২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাধারণের চিত্তবিনোদন

সাধারণ মানুষের চিত্তবিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্রের তুলনা নেই। বাস্তব জীবনের নিত্যনৈমিত্তিক সঙ্কট ও টানাপোড়েন ভুলে দু’আড়াই ঘণ্টার জন্য হাসি-কান্না আর নাটকীয়তায় পূর্ণ নাচে-গানে ভরপুর ছায়াছবি খেটে খাওয়া মানুষকে আনন্দের পাশাপাশি এক ধরনের জীবনীশক্তিও দান করে থাকে। স্বাভাবিক সুস্থ চিত্তবিনোদনের অভাবে একজন মানুষ মনোবৈকল্যের শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করে দেয়া হয় আধুনিক মনোবিজ্ঞানে। আমাদের দেশের গড়পড়তা মানুষ যাত্রাপালা, নাটক এবং সিনেমাকেই পছন্দের বিনোদন মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে সুদীর্ঘকাল আগে থেকেই। বিশেষ করে নগরবাসী শ্রমজীবী এবং মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী শ্রেণীর কাছে সিনেমা হল বা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চলচ্চিত্র দর্শন দারুণ এক চিত্তবিনোদন। সবচেয়ে বড় কথা, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। অবস্থাসম্পন্নরা সিনেমা হলে না গিয়ে ঘরে বসেই সিনেমা উপভোগের সুযোগ পুরোপুরি গ্রহণ করছেন। বিশাল পর্দার টিভি কিনে তারা সিনেমা দেখেন। ভিসিপির যুগ কালের গর্ভে হারিয়ে গিয়ে এসেছে ভিসিডি, ডিভিডি এবং ইউটিউবের অত্যাধুনিক কাল। বিশেষ করে ইন্টারনেটের কল্যাণে ইউটিউব থেকে ইচ্ছামাফিক সিনেমা দেখার বিপুল সুযোগ চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। এসব সত্ত্বেও বড় পর্দায় ছবি দেখার ষোলো আনা মজা পাওয়ার জন্য কালেভদ্রে আধুনিক শিক্ষিত ধনবান নাগরিকরাও সিনেমা হলে গিয়ে থাকেন। উন্নত আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে মহানগরীতে চালুও হয়ে গেছে অভিজাত সিনেপ্লেক্স। যদিও সাধারণ প্রেক্ষাগৃহ থেকে সেখানকার টিকিটের মূল্য বহুগুণ বেশি। নিম্নবিত্ত শিক্ষাবঞ্চিত খেটে খাওয়া মানুষও নিজের ঘরে বা পাড়া-মহল্লার কারও বাইরের ঘরে বসে টেলিভিশনের মাধ্যমে ঢালিউডের ছবি দেখার সুযোগ গ্রহণ করছেন। এসব কারণেই সিনেমা হলগুলোর কদর আর আগের মতো নেই। সারাদেশে হাজারের ওপর সিনেমা হলের ভেতর কমতে কমতে তার সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে তিন শ’র কিছু ওপরে। দেশের প্রায় সব জেলা শহরেই ছিল সিনেমা হল। এখন বহু জেলায় আর নেই। দেড় কোটি মানুষের রাজধানী মেগাসিটি ঢাকায় প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা ৩৩ থেকে কমে ঠেকেছে ১৮টিতে।

ব্যবসায়ীদের ব্যবসাই হচ্ছে জীবিকার উপায়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবসায় মন্দাবস্থার দরুন স্বাভাবিকভাবেই এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ভিন্ন ব্যবসায় চলে গেছেন। সিনেমা হল বন্ধ করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে মাল্টিকমপ্লেক্স, শপিংমল, গার্মেন্টস কারখানা বা বেসরকারী হাসপাতাল। তবে সময় যতই বদলাক মানুষের সহজাত প্রমোদপ্রিয়তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ঘরের বাইরে দল বেঁধে আনন্দ সন্ধান; সেটি মিলনায়তনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হোক কিংবা হোক সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা। পছন্দের সিনেমা আর অনুকূল পরিবেশ পেলে নিশ্চয়ই মানুষ আবার সিনেমা হলে যাবে। সে লক্ষ্যে জীর্ণশীর্ণ সাবেক আমলের হলগুলোকে আধুনিকায়ন করতে হবে সবার আগে। সাউন্ড সিস্টেম ও ছবি প্রক্ষেপণের মানও উন্নত করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, যুগের চাহিদা মাথায় রেখে বিনোদনসমৃদ্ধ সুস্থ ধারার ছবি নির্মাণ করতে হবে। তাছাড়া বিশেষ বিশেষ জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হলে হলবিমুখ দর্শকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। সিনেমা হলগুলোকে যেমন বাঁচাতে হবে সাধারণ মানুষের চিত্তবিনোদনের স্বার্থে, তেমনি চলচ্চিত্র শিল্পটির শেকড়েও প্রয়োজনীয় জল ঢালার সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিতে হবে, যাতে মানসম্পন্ন বিনোদনধর্মী জীবনমুখী, শিক্ষামূলক আকর্ষণীয় ছবি নির্মাণ সম্ভব হয়।

নির্বাচিত সংবাদ