১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে ব্যাটারি রিক্সা বন্ধ হলেও চলছে অন্য কৌশলে

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে পরিবেশবান্ধব ডিজিটাল রিক্সা বা ব্যাটারি রিক্সা চলাচল করছে পাড়ায় পাড়ায়। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে চলতে বাধা দিচ্ছে ট্রাফিক ও থানা পুলিশ। হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে পুলিশের এ ধরনের বাধা যৌক্তিক হলেও অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ঠিকই চলছে এ ধরনের যান। যাত্রীসাধারণের প্রশ্নÑ বছর দুয়েক আগেও এ রিক্সা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ফলে দুর্ঘটনার মাত্রা যেমন কমেছে, চালক-যাত্রী সবাই সচেতনও হয়েছে। তবে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে হিসেবের খাতায় এ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুলিশ অর্থ আদায়ে নেমেছে ব্যাটারি রিক্সাকে হাতিয়ার বানিয়ে।

প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশকে টাকা দিয়ে যদি এ যান রাস্তায় নামতে পরে তাহলে শঙ্কামুক্ত কেন হতে পারছে না চালক ও মালিক সমিতি। অভিযোগ উঠেছে, অল্প কয়েকদিনের মধ্যে হাইকোর্টে ব্যাটারি রিক্সা মালিক-শ্রমিক সমিতির পক্ষ থেকে আবারও এ যান চলাচলের অনুমতি চেয়ে রিট আবেদন করা হবে। এর বিপরীতে প্রতিটি রিক্সার মালিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের প্রায় ৬০ হাজার ব্যাটারি রিক্সার বিপরীতে সমিতি অবৈধভাবে আদায় করছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু এ বিপুল অঙ্কের অর্থ কোথায় বা কিভাবে ব্যয় হবে এ নিয়ে রিক্সা শ্রমিক-মালিকদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সরকার রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে ও ব্যাটারি রিক্সকে ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার মাধ্যমে এ যান চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু সমিতির একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ যানকে ঠেকিয়ে রেখেছে। ফলে বার বার আদালতের অনুমতি নিয়ে চলেছে এ রিক্সা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় ৬০ হাজার ব্যাটারি চালিত রিক্সা রয়েছে। এই ৬০ হাজার রিক্সার পেছনে জীবিকা নির্বাহ করছিল আড়াই লক্ষাধিক মানুষ। কিন্তু সেই জীবনযাত্রা এখন থমকে গেছে। অতি কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে এসব মানুষকে। কি কারণে ব্যাটারি রিক্সা বন্ধ হয়েছে তা অনেক চালকই জানেন না। তবে বিভিন্ন দুর্ঘটনার কথা বলে সচেতন নাগরিক ও যাত্রীর দোহাই দিয়ে এ যান একবার চালু হয়, আরেকবার বন্ধ হয়। এই ফাঁকে ফায়দা লুটছে রিক্সা মালিক সমিতির নামে কিছু ব্যক্তি। তারাও চায় দফায় দফায় বন্ধ হলে দফায় দফায় অর্থ আদায়ের সুযোগ আসবে।

এরই প্রেক্ষিতে এ নিয়ে ছয় দফায় এ রিক্সা বন্ধ হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পূর্বে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী সিএমপিএ যানটি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।