১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাপানে ফের চালু পরমাণু চুল্লী

  • ফুকুশিমা বিপর্যয়ে শঙ্কিত দেশবাসী ক্ষুব্ধ

জাপান নতুন নিরাপত্তা আইনের আওতায় ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর পুনরায় এর পারমাণবিক চুল্লী চালু করেছে। সুনামি ও ভূমিকম্পের পর ফুকুশিমায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিলে ধীরে ধীরে সব পরমাণুবিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ করে দেয় দেশটি। তবে পুনরায় পরমাণু জ্বালানির দিকে ফিরে যাওয়ায় জনগণ ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। চার বছর আগের ফুকুশিমার ভয়াল স্মৃতি তাদের মনে এমন দাগ কেটে আছে যে, তারা পরমাণুবিষয়ক কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। খবর বিবিসি ও এএফপি।

নতুন নিরাপত্তা আইনের সব ধাপে সফল হওয়ার পরেই কিয়ুশু ইলেকট্রিক পাওয়ার সেন্দাই প্লান্টের এক নম্বর পারমাণবিক চুল্লী জাপানের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুনরায় চালু করা হয়। সেন্দাই প্লান্টটি রাজধানী টোকিও থেকে ছয় শ’ মাইল দূরে অবস্থিত। ৩১ বছরের পুরনো পারমাণবিক চুল্লীটিতে শুক্রবার থেকে বিদ্যুত উৎপাদন শুরু হবে এবং আগামী মাসের প্রথমদিকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে কিয়ুশুর মুখপাত্র জানিয়েছে। জাপানকে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য পরমাণু শক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ বিকল্প পথে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল দেশটির নেই বললেই চলে। ২০১১ সালের ভূমিকম্প ও সুনামির পরও দুটি চুল্লী চালু করেছিল জাপান। তবে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেগুলো ফের বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে সম্পূর্ণ পরমাণু জ্বালানিমুক্ত হয়ে পড়ে জাপান। এর দুই বছর পর আবারও পরমাণু জ্বালানির দিকে ফিরছে দেশটি। পারমাণবিক চুল্লী ফের চালু করার আগে তারা নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্যাপারে আগের চেয়ে কড়াকড়ি অবলম্বন করে এবং প্রকল্পটিকে সুনামি থেকে নিরাপদ রাখার জন্য এর চারদিকে শক্ত দেয়াল নির্মাণ করেছে। এদিকে ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনা কখনই ঘটবে নাÑ এমন ঘোষণা দেয়া হলেও জনগণের আস্থা ফিরছে না। নতুন নিরাপত্তা আইনকে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া ওই অঞ্চলে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থাকায় বিপদের সম্ভাবনা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। সরকারের তরফ থেকে যতই আশ্বস্ত করা হোক না কেন, সাধারণ জাপানীরা প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের কথা খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। সেন্দাই প্লান্ট ও টোকিওতে আবের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিক্ষোভকারীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানসহ প্রায় দুই শ’ বিক্ষোভকারী প্লান্টের বাইরে জড়ো হন। ফুকুশিমা বিপর্যয়ের সময় কান দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেছেন, আমাদের পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই। কারণ পরমাণু বিদ্যুত নিরাপদ ও সস্তা বলে যে ধারণা ছিল, ফুকুশিমা বিপর্যয় সেই ধারণাকে পাল্টিয়ে দিয়েছে। এটি এখন বিপজ্জনক ও ব্যয়বহুল। জাপানের সব পরমাণুবিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশটি তার বিদ্যুতের জন্য আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করেছে। এটি ব্যাপক ব্যয়বহুল। সরকার বলেছে, পরমাণু বিদ্যুত পুনরায় চালু হলে আমদানি বিল এবং ক্রমবর্ধমান কার্বন নির্গমন অবশ্যই কমানো হবে।

জাপানের নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটি গত সেপ্টেম্বরে কঠোর নিরাপত্তা নিয়মের অধীনে সেন্দাই প্লান্টের দুটি পারমাণবিক চুল্লির অনুমোদন দেয়। দ্বিতীয় চুল্লিটি অক্টোবরে পুনরায় চালু করা হতে পারে। সেন্দাই প্লান্টের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ১০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। এদিকে আরও ২৫টি প্লান্ট পুনরায় চালুর জন্য আবেদন করেছে। কিয়ুশু ইলেকট্রিকের মুখপাত্র তোমোমিতসু সাকাতা বলেছেন, কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই পারমাণবিক চুল্লীটি চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবে সোমবার বলেছেন, চুল্লীটি বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন নিরাপত্তা পরীক্ষায় পাস করেছে।