২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যাম্পবেল সহোদরার কাজান বিজয়

  • মোঃ মামুন রশীদ

গাম্প্রতিক সময়গুলোতে মার্কিনী সাঁতারুদের দাপটে বিশ্বের অন্যদের টিকে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্ব আসর, অলিম্পিক, প্যান প্যাসিফিক গেমস কিংবা কমনওয়েলথ সাঁতার কোন আসরে দাপট নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এক সময় যেখানে পুলে ঝড় তুলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মহিলা সাঁতারুরা। কিন্তু ক্রমেই যেন হারিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু এবার যেন নতুন করে জেগে উঠেছেন অসি মেয়েরা। আর সে জাগরণের পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন দুই ক্যাম্পবেল বোন। কেট ক্যাম্পবেলকে বিভিন্ন সময়ে সাফল্য পাওয়ার জন্য ভালভাবেই চিনেছে বিশ্ববাসী। এবার রাশিয়ার কাজানে চলমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপস সাঁতারের পর থেকে আরেক ক্যাম্পবেলকেও চিনে রাখবে সাঁতার বিশ্ব। তিনি কেটেরই ছোট বোন ব্রনটি ক্যাম্পবেল। ২১ বছর বয়সী এ তরুণী তিনটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ জিতেছেন এবার। আর বড় বোন কেটও পিছিয়ে নেই তেমন। যদিও আগের তুলনায় নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি ২৩ বছর বয়সী কেট। ব্রনটির কাছেই ম্রিয়মাণ হয়েছেন তিনি। কিন্তু জিতেছেন দুটি স্বর্ণ। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ছিল ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে স্বর্ণ জয়ের জন্য দু’বোনের মধ্যে লড়াইটা। সেখানে শেষ পর্যন্ত ছোট বোনের কাছে হেরে গেছেন। তবে আগামী অলিম্পিকের আগে ভাল কিছুর স্বপ্ন দেখার জন্য শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে কেট আর ব্রনটিকে পেয়ে গেছে অসিরা।

সাঁতারে এমনটা বিরলই বলা যায়। একই সঙ্গে একই ইভেন্টে দু’বোন সমান দাপট দেখিয়ে প্রতিপক্ষ সাঁতারুদের বিরুদ্ধে লড়ছেন সেটা তেমন দেখা যায় না। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মার্কিন দুই তরুণী কেটি লিডেকি আর মিসি ফ্র্যাঙ্কলিন সব আলো, আকর্ষণ এবং পদকগুলো নিজেদের দখলে নিয়ে ফেলেছেন। পুলে ঝড় ওঠা মানেই লিডেকি আর ফ্র্যাঙ্কলিন। যদি দূরপাল্লার ফ্রিস্টাইল বিশ্বের কোথাও কোন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হতে থাকে নিশ্চিতভাবেই সেখানে অদ্বিতীয় ১৮ বছর বয়সী লিডেকির নামটাই আসবে। তবে ৪০০, ৮০০ ও ১৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ১০টি বিশ্ব রেকর্ডের কীর্তি দেখানো লিডেকি স্বল্প পাল্লার ফ্রিস্টাইলে নেই। এখানে অন্যদের সুযোগ নিজেদের প্রমাণ করার। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য নিজেদের মেলে ধরার একমাত্র অস্ত্র এতদিন ছিলেন কেট ক্যাম্পবেল। এবার তাঁর সঙ্গে কাজানে যোগ হয়েছেন ব্রনটি। দুই ক্যাম্পবেল কন্যা কাজানের কোণায় কোণায় নিজেদের নাম পৌঁছে দিয়েছেন ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ে। ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে গতবার বার্সিলোনায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব সাঁতারে স্বর্ণ জিতেছিলেন কেট ক্যাম্পবেল। কিন্তু এবার তাঁকে হারিয়ে দিয়ে অবশ্য স্বর্ণপদকটা নিজেদের পরিবারেই রেখেছেন ছোট বোন ব্রনটি ক্যাম্পবেল। কেট ব্রোঞ্জ জয় করেন। ৫২.৫২ সেকেন্ড নিয়ে ব্রনটি স্বর্ণ, সুইডেনের সারাহ সিওস্ট্রম রৌপ্য ও কেট ব্রোঞ্জ জয় করেন ০.৩০ সেকেন্ড পিছিয়ে থেকে। একই দিনে দুই বোন ৪দারুণ সাঁতরে অস্ট্রেলিয়া মহিলা দলকে ৪ী১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের স্বর্ণপদকও এনে দিয়েছেন। এরপর দারুণ উচ্ছ্বসিত ২১ বছর বয়সী ব্রনটি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরা দুই বোন জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’ বড় বোনও মঞ্চে উঠেছিলেন ব্রোঞ্জ পদকটা নেয়ার জন্য। গতবারে অর্জিত শ্রেষ্ঠত্ব বেদখল হলেও ছোট বোন পেয়েছেন বলেই বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি তাঁর মুখচ্ছবি। তাঁর বিষয়ে ব্রনটি বলেন,‘আমার পরে ওর নাম দেখে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। তারপর সময়টাও দেখে নিলাম। এরচেয়ে খুশি বোধহয় হতে পারতাম না অন্য কিছুতে।’

শুধু ব্যক্তিগত ইভেন্টেই থেমে থাকেনি ক্যাম্পবেল বোনদের জয়যাত্রাটা। ৪ী১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলেও দুই সহোদরা বোন স্বর্ণপদক জিতেছেন। একই দিনে দুই ইভেন্টে স্বর্ণ। নিজেরাও অর্জন করেছেন দেশকেও দিয়েছেন অর্জনের গৌরব। এ বিষয়ে কেট নিজেদের অর্জন নিয়ে বলেন,‘ক্যাম্পবেল পরিবারের জন্য এটা অসাধারণ একটা রাত। অসাধারণ রাত অস্ট্রেলিয়ার জন্য। মঞ্চে উঠে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পেরে আমি গর্বিত। আরও বেশি গর্বিত আমার ছোট বোনের সাফল্যে।’ পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়ার বিষয়টা একটু বিরলই বটে। কিন্তু সেটার জন্যই যেন আগে থেকে মনে মনে প্রস্তুত ছিলেন দুই বোন। এ বিষয়ে ব্রনটি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখেছি একসঙ্গে লড়ার। একই রেসে লড়তে আমরা পছন্দ করি। এটাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’ অলিম্পিকের মতো ইভেন্টেও পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়েছেন তাঁরা। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে দুজন ছিলেন পরস্পরের প্রতিপক্ষ। যদিও দু’জনের কেউ জিততে পারেননি। আর ৪ী১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের অস্ট্রেলিয়া দলে ছোট বোন ব্রনটি সুযোগ পাননি। তখন উদীয়মান তারকা তিনি। কিন্তু গত বছর কমনওয়েলথ গেমস ও প্যান প্যাসিফিক সাঁতারে দুজনে মিলে দলকে জিতিয়েছেন ৪ী১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের স্বর্ণপদক। তাই ক্যাম্পবেল বোনদের জয়জয়কার আছে আগে থেকেই। ব্রনটি ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলেও তাঁর সাফল্য ধরে রাখতে পেরেছেন। এবারও কেট পারেননি তাঁর সঙ্গে। ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে কোন পদকই জিততে ব্যর্থ হয়েছেন কেট। কিন্তু ব্রনটির কাছে ধরা দিয়েছে আরেকটি স্বর্ণালি সাফল্য। মাত্র ২৪.১২ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন ২১ বছর বয়সী এ অসি তারকা। হারিয়ে দিয়েছেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন হল্যান্ডের রানোমি ক্রোমোভিদজোজোকে। মাত্র ০.১০ সেকেন্ড পিছিয়ে থেকে তিনি রৌপ্য জয় করেন। কেট ০.২৪ সেকেন্ড পিছিয়ে থেকে চতুর্থ হন। সুইডেনের সারাহ সিওস্ট্রম ব্রোঞ্জ জেতেন ০.১৯ সেকেন্ড পিছিয়ে। এ নিয়ে চলতি আসরে তিনটি স্বর্ণপদক জয় করেন ব্রনটি। ৪ী১০০ মিটার মিডলে রিলেতে ব্রোঞ্জও জিতেছেন। এ বিষয়ে উচ্ছ্বাস জানিয়ে ব্রনটি বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি যে জিতেছি সেটা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছি না। সবকিছুই এবার যেন আমার পক্ষেই ঘটছে। এমনটা সবসময় ঘটেনা। আমি এর সুবিধাটা পরবর্তী সময়ে কাজে লাগাতে চাই। আমি এখানে যে আশা নিয়ে এসেছিলাম তারচেয়েও বেশি পেয়ে গেছি। তিনটা স্বর্ণ এবং একটা ব্রোঞ্জ আমার চিন্তার বাইরে ছিল। এখানে অন্তত আরও চারজন ছিলেন যারা স্বর্ণজয়ের যোগ্য। কিন্তু আমিই শেষ পর্যন্ত দ্রুততম হিসেবে শেষ সীমানাটা ছুঁতে পেরেছি।’