২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুফতি ইজাহারকে নিয়ে পুলিশী আচরণ রহস্যজনক

  • জঙ্গী প্রশিক্ষককে দুদকের মামলায় শ্যোন এ্যারেস্ট!

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে জঙ্গী প্রশিক্ষক গ্রেফতারকৃত মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরীকে নিয়ে পুলিশের রহস্যময় আচরণ আগ্রহী সকল মহলে নানা জিজ্ঞাসার সৃষ্টি করেছে। মুফতি ইজাহার চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত লালখান জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার পরিচালকের পদের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর, নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান ও ইসলামী ঐক্যজোট একাংশের চেয়ারম্যান। তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহাজোটের স্বপ্নদ্রষ্টা বলেও দাবি করেছেন। ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর লালখান বাজার মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে ভয়াবহ গ্রেনেড বিস্ফোরণে ৩ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর যে তিনটি মামলা হয় তাতে আসামিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। এ তিনটি মামলা হয়েছে এ্যাসিড, হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে। এরপর থেকে মুফতি ইজাহার গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পুলিশ তাকে খুঁজে না পেলেও তিনি গত প্রায় দুই বছর ধরে এ মাদ্রাসায় প্রকাশ্যে থাকতেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ জেনেও তাকে গ্রেফতার করেনি। গত ৭ আগস্ট পুলিশ মুফতি ইজাহারকে গ্রেফতার করে। এর বহু আগে ওই তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে গেছে।

গত শুক্রবার গ্রেফতার করার পর থেকে অদ্যাবধি তার কাছ থেকে পুলিশ কোন তথ্য বের করতে পারেনি। যা নিয়ে সর্বত্র রহস্যের দানা বেঁধেছে। গ্রেফতারের পর বলা হয়েছিল মুফতি ইজাহারের সঙ্গে লস্কর ই তৈয়বাসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের গোপন যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া মুফতি ইজাহার নিজেই জানান দিয়েছেন তার পুত্র মুফতি হারুন ইজাহার আফগান যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের একজন। এছাড়া মুফতি ইজাহার নিজে ২০০৮ সালে আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এ সব ঘটনা ছাড়াও ঢাকায় শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের তা-ব সৃষ্টির মাধ্যমে নীলনক্সা বাস্তবায়নকারীদের অন্যতম নেপথ্য নায়কও তিনি।

মুফতি ইজাহারকে নিয়ে চট্টগ্রামে পুলিশের পক্ষ থেকে যে সমস্ত ব্যবস্থা নেয়ার কথা ছিল তা যেমন নেয়া হয়নি, তদ্রুপভাবে জিজ্ঞাসাবাদেরও কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল তাকে স্থানীয় পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ঢাকায় সিআইসি বা জেআইসিতে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু গত পাঁচদিনে এ সবের কোন উত্তর মেলেনি। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়ার পর থেকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

মুফতি ইজাহারের অপকর্মের বহু ঘটনা চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়ে রেখেছে। তিনি র‌্যাবের হাতে একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে এসে যথারীতি জঙ্গীদের মদদ ও প্রশিক্ষণ কর্মকা-ে যুক্ত ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় কবি শামসুর রাহমানের প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে যে ৫ জঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের প্রশিক্ষক ছিলেন এই মুফতি ইজাহার। অভিযোগ রয়েছে, লস্কর ই তৈয়বার সঙ্গে তার কানেকশন অত্যন্ত মজবুত। মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী রোহিঙ্গাদের একটি অংশের জঙ্গীদের সঙ্গেও তার গোপন যোগাযোগ রয়েছে। এ সব ঘটনা ছাড়াও লালখান বাজার মাদ্রাসায় যে ভয়াবহ গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটে তার নীলনক্সাও তখন ফাঁস হয়ে যায়। কিন্তু এ সব ঘটনার পরও তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তবে তার পুত্র মুফতি হারুন ইজাহারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ সব ঘটনা নিয়ে আগ্রহী মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বলা হচ্ছে, এ মুফতিকে নিয়ে অলিখিত কোন সমঝোতার প্রয়াস নেয়া হয়েছে কিনা। নেয়া হয়ে থাকলে কাদের নির্দেশে তা হচ্ছে এবং কেনই বা এ ধরনের সমঝোতার উদ্যোগ। গত ৭ আগস্ট গ্রেফতারের পর মুফতি ইজাহার সরকারবিরোধী কোন টু শব্দটি যেমন করেননি, তেমনি ভি চিহ্ন দেখিয়ে বিজয়ের বার্তা দিয়েছেন আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকসহ আগ্রহীদের কাছে। এছাড়া বলেছিলেন, তিনি বিএনপি নিয়ন্ত্রিত মহাজোটের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা।