১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিএসপি বঞ্চিতের কারণ জানতে চায় বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জিএসপি সুবিধা থেকে বাংলাদেশ কেন বঞ্চিত এর প্রকৃত কারণ জানতে চায় বিএনপি। মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের অগ্রাধিকার বাণিজ্য (জিএসপি) সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া উদ্বেগের বিষয় এবং দুঃখজনক। সরকারের ভুলের খেসারত দিচ্ছে জনগণ। তাই সরকারের উচিত জাতির সামনে তা ব্যাখ্যা করা। তবে আমরা মনে করছি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণেই জিএসপি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ।

রিপন বলেন, জিএসপির ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৬টি নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু কেন সেটি বাস্তবায়ন করা হলো না? সার্কভুক্ত ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানসহ বিশ্বের ১২২টি দেশ এই সুবিধা পেল। অথচ এখানে বাংলাদেশের নাম নেই। এতেই প্রমান হয় সরকারের ব্যর্থতার কারণেই আমরা জিএসপি সুবিধা পেলাম না। ভুল যেহেতু সরকার করেছে তাই সরকারেই এর খেসারত দিতে হবে। তিনি বলেন, জিএসপি সুবিধা না পাওয়ায় দেশের পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রিপন বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। শিশুহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লংঘনের বিভিন্ন ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিতে খারাপ প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, সরকারের বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাবের কারণেই গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. ইউনূসকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ব্যাংকের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। সরকারের উচিত ড. ইউনূসকে যথাযোগ্য সম্মান দেয়া।

রিপন বলেন, দারিদ্য বিমোচনে গ্রামীণ ব্যাংক সারাবিশ্বে একটি রোল মডেল। অথচ সরকার গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এক ধরনের হেনস্তা করে ড. ইউনূসকে সরিয়ে দিয়ে ব্যাংকটিকে দখলে নেয়ার জন্য নিজেদের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পরিষদ নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু এরপরও সঙ্কট দূর হয়নি। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এখনও সময় আছে, বিদ্বেষ মনোভাব পরিহার করুন। গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংসের জন্য যে নকশা তৈরি করেছেন সেখান থেকে সরে আসুন। গ্রামীণ ব্যাংক যাদের হাতে তৈরি হয়েছে তাদের হাতেই তুলে দিন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম.এ হালিম, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য বদরুজ্জামান খসরু প্রমুখ।