২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দরজায় কড়া নাড়ছে ইউএস ওপেন

দোরগোরায় ইউএস ওপেন। মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে সব তারকারাই এখন প্রস্তুতি-মঞ্চে। শেষবারের মতো ঝালিয়ে নিচ্ছেন নিজেদেরকে। কে হাসবেন শিরোপা জয়ের হাসি? ভক্ত-অনুরাগীদের সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে মহিলা এককে ফেবারিটের তকমাটা গায়ে মাখানো সেরেনা উইলিয়ামসের। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আমেরিকান টেনিস তারকার শিরোপা জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মারিয়া শারাপোভা-ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা কিংবা সিমোনা হ্যালেপের মতো খেলোয়াড়রা। শুধু তাই নয়, ইউজেনি বাউচার্ড-সেøায়ানে স্টিফেন্সের মতো তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও চমকে দিতে পারেন বড় বড় তারকাদের পরাজয়ের স্বাদ দিয়ে। পুরুষ এককে ফেবারিট নোভাক জোকোভিচ আর রজার ফেদেরার। সেই সঙ্গে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মারিন চিলিস ছাড়াও শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন রাফায়েল নাদাল-এ্যান্ডি মারে এবং স্টানিসøাস ওয়ারিঙ্কারা।

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে টেনিস কোর্টে রাজত্ব করছেন সেরেনা উইলিয়ামসও। কিন্তু এখনও যেন সেই ষোড়শী। বয়সে তেত্রিশকে ছাড়িয়ে গেলেও এটাই যেন তার ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময়। গত মাসেই জিতেছেন উইম্বলডন। সেই সঙ্গে গড়েছেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেরেনা সøাম জয়ের রেকর্ড। আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি এখন নতুন মাইলফলকের সামনে। ইউএস ওপেন জিততে পারলে স্টেফি গ্রাফের পর ক্যালেন্ডার সøাম জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়বেন তিনি। সেই সঙ্গে স্পর্শ করবেন স্টেফিগ্রাফের ২২টি গ্র্যান্ডসøাম জয়ের রেকর্ডকেও। টেনিস র‌্যাংকিংয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত র‌্যাংকিংয়ে সেরেনার পরই অবস্থান করছেন শারাপোভা। ২০০৬ সালে ফ্ল্যাশিং মিডোতে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি। মাঝের দীর্ঘ নয় বছর আর এখানে মেলে ধরতে পারেননি মাশা। তবে ব্যর্থতার সেই বৃত্ত থেকে এবার বেরিয়ে আসতে চান এই রাশিয়ান। কেননা সাম্প্রতিক সময়টা তার মোটেই ভালো যাচ্ছে না। দীর্ঘদিনের বয়ফ্রেন্ড গ্রিগর দিমিত্রোভের সঙ্গে বিচ্ছেদ। তার ওপর আবারও বাদ সেধেছে চোট। টেনিস র‌্যাংকিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান এই তারকা সবকিছুরই জবাব দিতে চান টেনিস কোর্টে, ইউএস ওপেন জিতে।

রোমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপ, চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা কেভিতোভা, ডেনমার্কের ক্যারোলিন ওজনিয়াকি, সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচ কিংবা পোল্যান্ডের এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কা সকলেই টেনিসের আলোচিত নাম। গত এক দশক ধরেই টেনিস কোর্টে রাজত্ব করছেন তারা। তাদের সবারই লক্ষ্য এবার শিরোপা নিজেদের করে নেয়া। তাছাড়া তারকা-ঘাতক হিসেবে বেশ কয়েকবারই শিরোনামে উঠে এসেছেন সেøায়ানে স্টিফেন্স, এ্যাঞ্জেলিক কারবার এবং সাবিনে লিসিকিরা। ইউএস ওপেনেও অঘটনের জন্ম দিতে প্রস্তুত তারা। বিশেষ করে সেøায়ানে স্টিফেন্সের কথা আলাদা করেই বলতে হয়। রবিবার ওয়াশিংটন ওপেনের ফাইনালে রাশিয়ার এ্যানাস্তাসিয়া পাভলিউচেঙ্কোভাকে পরাজিত করে ক্যারিয়ারের প্রথম ডব্লিউটিএ শিরোপা জিতেন তিনি। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে টেনিস র‌্যাংকিংয়ের ২৯তম স্থানে থাকা স্টিফেন্স ৬-১ এবং ৬-২ গেমে পরাজিত করেন পাভলিউচেঙ্কোভাকে। ক্যারিয়ারের প্রথম ডব্লিউটিএ শিরোপা জিতে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসছেন স্টিফেন্স। এই সপ্তাহটাকে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে শিরোপা জয়ের এই আনন্দ কখনোই ভুলে যাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন আমেরিকান তারকা। তার মতে, ‘এটা আসলেই বিস্ময়কর একটি সপ্তাহ। এর আনন্দ-উচ্ছ্বাস কখনই ভুলতে পারব না।’ অন্যদিকে ইউএস ওপেনের আগে ওয়াশিংটন ওপেনের ফাইনালে উঠেও শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় হতাশায় আচ্ছন্ন রাশিয়ান তারকা পাভলিউচেঙ্কোভা।

পুরুষ এককে ইউএস ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ক্রোয়েশিয়ার মারিন চিলিস। কিন্তু ফেবারিটের তকমাটা গায়ে মাখানো নোভাক জোকোভিচের। কেননা চলতি মৌসুমের প্রথম তিন টুর্নামেন্টের সব কটিতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। সার্বিয়ান এই টেনিস তারকার সামনেও এখন ক্যালেন্ডার সøাম জয়ের হাতছানি। তবে স্বরূপে ফিরেছেন নিস্প্রভ থাকা রজার ফেদেরারও। ২০১২ সালে শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জেতা সুইস এই টেনিস তারকার সামনে এবারই মেজর শিরোপা জয়ের দারুণ সুযোগ। কেননা ইতোমধ্যেই যে ৩৪ বছরে পা দিয়ে দিয়েছেন টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি। এবার না পারলে বয়সের কাছেই পরাজয় মানতে হবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। জোকোভিচ-ফেদেরার ছাড়াও ফেবারিটের তালিকায় আছেন রাফায়েল নাদাল-এ্যান্ডি মারে কিংবা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মারিন চিলিসের মতো তারকারা। তবে গত মৌসুমের রানার আপ কেই নিশিকোরিও ফর্মে আছেন। রবিবার ওয়াশিংটন ওপেনের পুরুষ এককে জয়ের দেখা পেয়েছেন তিনি। ফাইনালে জন ইসনারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। সেই সঙ্গে মৌসুমের শেষ মেজর টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিটাও দারুণভাবে সেরে নিলেন এশিয়ার অন্যতম সেরা এই টেনিস তারকা। ফাইনালে তিনি ৪-৬, ৬-৪ এবং ৬-৪ গেমে হারান আমেরিকার জন ইসনারকে। সেই সঙ্গে ক্যারিয়ারের দশম ডব্লিউটিএ শিরোপা নিজের শোকেসে তুলেন তিনি। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠে রীতিমতো চমকে দেন টেনিস বিশ্বকে।