২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তচিন্তা বধে ব্লগার হত্যা গ্রহণযোগ্য নয় ॥ রবার্ট ওয়াটকিনস

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ মুক্তচিন্তাকে বধ করতে ব্লগার হত্যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনস। সর্বশেষ উগ্রপন্থীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া ব্লগার নিলয় হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেউ আইন ভঙ্গ করে থাকলে তার বিচার হওয়া ভিন্ন বিষয়। তবে মুক্তচিন্তার চর্চার কারণে হত্যা অগ্রহণযোগ্য।

এদিকে পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহীদুল হক বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা বেড়ে গেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। তবে জঙ্গী অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সফলতা পেয়েছে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের দুটি রেজুলেশন ১২৬৭ ও ১৩৭৩ বিষয়ে দুই দিনের কর্মশালার উদ্বোধনী সেশনে এসব মন্তব্য করেন তারা। কর্মশালায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্য সরকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কর্মশালায় রবার্ট ওয়াটকিনস আরও বলেন, প্রত্যেকটি মানুষের ভয়-ভীতি ছাড়া স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তিনি ব্লগার নিলয়সহ অন্যান্য অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, পুলিশের উচিত নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে আরও মনোযোগী হওয়া। পাশাপাশি এ ধরনের হত্যা যেন আর না ঘটে সে লক্ষ্যে সমাজের সব স্তর থেকে এ ধরনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ হওয়া উচিত।

কর্মশালায় পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জনগণকে বিশ্বব্যাপী জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সচেতন করার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ এ ধরনের কর্মশালা আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সহিংসতা, উগ্রতা, সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধি পাওয়ার এক ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে জঙ্গী অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে শুধু আইনই প্রণয়ন করেনি তা বাস্তবায়নও করছে এবং এই পদক্ষেপ সফলতাও পাচ্ছে। যারা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে জড়িত তারা অনেক বেশি চতুর। ওই কুচক্রী গ্রুপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কিভাবে অগ্রগামী হওয়া যাবে সেটাই এখানে চ্যালেঞ্জ। সচিব বলেন, বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে দুইভাবে কৌশলে জঙ্গী অর্থায়ন চলছে। জনগণের জন্য উন্নয়ন, কল্যাণ ও এনজিও কর্মকা-ের নামে অর্থ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। সেসব অর্থ জনগণ নয়, সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর অবৈধভাবে তেল, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের মাধ্যমে জঙ্গী অর্থায়ন চলছে।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত জাতিসংঘের ১২৬৭ রেজুলেশন প্রথমবার গৃহীত হয় ১৯৯৯ সালের ১৫ অক্টোবর। পরবর্তীতে তাতে সংযোজন ও পরিবর্ধন করে আরও শক্তিশালী রূপ দিতে পযার্য়ক্রমে ২০০০ সালে ১৩৩৩, ২০০২ সালে ১৩৯০, ২০০৩ সালে ১৪৫৫, ২০০৪ সালে ১৫২৬, ২০০৫ সালে ১৬১৭, ২০০৬ সালে ১৭৩৫, ২০০৮ সালে ১৮২২, ২০০৯ সালে ১৯০৪, ২০১১ সালে ১৯৮৯, ২০১২ সালে ২০৮৩ এবং ২০১৪ সালে ২১৬১ রেজুলেশন গৃহীত হয়। জঙ্গী সংগঠন আল কায়েদার হুমকি হামলাসহ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রেজুলেশন ১৩৭৩ গৃহীত হয়েছে। এই রেজুলেশনের অধীনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো জঙ্গী অর্থায়নকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং সেই ফান্ড সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দেবে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত অন্যান্য অর্থ উৎস সম্পদও এই রেজুলেশনের আওতায় বন্ধ করে দেয়া হবে। এছাড়া রেজুলেশন ১২৬৭ও অনুসরণ হবে সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত অর্থায়ন বন্ধে।