২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দিকে তাকিয়ে মুমিনুল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টানা ১১ টেস্টে কোন না কোন ইনিংসে ৫০ বা তার বেশি রান ছিলই বাংলাদেশের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকের। হঠাৎ করেই শেষ ৩ টেস্টে ছন্দপতন ঘটে যায়। ৪০ রানের উর্ধে কোন ইনিংসই নেই। মুমিনুল আবারও পুরনো রূপে ফিরতে চান। এ জন্য অক্টোবরে যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ রয়েছে, সেই সিরিজের দিকেই তাকিয়ে আছেন। নিজেই বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি।’

মুমিনুল হককে প্রশ্ন করা হয়, গত কয়েক ম্যাচ ধরে ধারাবাহিকতা অনুপস্থিত। এর কারণ কী? এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে কী কাজ করছেন? মুমিনুল জানান, ‘কারণ বলতে, মানুষের মাঝে মাঝে একটা দুটি ইনিংসে কিংবা ম্যাচে এমন হয়। সবকিছু ঠিক থাকলেও এ রকমটা হতে পারে। তবে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ইনশাল্লাহ আবারও রানে ফিরব।’

বিশ্বকাপে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে পেরেছেন। এরপর আর কোন ওয়ানডেতেই মুমিনুলকে দেখা যায়নি। ওয়ানডে না খেলতে পারার হতাশা কী টেস্টে ঘিরে ধরেছে? মুমিনুল বললেন, ‘আমার মনে হয় না। চাপ বিষয়টি এ রকম, আপনি যখন ভাল খেলতে চাইবেন কিংবা কোন কিছু অর্জন করতে চাইবেন তখন আপনাকে ছোটখাটো সমস্যা কিংবা বিপদের মুখোমুখি হতেই হবে। আপনি যদি সব সমস্যার পর আবার নিজের সেরা অবস্থায় ফিরতে পারেন তাহলেই কেবল সবাই আপনার প্রশংসা করবে। আমি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি। ভাল ইনিংস খেলেই আমি ওয়ানডে দলে ডাক পেতে চাই।’

এই মাসেই বিদায় নিচ্ছেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যান মাইকেল ক্লার্ক এবং কুমার সাঙ্গাকারা। তাদের ব্যাটিংকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন এবং তাদের কাছ থেকে শেখার কি আছে কিংবা আপনি কী শিখেছেন? মুমিনুল বললেন, ‘আসলে ক্লার্কের বিপক্ষে আমার তেমন খেলা হয়নি। তাই খুব বেশি দেখার সুযোগ হয়নি যতটা হয়েছে সাঙ্গাকারার খেলা দেখার। সে (সাঙ্গাকারা) যখন উইকেটে ব্যাট করত আমি নিবিষ্ট মনে তাকিয়ে দেখতাম। বিশেষ করে স্পিন এবং পেসের বিপক্ষে তার টেকনিকগুলো। সে সারাদিন ধরে ব্যাট করে যেত কিন্তু কোন ভুলই করত না! তার কাছ থেকে শেখার তো অনেক কিছুই আছে। ক্লার্ক আমার খুব প্রিয় একজন ব্যাটসম্যান। সে চলে যাচ্ছে। একজন ভক্ত হিসেবে তো খারাপ লাগছেই।’

সাঙ্গাকারার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বললেন। একটু বিস্তারিত বলা যায়? মুমিনুল বিস্তারিত বললেনও, ‘আসলে তার যে দিকটা আমার সবার আগে চোখে পড়ে সেটা মানসিক শক্তিমত্তা। খুবই দৃঢ় মনোবলের একজন খেলোয়াড়। আপনি যদি মানসিকভাবে শক্তিশালী হন তাহলে যে কোন কন্ডিশনে, যে কোন পজিশনে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন।’

বাংলাদেশ খুব ভাল একটা সময় পাড় করছে। সামনে কঠিন একটা সিরিজ। কী আশা করছেন? মুমিনুল জানালেন ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা, ‘হ্যাঁ, আমরা আমাদের সেরা সময়টাই এখন পাড় করছি। আশা করছি সামনের সিরিজেও সেটা বজায় থাকবে। সবমিলে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ একটা সিরিজ প্রত্যাশা করছি।‘ এখন দেখা যাক, ব্যক্তিগতভাবে মুমিনুল ধারাবাহিকতা ফিরে আনতে পারেন কিনা। বাংলাদেশ দলও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কিনা।