২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাঙ্গাবালীতে মহিষ পেটানোয় শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন ॥ বাধা চিকিৎসায়

স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা ॥ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের মনিপাড়া গ্রামে মহিষ পেটানোর অভিযোগে ১৩ বছরের শিশু সজিবকে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার চিকিৎসায় বাধাও দেয়া হয়। শিশুটির নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং বাধা দেয়ায় এক মহিলাকে বর্বরভাবে পেটানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশুটি উদ্ধার হয়নি বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, রাঙ্গাবালীর ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গনী গ্রামের হতদরিদ্র মোঃ খলিল সরদারের ছেলে সজিব পেটের টানে অনেক দিন ধরে বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের মনিপাড়া গ্রামের আব্বাস চৌধুরীর বাড়িতে গরু-মহিষ দেখাশোনার কাজ করছে। সোমবার বিকেলে সমবয়সী অন্য শিশুদের সঙ্গে সজিব মাঠে খেলছিল। এ সময় টুঙ্গিবাড়িয়া গ্রামের ওয়াদুদ মল্লিকের একটি মহিষ আব্বাস চৌধুরীর ছেলে রিয়ামকে তাড়া করে। শিশু রিয়ামকে বাঁচাতে উপায়ন্তর না পেয়ে সজিব একটি লাঠি দিয়ে তাড়া করা মহিষটিকে পিটিয়ে সরিয়ে দেয়। মহিষটিকে পেটানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে ওয়াদুদ মল্লিক শিশু সজিবের গলায় গামছা পেঁচিয়ে প্রথমে মারধর শুরু করে। পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। সজিবের ওপর অকথ্য নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মনিপাড়া গ্রামের মোঃ মনিরের স্ত্রী জেবা বেগম ছুটে আসেন এবং সজিবকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ সময় জেবা বেগমকেও ওয়াদুদ মল্লিক মারধর করেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গৃহমালিক আব্বাস চৌধুরী মোবাইল ফোনে জানান, মারধরের একপর্যায়ে শিশু সজিব অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে চিকিৎসার জন্য ট্রলারে করে গলাচিপা নেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওয়াদুদ মল্লিক ও তার বড় ভাই জলিল মল্লিকের চাপে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। ট্রলার ফিরিয়ে নেয়া হয়। তবে স্থানীয়ভাবে শিশুটির চিকিৎসা করানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সোমবার গভীর রাতে সজিবের জ্ঞান ফেরে। এখন সে অনেকটা সুস্থ। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও ওয়াদুদ মল্লিককে পাওয়া যায়নি। তবে তার বড় ভাই জলিল মল্লিক মোবাইল ফোনে শিশু সজিবকে মারধরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্থানীয়ভাবে সজিবের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনির হোসেন জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা তিনি জানতে পেরেই জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।