২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সয়াবিন পেঁয়াজ রসুন আদা পাটবীজ রফতানি করা যাবে না

  • তিন বছর মেয়াদী রফতানি উন্নয়ন নীতি অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, রসুনের মতো নিত্যপণ্য রফতানি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তিন বছর মেয়াদী রফতানি উন্নয়ন নীতিও অনুমোদন করেছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় রফতানি নীতি ২০১৫-২০১৮ অনুমোদন দেয়া হয়।

সয়াবিন, পেঁয়াজ, রসুনের সঙ্গে পাম অয়েল, আদা, পাট বীজও রফতানি করা যাবে না। চাহিদা মেটাতে এসব পণ্যের অনেকটাই আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে। আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদের সঙ্গে পুরাতাত্ত্বিক দুর্লভ বস্তু রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে নীতিতে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নতুন রফতানি নীতি চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে। রফতানি নীতিতে ২০২১ সালের মধ্যে রফতানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীতের লক্ষ্যমাত্রা রেখে কার্যক্রম নিতে বলা হয়েছে। গত অর্থবছরে পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশের আয় ছিল তিন হাজার ৭৬ কোটি ৮০ লাখ (৩০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলার।

রফতানি নীতিতে ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা’ ও চার দেশীয় (বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটান) উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানো, বাংলাদেশী পণ্যের ব্র্যান্ডিং, আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে রফতানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং রফতানিনির্ভর বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, রফতানি পণ্যের গুণগতমান ও প্রতিযোগী দাম নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে নতুন নীতিতে।

নীতিতে বলা হয়েছে, পণ্য ও সেবা খাত ভিত্তিক ‘বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল’ গঠন এবং ই-কমার্স ও ই-গবর্নেন্সের মাধ্যমে রফতানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে হবে।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুত ও গ্যাসে উৎপাদন বাড়ানো, বিভিন্ন পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন, বন্দরমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ রফতানি অবকাঠামোর উন্নয়ন, পণ্য খালাস পদ্ধতি সহজীকরণ এবং ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রবর্তন করে ব্যবসা ব্যয় কমিয়ে রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বাড়াতে সহায়ক পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন রফতানি নীতিতে।

নীতিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১২ খাত হয়েছে- অধিক মূল্য সংযোজিত তৈরি পোশাক ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, সফটওয়্যার ও আইটি এনাবল সার্ভিসেস ও আইসিটি পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, জুতা ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, আসবাবপত্র, হোম-টেক্সটাইল ও টেরিটাওয়েল, হোম ফার্নিশিং ও লাগেজ।

রফতানি নীতিতে বিশেষ উন্নয়মূলক হিসাবে চিহ্নিত খাতের মধ্যে রয়েছে- পাটজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, সিরামিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য (অটো পার্টস ও বাই-সাইকেলসহ), মূল্য সংযোজিত হিমায়িত মৎস্য, পাঁপড়, প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, অমসৃণ হীরা ও জুয়েলারি, পেপার ও পেপার প্রোডাক্টস, রাবার, রেশম সামগ্রী, হস্ত ও কারুপণ্য, লুঙ্গিসহ তাঁত শিল্পজাত পণ্য ও নারিকেলের ছোবড়া। নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে তেজস্ক্রিয় পদার্থ, মনুষ্য কঙ্কাল ও রক্তের প্লাজমা কিংবা এগুলোর দ্বারা তৈরি সামগ্রী, চিল্ড, হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত ব্যতীত অন্যান্য চিংড়ি, ছোট আকারের সামুদ্রিক চিংড়ি, বেত, কাঠ ও কাঠের গুঁড়ি, জীবিত বা মৃত সব প্রজাতির ব্যাঙ ও ব্যাঙের পা, কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া ইত্যাদি।

এছাড়া বহিগর্মন শুল্ক বন্দর ছাড়া অন্য কোন পথে (সাইটিস সার্টিফিকেট ও লাইন্সেস ব্যতীত) কোন বন্য প্রাণী বা তার অংশ, ট্রফি, প্রাকৃতিক গ্যাস উদ্ভূত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য (যেমন- ন্যাপথা, ফার্নেস অয়েল, লুব্রিক্যান্ট অয়েল, বিটুমিন, কনডেনসেট, এমটিটি, এমএস) রফতানি করা যাবে না। পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা রাখা হলেও পিএসসির আওতায় বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তি মোতাবেক তাদের অংশের পেট্রোলিয়াম ও এলএনজি রফতানি করতে পারবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশী নাগরিকদের কেউ বিদেশে যাওয়ার সময় ব্যক্তিগত মালের বাইরে রফতানি নিষিদ্ধ ও শর্ত সাপেক্ষে রফতানিযোগ্য পণ্য ছাড়া বাংলাদেশের তৈরি ২০০ ডলারের সমমূল্যের পণ্য সঙ্গে নিতে পারবেন।

কাফকো ছাড়া অন্য কারখানায় প্রস্তুত ইউরিয়া সার; বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, সিনেমা, অডিও-ভিডিও এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উদ্ভূত পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য শর্তসাপেক্ষে রফতানি করা যাবে।

এছাড়া রাসায়নিক অস্ত্র, চিনি, ইলিশ মাছ, সুগন্ধি চাল, কুমিরের চামড়া ও মাংস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রফতানির সুযোগ দিয়েছে সরকার।