২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিটি স্ক্যান মেশিন এক বছর ধরে অচল

  • ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥ টানা এক বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি। অনেক চিঠি চালাচালি হলেও মেশিনটি মেরামত কিংবা নতুন কোন মেশিন স্থাপনে দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে মুমূর্ষু ও সঙ্কটাপন্ন রোগীদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষার জন্য ট্রলিতে করে ঝুঁকি নিয়ে যেতে হচ্ছে হাসপাতালের বাইরের বেসরকারী ল্যাবে। গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। সিটি স্ক্যান মেশিন বিকলের পর থেকে কতিপয় ডাক্তার ও কর্মচারীদের কপাল খুলে গেছে। কারণ পরীক্ষার কমিশন থেকে একটা অংশ চলে আসছে ডাক্তারদের পকেটে! আর হাসপাতালের ট্রলি ব্যবহারের জন্য পকেট ভারি হচ্ছে কর্মচারীদেরও। সরকারের স্থানীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও রয়েছে এই খবর।

কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ধলা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নুর মোহাম্মদ (৪৫) বাসায় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে সিটি স্ক্যান পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় কর্তব্যরত ডাক্তার নুর মোহাম্মদকে রেফার্ড করেন ময়মনসিংহ মেডিক্যালে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে আনার পর কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে জরুরী সিটি স্ক্যান পরীক্ষার পরামর্শ দেন। রোগীর স্বজন আবুল হাশেম (৩৫) জানান, হাসপাতালের মেশিন নষ্ট জেনে সঙ্কটাপন্ন ও অচেতন রোগীকে ধরাধরি করে ট্রলিতে নিয়ে যাওয়া হয় বাইরের বেসরকারী একটি ল্যাবে। সেখানে এই পরীক্ষার জন্য গুনতে হয় ৩৫০০ টাকা। আর ট্রলি ব্যবহারের জন্য হাসপাতাল কর্মচারীকে দিতে হয় নগদ ৩০০ টাকা। হাসপাতালের মেশিন সচল থাকলে এই পরীক্ষার জন্য গুনতে হত মাত্র ২ হাজার টাকা। এরকম নূর মোহাম্মদের মতো অসংখ্য রোগীকে প্রতিদিন সিটি স্ক্যান পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের বাইরের ল্যাবে এভাবে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। স্যালাইন ও অক্সিজেনসহ লাইফ সাপোর্টে থাকা রোগীদেরও সিটি স্ক্যান পরীক্ষার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে হচ্ছে বাইরের ল্যাবে। গত এক বছর ধরে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আসা রোগীরা এরকম দুর্ভোগের শিকার হলেও সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোন ফল মিলছে না। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়েই নিয়তি মেনে সহ্য করতে হচ্ছে এই দুর্ভোগ। ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক বছর ধরে একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি বিকল থাকায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালেরই একাধিক বিশেষজ্ঞ।