২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনলে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইরান জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ যদি ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করে তাহলে তেল বিক্রির সব অর্থ বাংলাদেশেই খরচ করবে তারা। এক্ষেত্রে তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করবে ইরান। যাতে বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ববাজারে এখন জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নেমে গিয়ে ৪৩ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এখন জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির দেশগুলো জ্বালানি বিক্রিতে নানামুখী কৌশল নিচ্ছে। ইরান এ অবস্থার মধ্যে নতুন এই প্রস্তাব দিল। ইরান বাংলাদেশ

থেকে সব থেকে বেশি আমদানি করে পাট এবং পাটজাত দ্রব্য। দেশের পাটকলগুলোর বাহারি পণ্যের বেশিরভাগ ক্রেতাই ইরান। যদিও মাঝে ইরান নানামুখী সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমিয়ে দেয়। এখন বিশ্বনেতৃত্বদানকারী দেশের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে দেশটি।

দেশে বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে জ্বালানি তেলের ব্যবহারও বেড়েছে। এখন প্রতিবছর সব মিলিয়ে ৬০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। যার মধ্যে বেশিরভাগই পরিশোধিত জ্বালানি তেল। যদিও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় এখন বিপিসিকে কোন ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না। উল্টো বিপিসি লাভের মধ্যে রয়েছে। সরকার দেশে জ্বালানি তেলের দাম না কমিয়ে বিপিসির লোকসান পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এতে করে বিপিসিতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট এবং তেল খালাসের জন্য সিঙ্গেল মুরিং টার্মিনাল নির্মাণ আরও সহজ হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল বিক্রিতে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতো সৌদি আরব। কিন্তু এখন বিশ্ববাজারে সৌদি তেল বাণিজ্যের প্রভাব ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবের বদলে অন্যদেশ থেকে তেল ক্রয় করছে। এতে সৌদির তেল বিক্রিতে ধস নেমেছে। সৌদি তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করায় বিশ্বে জ্বালানি তেলের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে সকল পণ্যের দাম স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস বায়ঝি দেনবি বৃহস্পতিবার বিদ্যুত, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে তেল ক্রয়ের জন্য নতুন প্রস্তাবটি দেন। রাষ্ট্রদূত দেনবি বলেন, বাংলাদেশ ইরান থেকে তেল আমদানি করলে সে অর্থ ইরান বাংলাদেশেই খরচ করবে বিভিন্নভাবে। এক্ষেত্রে ওই অর্থে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হবে বলেও জানান তিনি। সাক্ষাতকালে তাঁরা পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। যাতে দুই দেশের বিভিন্ন ইস্যু প্রাধান্য পায়।

ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইরানের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তেল শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণ, তেল, এলএনজি, সিএনজি রফতানি, বিদ্যুত কেন্দ্রের উপকরণসমূহ সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীকে ইরান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, সহযোগিতার আরও ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে পারস্পরিক প্রতিনিধিদল বিনিময় করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দুই মুসলিম দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করলে সকলেরই উপকার হবে, দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটবে। পেট্রো-কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ স্থাপনে তিনি ইরানের সহযোগিতা চান এবং ইরানের তেল সরবরাহের আগ্রহকে স্বাগত জানান। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত দ্রব্যাদি, তৈরি পোশাক, ওষুধ প্রভৃতি আমদানি করার জন্য ইরানকে অনুরোধ জানান। যৌথ বিনিয়োগে ইরানে সার উৎপাদনের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।

এ সময় অন্যদের মাঝে জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ নাজিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ এলাইড বিজনেস এ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী প্রধান ফারঝিন নিকসেজেল উপিস্থিত ছিলেন।