১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘নীলাখ্যান’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন কাল

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ নতুন নাটক মঞ্চে আনছে মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়। নাটকের নাম ‘নীলাখ্যান’। দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে’ গল্প আশ্রয়ে অধ্যাপক আনন জামান রচিত নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। আগামীকাল শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে। উদ্বোধনী মঞ্চায়নের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেবেন নাট্যজন নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, অধ্যাপক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ এবং নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। নতুন নাটকের মঞ্চায়ন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭-৩০ টায় ‘নীলাখ্যান’ নাটকের বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেন পলি বিশ্বাস, মনামী ইসলাম কনক, লিঠু ম-ল, জেরিন তাসনীম এশা, কোনাল আলী, চৈতী সাথী, তনু ঘোষ, আমিনুল আশরাফ, আসাদুজ্জামান রাফিন, মোহাম্মদ আহাদ, শিবলী সরকার, শাহরিয়ার হোসেন পলিন, ইয়াছির আরাফাত, তৌহিদুল রহমান শিশির, ইকবাল চৌধুরী, জাহিদুল কামাল চৌধুরী দীপু, মোঃ শাহনেওয়াজ, মীর জাহিদ হাসান প্রমুখ। এছাড়া নাটকের গল্পে সুর সংযোজন ও আবহসঙ্গীত পরিকল্পনায় ইউসুফ হাসান অর্ক, আলোক পরিকল্পনায় ঠা-ু রায়হান, পোশাক পরিকল্পনায় ড. সোমা মমতাজ, কোরিওগ্রাফি জেরিন তাসনিম এশা।

নাটকের কাহিনীতে দেখা যাবে বেদিয়ার সর্দার জহরের বিষ জয় সাধনায় মনসা দ্বারা কাম নিষিদ্ধের আভাসে প্রত্যাখ্যাত ভালবাসার মানুষ বিন্তী রানী আড়ালি বিলে রাশি রাশি শাদা শাপলার বনে আত্মহত্যা করে। বেদিয়া বহরে বেড়ে ওঠা সাপে কাটা মান্দাস ভাসা বালিকা চন্দনের চুলের আড়ে বিন্তীর সুরভী পায় জহর। নারী নিষিদ্ধ বলে এ বালিকা বেড়ে ওঠে বালকের বেশে। যাকে সন্তান করেছিল জ্ঞান- ঋতুমতি হয়ে ওঠার পর তার প্রতি প্রবল রতি অনুভব করে জহর। বেদিয়া দলে তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিচিত্রমুখী সঙ্কট। চন্দনের যুবা সাজে তাকে প্রেম নিবেদন করে মৌটুসী আর চন্দন ঠোঁটে মালতী ফুলের লাল ডলে ঝুমরোর সামনে দাঁড়ায়। বেদিয়াদের উৎসবে চন্দনের নারিত্ব উন্মোচন হলে দলের অতিপ্রাকৃত বৃদ্ধ ঘণ্টাবুড়ো বেদিয়া দল ও জহরকে তিনটি অনিবার্য ভবিতব্যের ঘোষণা দেয় ভবিতব্যের তিনরূপ কহি- যে ভাতের পাতিল নেবার জন্য জলে ডুবেছে বিন্তী- তা অন্যরে দিতে চেয়ে পতিত হবি তুই। অথবা তোর আচরে বিন্তীর অনুগামী হবে চন্দনে। আর যদি না হয় তা- তবে আছে তৃতীয়জন- তার হবে মৃত্যু। মৃত্যু অনিবার্য তবে তা কার হবে তোর কার্যকরণ হবে স্থির। সামগ্রিক দৃশ্যকাব্যে ক্ষণে ক্ষণে তিনটি ভবিতব্য ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে ওঠে। যাকে পিতা মানে তাকে পতি মেনে নিতে পারে না চন্দন। ঝুমরোর জন্য জহরের ঝাঁপিতে আছে দাঁত না ভাঙা পোষা সাপ। শাওনের অখ- চাঁদের সাঁজ বেলায় আকাশজুড়ে যেন মনসার নীল মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে। জহরের অন্তরে তখন বাজে চন্দন চেয়েছিল গাঢ় নীল রঙের ফতুয়া। সে ক্ষণে একশতম সাপের দংশন নেবে জহর মন্ময় নীলের দোলাচলে সে চিত্রল ফণায় টোকা দিয়ে সাপটিকে ক্রোধমত্ত করে তোলে। এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনী।