২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, টাকা না দেয়ার পরামর্শ

  • জানালেন মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই কোন জনশক্তি রফতানিকারকদের কাছে টাকা না দেয়ার জন্য কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মী নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। মঙ্গলবার সকালে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

সূত্র জানিয়েছে, গত রবিবার দুপুরে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ওহাব বিন মোহাম্মদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। মালয়েশিয়ার এই প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পদমর্যাদার আন্ডার সেক্রেটারি শাহিল ইসলাম, জামিরি বিন মাত জায়িন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি জুলকিফিল ইয়াকুব। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ঢাকায় এসেছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কোন প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা সরকারীভাবে নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ হবে। নতুন করে যারা নিবন্ধন করবেন, তারাও মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় আরও একটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। তা হলো কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কম মূল্য নির্ধারণ করা হবে। যদিও বৈঠকে কর্মী পাঠানোর খরচ নির্ধারণ হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় আগামী তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মীর চাহিদা আছে। চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকেই দেশটি কর্মী নিয়োগ দেবে বেশি। এ জন্য আমাদের সরকারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো উন্নততর করা হচ্ছে। দক্ষ কর্মী তৈরি করতে পারলে কর্মী নিয়োগে সুবিধা হবে। কৃষি, কারখানা, গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। এই কর্মীদের সর্বনিম্ন বেতন হবে ৯শ’ রিংগিত। বাংলাদেশী টাকায় সাড়ে ১৭ হাজারেও বেশি। ‘ওভার টাইমও’ পাবেন তারা। একটা আশঙ্কার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী নেয়ার বিষয়ে সেখানকার ও বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠী তৎপর হয়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশীসহ মালয়েশিয়ার লোক মিলে বেশকিছু চক্র গড়ে তোলা হয়েছে। ওই চক্র আবার বাংলাদেশে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। বেশকিছু জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিনিধি মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে রেখেছেন। তারা অনেকটা বাজারটির নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, কোন দালাল চক্রকে বাজার নষ্ট করতে দেয়া হবে না।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ১৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল ঢাকা ছাড়বেন। আলোচনা হলেও কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কোন ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে না। আরও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তাছাড়া আগে বিষয়টি নিয়ে চুক্তি হবে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। এরপর কর্মী নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখের বেশি কর্মী নিয়োগ দেবে। এবার তারা বিজনেস টু বিজনেস (বি টু বি) প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ১৪ লাখ কর্মী যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন, মালয়েশিয়া আসার জন্য তাদের থেকেই কর্মী নিয়োগ হবে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ দক্ষ কর্মী নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একটি কমন সার্ভারে কর্মীদের সব ধরনের তথ্য থাকবে। মালয়েশিয়ার কোন কোম্পানিতে কত কর্মী নিয়োগ হবে তা ওই কমন সার্ভার থেকেই বাছাই করা হবে। সেই অনুযায়ী বেসরকারী জনশক্তি রফতানিকারকদের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা নেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মালয়েশিয়ায় জি টু জি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সরকার যে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার সরকারের প্রস্তাব অনুসারে বি টু বি পদ্ধতি মেনে নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বি টু বি পদ্ধতি যাতে প্রতারণা ও শঙ্কামুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করতে উভয়পক্ষ মিলে বিষয়টি নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি এ সব নিশ্চিত করবে। যাতে পরে কোন ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করতে না হয়। তবে সরকার টু সরকারের মাধ্যমেও কর্মী নিয়োগ কার্যক্রমও চলবে। বেসরকারীভাবেও যাতে কম খরচেই কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে পাররেন এ বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে গবর্নমেন্ট টু গবর্নমেন্ট (জি টু জি) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে শুরু করে মালয়েশিয়া। সে অনুযায়ী শুধু সরকারীভাবে মালয়েশিয়ার ‘প্ল্যান্টেশন’ খাতে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল।