১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনাল মিরপুরে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আবারও বাংলাদেশে বসতে যাচ্ছে অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ২০১৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে যুবাদের বিশ্বকাপ। শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে এমনটিই জানা গেছে। ২০০৪ সালেও একবার বাংলাদেশে যুব বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৬ দল এবার এ টুর্নামেন্টে খেলবে। ম্যাচ হবে মোট ৪৮টি। স্বাগতিক বাংলাদেশসহ টেস্ট খেলুড়ে ১০ দল (অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুইয়ে) সরাসরি টুর্নামেন্টে খেলবে। ২০১৪ সালের আইসিসি অনুর্ধ ১৯ প্রিমিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান, ২০১৫ আইসিসি আফ্রিকা অনুর্ধ ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন ওয়ান চ্যাম্পিয়ন নামিবিয়া, ২০১৫ আইসিসি আমেরিকার অনুর্ধ ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ী কানাডা, ২০১৫ ইএপি অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেট শিরোপা জেতা ফিজি ও ২০১৫ আইসিসি ইউরোপ অনুর্ধ ১৯ চ্যাম্পিয়ন্সশিপ জয়ী স্কটল্যান্ডও খেলবে। আরেকটি দল আসবে। ২০১৫ আইসিসি অনুর্ধ ১৯ বাছাইপর্ব খেলে। যে দল চ্যাম্পিয়ন্স হবে তারাও অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ খেলবে। এ জন্য নেপাল, পাপুয়া নিউগিনি, উগান্ডা, যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে লড়াই হবে। বাছাইপর্ব হবে ১৪ থেকে ২৩ অক্টোবর। আগে এ বাছাইপর্ব হওয়ার কথা ছিল নেপালে। কিন্তু ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত দেশটিতে এখন আর বাছাইপর্ব হবে না। মালয়শিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে বাছাইপর্ব।

বিশ্বকাপের জন্য চাহিদা অনুয়ায়ী স্টেডিয়াম ও মাঠও প্রস্তুত রাখছে বিসিবি। মিরপুর ও ফতুল্লা এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের দুটি করে মাঠে হবে মূল টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো। বাংলাদেশ দলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো হবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হবে ৯ ম্যাচ, ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ১০। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হবে কক্সবাজারে। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্সের এক নম্বর মাঠে হবে ৯ ম্যাচ, ২ নম্বর মাঠে ৮। কক্সবাজারে এক পর্যায়ে একসঙ্গে থাকবে ৮টি দল। মূল দুই মাঠের বাইরে তাই অনুশীলনের জন্য নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে আরেকটি মাঠ। চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হবে ৪ ম্যাচ, এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ৩। সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ৩, জেলা স্টেডিয়ামে ২টি। প্রস্তুতি ম্যাচ হবে বিকেএসপিতে ৮, ফতুল্লার মূল মাঠে ২, আউটার স্টেডিয়ামে ২, চট্টগ্রামে এমএ আজিজ ও জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২টি করে। ২০০৪ সালের পর আবার যতদূর জানা গেছে, স্বাগতিক বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে থাকছে। চার গ্রুপে হবে লীগ রাউন্ডের খেলা। গ্রুপের দ্বিতীয় দল দক্ষিণ আফ্রিকা। বাছাই রাউন্ড থেকে নেয়া হবে আরও দুটি দল। ‘বি’ গ্রুপে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আরও দুটি, ‘সি’ গ্রুপে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুইয়ের সঙ্গে বাছাই পর্বের একটি দল এবং ‘ডি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যোগ দেবে বাছাই পর্বের একটি দল।

এ বিশ্বকাপে ভাল করতে এরইমধ্যে জাতীয় দলের সাবেক কোচ স্টুয়ার্ট ল’কে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ দলের নতুন উপদেষ্টা থাকছেন স্টুয়ার্ট ল। বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই তাকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটে খেলোয়াড় হিসেবে তার অসাধারণ ক্যারিয়ার ছিল। জাতীয় দলের পাশাপাশি উদীয়মান ক্রিকেটারদেরও কোচিং করানোর অনেক অভিজ্ঞতা তার আছে। আমাদের ছেলেদের জন্য বড় এই প্রতিযোগিতার আগে তাকে পেয়ে আমরা খুব খুশি।’ ২৪ আগস্ট স্টুয়ার্ট ল বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ দলের দায়িত্ব নিতে বাংলাদেশে আসবেন। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে খুলনায় যুবাদের ক্যাম্প শুরু হবে। স্টুয়ার্ট ল’র সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সেই অনুযায়ী ১৬ সপ্তাহ কাজ করবেন এই কোচ। এ ১৬ সপ্তাহ তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমভাগে ২৪ আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর এই চার সপ্তাহ কাজ শেষে ফিরে যাবেন স্টুয়ার্ট ল। এরপর অক্টোবরের ২৬ থেকে ২০ নবেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয়ভাগের কাজ করবেন। ৮ জানুয়ারি থেকে বিশ্বকাপ পর্যন্ত তৃতীয় ভাগে কাজ করবেন এ কোচ। বিশ্বকাপ যেহেতু বাংলাদেশে হবে, তাই মিরপুরে অনুষ্ঠেয় ফাইনাল ম্যাচের দিকেই দৃষ্টি দিচ্ছে স্বাগতিকরা। এর জন্যই কোচ স্টুয়ার্ট ল’কেও যুক্ত করা হয়েছে।