১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দল ও প্রধানমন্ত্রীকে খাটো করার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে

  • স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভায় সৈয়দ আশরাফ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের আরও বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু এই যে খাই খাই করা, দলকে ও প্রধানমন্ত্রীকে খাটো করার এই অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য সে সময় এমনই পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা সম্ভব হয়েছিল। আমরা যেন সেই পরিবেশ সৃষ্টি না করি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ধানম-ি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাসভবনের সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তখন কী বাংলাদেশে বাঙালী জাতি ছিল না? আমাদের বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী কী ছিল না? আমাদের আওয়ামী লীগ কী ছিল না? এই ঘটনা যে ঘটবে তা কী আন্দাজ করা যায়নি? তিনি বলেন, এই ঘটনা ঘটল গোয়েন্দারা জানল না, পুলিশ জানল না, তাঁর দল জানবে না- এটা হতে পারে না। আমি মনে করি এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র আছে। তারা এখনো পর্যন্ত চেষ্টায় লিপ্ত আছে যাতে সত্য উদঘাটন করা না যায়। আর এর পেছনে আছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক শক্তি।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমি মাঝে মাঝে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি। শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের হাল ধরেছেন, আওয়ামী লীগের হাল ধরেছেন। কিন্তু বহু শক্তি আছে যারা শেখ হাসিনার মঙ্গল হোক তা চান না। তিনি বলেন, যখন আমরা আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখি না, তখনই এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পরে। আমি আজকের এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী পরিবারের সকলকে বলব, আসুন আমরা আরেকটু সোচ্চার থাকি। সব সময় এলার্ট (সতর্ক) থাকি। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আশরাফ বলেন, আমরা তো বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পরিনি। দ্বিতীয়বার যদি এই ধরনের পরিস্থিতি আসে আমরা কী পারব? আমরা কি প্রস্তুত? আমার তো মনে হয় না। দল ক্ষমতায়। ’৭৫-এ তো আমাদের দলই ক্ষমতায় ছিল। আমরা কী বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পেরেছিলাম? তাই আমি বলব, আরেকটু সজাগ ও সতর্ক থকুন।

ওয়ান ইলেভেনের উদাহরণ টেনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তখন স্বেচ্ছাসেবক লীগ আমাদের হাতকে শক্তিশালী করেছিল। যার ফলে আমরা দৃঢ় অবস্থান নিতে পেরেছিলাম। ফলে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। এটাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি। আমাদের এভাবেই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাই সবার কাছে অনুরোধ- ক্ষমতার ভাগাভাগি একটু কম করা প্রয়োজন, দলকে আরেকটু শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মোল্লা মোঃ আবু কাওছারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এপি, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. বিশ্বজিত ঘোষ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি প্রমুখ।