঞ্চুরিও। এসব ভাবলে আপনার ভেতরে এক ধরনের লোভ কাজ করবে। কিন্তু ক্রিকেট এমন এক খেলা যেখানে ব্যক্তিগত লোভের স্থান নেই। সবার আগে দেশ। দেশের প্রয়োজনে নিজেকে উজার করে দিয়েছি, যা পেয়েছি তা নিয়ে সন্তুষ্ট আমি। এখন সময় তরুণদের সুযোগ করে দেয়ার।’ যোগ করেন সাঙ্গাকারা। কখন ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? এমন প্রশ্নে লঙ্কান লিজেন্ডের উত্তরÑ ‘বিশ্বকাপ খেলে মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গেই ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচকরা অনুরোধ জানালেন, আরও কিছুদিন যেন টেস্ট খেলি। এরপর দেশে ফিরে আবার তাদের সঙ্গে বসি। আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসি পাকিস্তান ও ভারত সিরিজই হবে আমার শেষ। তারা সায় দেন। আমি মনে করি এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ ভবিষ্যতের জন্য ভাল একটা দল তৈরি করতে এখনই তরুণদের সুযোগ দিতে হবে। মাহেলার পর আমিও চলে যাচ্ছি, জানি এটা শ্রীলঙ্কার জন্য কতটা কঠিন। তবে আমার বিশ্বাস এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, দীনেশ চান্দিমাল, লাহিরু থিরিমান্নেদের নিয়ে দল ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে।’

সাঙ্গাকারার বিদায়ী সিরিজের সাক্ষী হতে পেরে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বিরাট কোহলিও গর্বিত। তিনি বলেন, ‘সাঙ্গাকারা কেবল অসাধারণ ক্রিকেটারই নয়, একজন অসাধারণ মানুষও। দারুণ একটা বিদায়ী সংবর্ধনা তার পাওনা উচিত। ওর মতো কিংবদন্তির বিদায়ী ম্যাচে সাক্ষী হতে পারাটা হবে আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তবে মাঠে তাকে দ্রুত আউট করার আশা রাখি!’ তবে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সমালোচনা করেছেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। লঙ্কানদের বিশ্বজয়ী সেনাপতি বলেছেন, সাঙ্গাকারা অবশ্যই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান, তবে দলের ভালর জন্য তাকে আরও আগেই অবসর নেয়া উচিত ছিল!