১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্ট্রেলিয়া দলে সাত পরিবর্তন!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সময় খারাপ গেলে যা হয়। এক ম্যাচ বাকি থাকতে ঐহিত্যের এ্যাশেজ সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। যার প্রভাব পড়ল ঘোষিত ওয়ানডের দলে! আশ্চর্যের বৈকি। মাত্র সাড়ে চার মাস আগে যে দল নিয়ে বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধার করেছিল অসিরা, ইংল্যান্ড সফরে স্বল্পদৈর্ঘের দ্বৈরথে নেই সেই দলেরই সাত-সাত জন! কারণটা অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন। তবে এ্যাশেজের ভরাডুবি যে বড় প্রভাব ফেলেছে, তা বলা বাহুল্য। ইতোমধ্যে একদিবসীয় ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন মাইকেল ক্লার্ক আর ব্র্যাড হ্যাডিন। বিশ্রামে রাখা হয়েছে প্রধান দুই স্ট্রাইক বোলার মিচেল জনসন ও জস হ্যাজলউডকে। ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন অপর দুই পেসার প্যাট কুমিন্স ও নাথান কাল্টার-নাইল। বড় চমক টেস্ট অভিষেকের দীর্ঘ বিরতির পর স্পিন-অলরাউন্ডার এ্যাস্টন এ্যাগারের ফেরা ও দুই নতুন মুখ জো বার্নস ও মার্কাস স্টোয়নিসের অন্তর্ভুক্তি।

তাই রঙ্গিন পোশাকে প্রায় নতুন একটা দল নিয়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে মোকাবেলা করতে হবে নতুন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে। কিংস্টন ওভালে এ্যাশেজে আনুষ্ঠানিকতার পঞ্চম ও শেষ টেস্ট শুরু ২০ আগস্ট। এরপর ২৭ তারিখ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একটি ওয়ানডে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, তিনদিন পর ৩১ আগস্ট কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টি২০। সাউদাম্পটনে ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ। ক্লার্কের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পেলেও এই সিরিজ দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু স্টিভেন স্মিথের। পরিষ্কার করে কিছু না বললেও অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে টেস্টেও দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন তিনি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) থিঙ্কট্যাঙ্কদের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে টেস্ট-ওয়ানডে দুই ঘারণার নেতৃত্ব দিয়ে স্মিথ-যুগে প্রবেশ করবে কুলীন দেশটির ক্রিকেট।

মাত্র দু’দিন আগে ভারত সফরে ভারতীয় ‘এ’ দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে পাঁচ উইকেট দখল করেন এ্যাগার। পুরস্কারটাও পেয়ে গেলেন হাতে নাতে। ইংল্যান্ড সফরে আসন্ন সীমিত ওভারের সিরিজের দলে সুযোগ পেলেন প্রতিভাবান এ অলরাউন্ডার। মূলত, স্পিনার হিসেবেই এই বাঁহাতি ঘূর্ণিবোলারকে দলভুক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরা। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ড সফরে এ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার এ্যাগার। প্রথম টেস্টে দল হারলেও প্রথম ইনিংসে এগারো নম্বরে নেমে ৯৮ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলে ও দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে অভিষেকেই ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী এ্যাগার। দ্বিতীয় টেস্টের পরই অবশ্য দল থেকে বাদ পড়েন। কিন্তু, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এখনও তার অভিষেকই হয়নি। ২১ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার টেস্টের মতো এবার ওয়ানডে অভিষেকেও প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছেন ইংল্যান্ডকে। তার আগেই অবশ্য, আইরিশদের বিপক্ষেও একমাত্র ম্যাচটির মধ্য দিয়ে একদিনের ক্রিকেটে পা রাখতে পারেন তিনি।

এ্যাগার ছাড়া প্রথমবারের মতো সীমিত ওভারের স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন জো বার্নস ও মার্কাস স্টয়নিস। বার্নস টেস্ট খেললেও স্টয়নিসের এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি। বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তাই পূর্ণ মেয়াদে নেতৃত্ব শুরু হচ্ছে স্টিভেন স্মিথের। ‘ক্লার্ক-হ্যাডিন অবসরে। টানা ক্রিকেটের ধকল সামলাতে জনসন ও হ্যাজলউডকে বিশ্রাম দেয়া হচ্ছে। এ্যারন ফিঞ্চ ইনজুরি থেকে এখনও সেরে ওঠেনি। স্বল্পদৈর্ঘের ক্রিকেটে ও আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, তাই ঝুঁকি নেয়া হয়নি। আসন্ন স্বল্পদৈর্ঘের সিরিজে তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে দল সাজানো হয়েছে, ওরা ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে পারবে।’ বলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক রডনি মার্শ।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ও টি২০ দল ॥ স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), এ্যাস্টন এ্যাগার, জর্জ বেইলি, জো বার্নস, নাথান কাল্টার-নাইল, প্যাট কুমিন্স, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মিচেল মার্শ, জেমস প্যাটিনসন, মিচেল স্টার্ক, মার্কাস স্টয়নিস, ম্যাথু ওয়েড (উইকেটরক্ষক), শেন ওয়াটসন, ডেভিড ওয়ার্নার, ক্যামেরন বয়েস (শুধু টি২০)।