২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

থানায় জব্দ মোটরযান নির্দিষ্ট সময় শেষে হবে সরকারী সম্পদ

শংকর কুমার দে ॥ সারাদেশের থানা পুলিশের ডাম্পিং স্টেশনে পড়ে থাকা আলামত হিসেবে জব্দ করার কোটি কোটি টাকা মূল্যের মোটরযানগুলোকে সরকারী সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব যানবাহন প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া না গেলে সরকারী সম্পদ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহারের জন্য দেয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জব্দ করা মোটরযান নষ্ট না করে রাষ্ট্রীয় কাজে কী ভাবে ব্যবহার করা যায়, তা ঠিক করতে আইন মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, লাইসেন্সবিহীন, চোরাই বা ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানবাহন অপরাধের সঙ্গে জড়িত আলামত হিসেবে জব্দ করার পর বছরের পর বছর পড়ে থাকে ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশনে। কোটি কোটি টাকা মূল্যেও এসব যানবাহন যাতে বিনষ্ট না হয় এবং ব্যবহারের উপযোগী হয় তার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ উদ্যোগের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি পূরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দ করা মোটরযান নষ্ট না করে রাষ্ট্রীয় কাজে কী ভাবে ব্যবহার করা যায়, তা ঠিক করতে আইন মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয়া হবে। এ বিষয়ে একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হতে পারে, সেটা এক বছর বা দুই বছর যা-ই হোক না কেন? কোন যানবাহন জব্দ করার পর নির্দিষ্ট সময় পার হলে তার মালিকানা যাবে রাষ্ট্রের হাতে। এসব যানবাহন নষ্ট না করে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা হবে। কী ভাবে এ ধরনের যানবাহন ব্যবহার করা যায়, তার আইনী ব্যাখ্যা চেয়ে দেয়া চিঠির উত্তর পাওয়া যাওয়ার পর যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পুলিশের উচ্চপর্যায় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের কাছে জব্দ মোটরযানের কিভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে নিয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি থানায় পুলিশের যানবাহনের চাহিদা রয়েছে। অথচ জব্দ করা অনেক মোটরযান বছরের পর বছর ডাম্পিং স্টেশনে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায়। আইন না থাকায় পুলিশ এগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। এসব যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ মিললে অপরাধ দমন পুলিশের পক্ষে অনেকটা সহজ হবে বলে মতামত দেয়া হয়।

পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাদেশে পুলিশের অপারেশন জন্য ব্যবহƒত যানবাহন রয়েছে ৭ হাজার ৪শ’ ৮টি। তার মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। পিকআপ ভ্যান রয়েছে প্রায় ২ হাজারটি। যার মধ্যে ৭শ’র বেশি ব্যবহারের অনুপযোগী। পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে ৫৬০টি জিপ, ১০৫টি প্রেট্রল জীপ ও ৭৫টি মাইক্রোবাস। এর বাইরে পুলিশ সদস্যদের আনা-নেয়ার জন্য ৩৮টি বাস, ২৫টি মিনিবাস, ৮২টি হাইওয়ে পেট্রোল কার, ৯২টি প্রিজন ভ্যান, ২২টি এ্যাম্বুলেন্স এবং ৩৫০টি ট্রাক আছে। তবে যার বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গাড়ি রয়েছে ১ হাজার ৬১২টি।

পুলিশ সদস্যদের পরিবহনের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে যে কটি বাস রয়েছে তার বেশির ভাগেরই সিট নষ্ট। বসার সিটে রেক্সিন ছিড়ে অনেক আগেই ফোম বেরিয়ে পড়েছে। ফোমের ভেতর অসংখ্য ছারপোকা আর তেলাপোকা কিলবিল করে। সিটে বসলেই পোকার কামড়ে আবার উঠে দাঁড়ান পুলিশ সদস্যরা। নতুন যানবাহন কেনার চেষ্টা চলছে। আর যানবাহন সঙ্কটের সুযোগে থানায় জব্দ করা গাড়ি পুলিশ সদস্যরা যে ব্যবহার করে আসছে তা আইনগতভাবে সঠিক নয়। আবার থানা পুলিশের হেফাজতে পড়ে থেকে দামীদামী মোটরযানবাহনের পার্টস খুলে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, থানা পুলিশের জব্দ করা মোটরযানবাহনগুলো মামলা ফাঁদে পড়ে মালিকপক্ষকে ফিরিয়ে দেয়ার আইনগত জটিলতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার করার বিষয়ে আইনগত ফাঁকফোকরের কারণে থানা পুলিশের ডাম্পিং স্টেশনে নষ্ট হচ্ছে লাইসেন্সবিহীন, চোরাই, ইঞ্জিনচালিত, অপরাধের সঙ্গে জড়িত আলামত। কোটি টাকা মূল্যের দামি যানবাহন থেকে শুরু করে হাজার হাজার টাকা মূল্যের অসংখ্য যানবাহন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার পুলিশের জব্দ করা এসব আলামত থানা পুলিশের হেফাজতে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইনগতভাবে নির্দিষ্ট সময়ের পর জব্দ করা আলামত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।