২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দ্রুতই বিশ্বমানের বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হচ্ছে

  • চাঁনখারপুলে দশ তলা ভবন স্থাপন হচ্ছে শীঘ্রই

নিখিল মানখিন ॥ অবশেষে দেশে আন্তর্জাতিক মানের বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্লাস্টিক সার্জনদের বার্ষিক সম্মেলনে দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সর্বাধুনিক বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপনের ঘোষণা দেন। এরপর ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক ডাঃ মোঃ জুলফিকার আলী বার্ন ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। আর তা বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা রাখছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। পুরান ঢাকার চানখাঁরপুলে বর্তমানে যে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে সেখানকার দুই একর জমির ওপর বহুতল ভবন বিশিষ্ট এ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা এবং লোকবলের অভাবসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এখনও পোড়া রোগীদের শেষ ভরসাস্থল। বেঁচে থাকার আশায় দগ্ধ রোগীরা প্রতিনিয়ত ভিড় করেন সেখানে। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট সমন্বয়ক ডাঃ সামন্তলাল সেন বলেন, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৬ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু বিভিন্নভাবে (বিদ্যুতস্পৃষ্ট, অগ্নিশিখা, রাসায়নিক ও গরম তরল পদার্থে ঝলসে) দগ্ধ হচ্ছে। তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে উচ্চ ডিগ্রীধারী বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, সারাদেশের হাজার হাজার পোড়া রোগীর চিকিৎসার জন্য (এমডি ও এমএস ডিগ্রীধারী) কমপক্ষে ১ হাজার ৫শ’ বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৫২। বর্তমানে সীমিত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেডিক্যাল কলেজে বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ে স্নাতকোত্তর এমএস ও মহাখালীর বিসিপিএস (বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস এ্যান্ড সার্জনস) এ এফসিপিএস কোর্সে প্রতিবছর হাতেগোনা ২ থেকে ৩ শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। পৃথক ইনস্টিটিউট স্থাপিত হলে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১২ জন উচ্চশিক্ষার কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, আধুনিক বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির রোগীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পৃথক ব্লক থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে পোড়া রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট সমন্বয়ক ডাঃ সামন্তলাল সেনের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি এক সপ্তাহ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করে ফিরেছেন।

বর্তমানে ইনস্টিটিউট স্থাপনের লক্ষ্যে বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) বা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। এ প্রস্তাব তৈরির পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে এটি একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।