২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছুটিতে, উৎসবে ক্রিকেটাররা

ক্রিকেট এখন আর মনে নেই। নেই চিন্তা-চেতনাতেও। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব ক্রিকেটাররাই যে এখন ছুটি কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ ক্রিকেট মৌসুম শেষ করে অবশেষে দীর্ঘ ছুটি পেয়েছেন। সেই ছুটি উপভোগ না করে পারেন। সবাই তাই ছুটি উপভোগ করছেন।

সাকিব আল হাসান এখন যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী শিশিরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। মুশফিকুর রহীম বগুড়ায় পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আছেন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ময়মনসিংহে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তামিম ইকবাল আছেন চট্টগ্রামে। সৌম্য সরকার ও মুস্তাফিজুর রহমান সাতক্ষীরায় পরিবারের সঙ্গে আছেন। রুবেল হোসেন আছেন বাগেরহাটে। এভাবে ঢাকায় বাড়ি থাকা ছাড়া ঢাকার বাইরে যাদের পরিবার আছে, সব ক্রিকেটারই পরিবারের সঙ্গে আছেন। ক্রিকেট থেকে একেবারে দূরে থেকে ছুটি উপভোগ করছেন। কেউ দেশে। কেউবা পরিবার নিয়ে আছেন বিদেশে।

টানা ক্রিকেট খেলায় বিরতি আসায় শুধু ক্রিকেটাররাই নন, কোচিং স্টাফের সদস্যরাও ছুটি উপভোগ করছেন। টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম সবাইকে সময়টা উপভোগ করার জন্য আগেই বলেছেন। সেইরকম করে সবাই ছুটি উপভোগও করছেন। ক্রিকেটাররা পেয়েছেন ১৭ দিনের ছুটি। ২১ আগস্ট শুরু হবে ফিটনেস ক্যাম্প। সেই ক্যাম্পে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে আবার ক্রিকেটে ফিরবেন ক্রিকেটাররা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩ আগস্ট সিরিজ শেষ হয়েছে। সেদিন রাতেই পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক ও ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসল দেশে ফিরে গেছেন। একদিন পর কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে, স্পিন বোলিং কোচ রুয়ান কালপাগে ও ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়েনও ঢাকা ছেড়েছেন।

সেই গত বছর নবেম্বর থেকে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘ মৌসুম শুরু হয়। সেই থেকে জিম্বাবুইয়ে, বিশ্বকাপ, পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। শুধুই সাফল্য মিলেছে। অর্জনে ভরপুর বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাস। এ কয়েক মাসে বাংলাদেশ যে অর্জন করেছে, তা উপভোগ করতে বলেছেন মুশফিক, ‘এখন আমাদের সময়। চার-পাঁচ মাসে আমরা যা অর্জন করেছি সেটা উপভোগ করার সময় এখন। আমরা সবাই তাই করব। এবার একটা বিরতি। সেটা খুব দরকার ছিল। এরপর ফিটনেস ট্রেনিং, স্কিল অনুশীলন। আমাদের হাতে অনেক সময় আছে। আমরা যেন ভালভাবে ফিরে আসতে পারি, দল হিসেবে পারফর্ম করতে পারি।’ ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের (বিসিএল) চতুর্থ আসর শুরু হওয়ার কথা। ২১ আগস্ট ফিটনেস ক্যাম্প শুরু হলেও বিসিএল দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় ফিরবেন ক্রিকেটাররা। আর ৯ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু হবে। সেই সময় থেকে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু হবে।

বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও ছুটি উপভোগ করার পক্ষে। আমেরিকায় যাওয়ার আগে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নিয়েও খানিক বলে গেছেন। জানিয়েছেন, ‘দেখুন আমরা এখন যেকোনো সিরিজেই নিজের সেরাটা দেওয়ার কথা ভাবি। তাই প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে ভাবার সময় নেই। হ্যাঁ, প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে একটা পরিকল্পনা থাকেই। তবে এখন আমরা বেশি মনোযোগী নিজেদের নিয়েই।’

সেই জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে গত বছর নবেম্বর থেকে একচেটিয়া ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। শুধু সাফল্যই মিলেছে। জিম্বাবুইয়েকে ৫-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজে ও ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হারানোর পর বিশ্বকাপেও দল বাজিমাত করেছে। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষেও দুর্দান্ত খেলেছে। ভারতকেও সিরিজে হারিয়েছে। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে দিয়েছে। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ থেকে বিশ্বকাপ বাদ দিয়ে ঘরের মাঠে ১৪টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে টানা ৫টি, পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ৩টি, ভারতের বিপক্ষে ২টি ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২টিসহ ১২টি ওয়ানডে জিতেছে। সব ক’টি ওয়ানডে সিরিজে জিতেছে। আর টেস্টে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ৩টির সব ক’টি জিতেছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচের একটি ড্র করেছে। ভারতের বিপক্ষে ১টি টেস্টের ১টিতেই ড্র হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ২টি টেস্টই ড্র হয়েছে। ৮ টেস্টের একটিতে মাত্র হেরেছে বাংলাদেশ। সাফল্যই শুধু মিলেছে। সামনে এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তবে আপাতত ক্রিকেটাররা দীর্ঘ ছুটিতেই আছেন। তা উপভোগও করছেন।

আপাতত ক্রিকেটকে একপাশে রেখে স্ত্রী শিশির, বাবা-মা আর বোনের জন্য সময়টাকে বরাদ্দ করেছেন সাকিব। ২৭ আগস্টের পরে আবার ক্রিকেট নিয়ে ভাবতে শুরু করবেন। ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তার ছুটি রয়েছে। ছুটি উপভোগ করার ব্যাপারে সাকিব বলেছেন, ‘অনেকদিন পর আমরা ছুটি পেয়েছি। এখন কেউ নেটে যাবে বলে মনে হয় না। ছুটিটা ঠিকমতো পালন করবো। ছুটির দিনগুলো মজা করবে সবাই। এরপর যখন আমরা আবার ফিরব। তখন ফিটনেস ক্যাম্পে যাব, এরপর আবার ক্রিকেট নিয়ে ভাবব। আমি এখন ক্রিকেটারের ভাবনায় নেই। সবারই উচিত ছুটির এই সময়টা মজা করার। উপভোগ করা জরুরী। আমি দুই সপ্তাহের জন্য আমেরিকায় যাচ্ছি ঘুমাতে। মাঝে-মধ্যে একটু ফুটবলও খেলবো। কিন্তু ক্রিকেট থেকে একদমই বাইরে থাকবো।’

তবে মনে হল দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়ে খানিক হতাশ সাকিব। বলেছেন, ‘বৃষ্টি যদি না হতো, তাহলে আমরা হয়তো অনেক কিছুই দেখতে পেতাম। সবাই বুঝতে পারতো আমরা কতটা উন্নতি করেছি। ওয়ানডেতে আমরা ভাল করছি দেখেই আমাদের উন্নতির চিত্রটা পরিষ্কার। টেস্টেও যদি এভাবে ফলাফল আসা শুরু করে তাহলে এই ফরম্যাটে আমাদের উন্নতি সবার চোখে পড়বে।’

সেই উন্নতি এখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে দেখানোর পালা রয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ্যাসেজে যাচ্ছেতাই অবস্থা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। অসিদের এ বাজে অবস্থার পর মাইকেল ক্লার্কও অবসর নিয়ে ফেলেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাই ক্লার্ককে দেখা যাবে না। বাংলাদেশের ভাল করার সুযোগ তাই বাংলাদেশের সামনে আছে। তবে এ সুযোগ নিয়েও নয়, ক্রিকেট নিয়ে নয়; বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা এখন পুরোদমে ছুটি উপভোগ করার দিকেই মনোযোগী হয়ে আছেন। তা উপভোগও করছেন।