২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংক্ষিপ্ত সংবাদ

  • ক্লান্ত চেক রানী কেভিতোভা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দুইবারের উইম্বল্ডন চ্যাম্পিয়ন পেত্রা কেভিতোভা। কিন্তু চলতি মৌসুমে একেবারেই নিষ্প্রভ চেকপ্রজাতন্ত্রের এই টেনিস তারকা। বিশেষ করে গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টে। চলতি বছর মেজর টুর্নামেন্টে তার সেরা পারফর্মেন্স ফ্রেঞ্চ ওপেনের চতুর্থ পর্ব আর উইম্বল্ডনের তৃতীয় পর্ব। অবশেষে তার নিষ্প্রভ পারফর্মেন্সের কারণ খোঁজে পেলেন ডাক্তাররা। ২৫ বছর বয়সী কেভিতোভা জানালেন দীর্ঘদিন ধরেই ক্লান্তি এবং অবসন্নতায় ভুগছেন তিনি। এ বিষয়ে তার মুখপাত্র কার্ল টেজকেল বলেন, ‘রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় বসন্তের সময় ক্লান্তি-আর অবসন্নতায় ভুগেছেন কেভিতোভা। এই মুহূর্তে কেভিতোভা তার কর্মপরিকল্পনা চালিয়ে যাবেন ঠিকই তবে ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে থেকেই সবকিছু করবেন তিনি।’

২০১১ সালে প্রথমবারের মতো মেজর শিরোপা জিতেন কেভিতোভা। গত মৌসুমে আবারও সেই উইম্বল্ডনের হারানো শিরোপা পুনরুদ্ধার করেন চেক তারকা। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই যেন হারিয়ে যান তিনি। শিরোপা ধরে রাখা তো দূরের কথা কোন গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ফলাফল তার চতুর্থ পর্ব। তবে এখনও হাল ছাড়েননি প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়। মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনের আগেই স্বরূপে ফিরতে মরিয়া তিনি। যে কারণে দুর্বলতা অনুভব করার পরও টরেন্টোতে রজার্স কাপে খেলছেন পেত্রা কেভিতোভা। চোটের কারণে চলতি মৌসুমে ইন্ডিয়ান ওয়েলস এবং মিয়ামি ওপেন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তিনি। এরপরই মাদ্রিদ ওপেন জিতেছিলেন বর্তমান টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের চতুর্থ স্থানে থাকা এই খেলোয়াড়।

গল টেস্টে অশ্বিন ঘূর্ণিতে ভারতের দিন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দুটি কারণে এই সিরিজে ক্রিকেট বিশ্বের বাড়তি দৃষ্টি। প্রথমত অবশ্যই বেজে ওঠা কুমার সাঙ্গাকারার বিদায়লগ্ন, দ্বিতীয়ত বিরাট কোহলি, যার নেতৃত্বে শুরু ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন যুগ। সব ছাপিয়ে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের আলো কেড়ে নিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অতিথি স্পিনারের ঘূর্ণি বিষে নীল হলো লঙ্কানরা। প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে অলআউট এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল। ক্যারিয়ারের তৃতীয়সেরা বোলিংয়ের পথে অশ্বিনের শিকার ৬ উইকেট। জবাবে ৩৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে সফরকারীদের সংগ্রহ ১২৮। শিখর ধাওয়ান ৫৩ এবং অধিনায়ক কোহলি ব্যাট করছেন ৪৫ রান নিয়ে। সব মিলয়ে গল টেস্টের প্রথম দিন ভারতের।

সকালে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে কিংবদন্তি সাঙ্গার জন্য প্লট তৈরি করতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক ম্যাথুস। কিন্তু দুরন্ত বোলিংয়ে ভারতীয় বোলাররা তা হতে দেননি। শুরুটা করেন দুই পেসার ইশান্ত শর্মা ও বরুণ এ্যারন। ওপেনার দিমুথ করুনারতেœকে (৯) ফেরান ইশান্ত। এ্যারন কুশল সিলভাকে (৫) তুলে নিলে ১৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপরই শুরু অশ্বিন ও অমিত মিশ্রর ঘূর্ণিজাদু। স্বাগতিকদের টুটি চেপে নিয়মিত উইকেট তুলে নেন তারা। লাঞ্চের আগে ৬৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে ম্যাথুসের দল। শেষ পর্যন্ত সংগ্রহটা ১৮৩ তে পৌঁছে মূলত ম্যাথুস (৬৪) ও দীনেশ চান্দিমালের (৫৯) দুই হাফসেঞ্চুরির কল্যাণে। ১৮৩/১০Ñ ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে এটি শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। ১৯৯৪ সালে আহমেদাবাদে ১১৯ রানে অলআউট হয়েছিল তারা।

বল হাতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন অশ্বিন। নিজের ১১তম ওভারে মধ্যেই ৫ উইকেট তুলে নেন দীর্ঘদেহী এই অফস্পিনার। ভারতের বাইরে এটি তার দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার। জুনে বাংলাদেশ সফরে ফতুল্লা টেস্টে ৮৭ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। গলে প্রথম ইনিংসে শেষ পর্যন্ত অশ্বিনের ফিগার ১৩.৪-২-৪৬-৬, টেস্টে দেশের বাইরে কোন ভারতীয় স্পিনারের সেরা বোলিংয়ের নজির স্থাপন করেন ২৮ বছর বয়সী চেন্নাই হিরো। গলের মাটিতে নিজের শেষ টেস্ট খেলতে নামা গ্রেট সাঙ্গাকারাকেও ফিরিয়েছেন তিনি। কয়েকটি বল সাঙ্গা ছেড়ে দিলেও গতিময় বাঁকের ওই ডেলিভারিতে সেই পথ খুঁজে পাননি। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে সিলি পয়েন্টে লোকেশ রাহুলের হাতে প্রাণ দিয়েছেন বিদায়ী সিরিজের আলোচিত তারকা। এরপর একে একে লাহিরু থিরিমান্নে, এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, জিহান মুবারক, ধাম্মিকা প্রসাদ ও রঙ্গান হেরাথকে তুলে নেন অশ্বিন। স্রোতের বিপরীতে বেপারোয়া হয়ে ওঠা চান্দিমালের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি তুলে নেন অমিত মিশ্র। ২০১১ সালের পর এই প্রথম টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়া লেগস্পিনার পরের বলেই ফিরিয়ে দেন থারিন্ডু কুশলকে, যদিও পরের বলে তাকে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত করেন হেরাথ। জবাবে ২৮ রানের মধ্যে লোকেশ রাহুল (৭) ও রোহিত শর্মাকে (৯) হারিয়ে শুরুতে ধাক্কা খাওয়া ভারতকে অবিচ্ছিন্ন ১০০ রান এনে দেন ধাওয়ান-কোহলি।

তবু ন্যুক্যাম্প ছাড়তে হচ্ছে পেড্রোকে!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গোলবন্যার ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করে নায়ক বনে যান পেড্রো রড্রিগুয়েজ। তার গোলেই সেভিয়াকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতেছে বার্সিলোনা। এরপরও ২৮ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের ন্যুক্যাম্পের ভাগ্য ধোয়াচ্ছান্ন। জোর গুঞ্জন আছে, এটিই হয়ত বার্সার জার্সিতে পেড্রোর শেষ ম্যাচ। তার নতুন ঠিকানা হতে পারে ইংলিশ পরাশক্তি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সম্প্রতি বার্সার টেকনিক্যাল সেক্রেটারি রবার্ট ফানার্ন্দেজ জানিয়েছেন, পেড্রো নিজেই নাকি বার্সা ছাড়তে চাচ্ছেন। তবে পেড্রো দাবি করেছেন, তিনি কখনই সরাসরি শৈশবের ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেননি। সাক্ষাতকারে পেড্রো বলেন, আমি এক বাক্যে বার্সা ছাড়ার কথা বলতে পারছি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে আমি সুখী নই। এ বিষয়ে অধিনায়ক, ক্লাব প্রেসিডেন্ট ও কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে রবার্ট ফার্নান্দেজের কথাটা সত্য নয়। কখনই আমি সরাসরি ক্লাব ছাড়ার কথা বলিনি। তিনি আরও বলেন, দলে আমাকে নিয়ে কিভাবে ভাবা হয় তা আমার জানা নেই। তবে সবসময়ই বার্সার সমর্থক হয়ে থাকব। যখন ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন ওঠে, তখন পরিস্থিতিটা আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল। সব সময় ক্লাবের হয়ে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। আমার লক্ষ্য হচ্ছে, দলের হয়ে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলা। সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে চাই না। জাতীয় দল স্পেনের হয়ে ৫১ ম্যাচে ১৬ গোল করা পেড্রো বলেন, যখন শুনলাম নেইমারের অসুস্থতার কারণে বদলি হিসেবে খেলতে পারব, তখন খুবই রাগান্বিত হই। আবারও বলছি, আমি বার্সা ছাড়তে চাই না। এখানে অর্থের কোন প্রশ্ন নেই। নিয়মিত দলের হয়ে খেলতে চাই। তবে পরিস্থিতিটা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে বার্সায় থাকার সৌভাগ্য হোক বা না হোক দলটির সেরা তারকা লিওনেল মেসির প্রশংসা ঠিকই কুড়িয়ে নিয়েছেন পেড্রো। ক্লাবের সঙ্গে পেড্রোর কি হয়েছে তা জানতে চান না মেসি। বরং তাকে কিভাবে ধরে রাখা যায় কর্তৃপক্ষকে তা ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন চারবার ফিফা ব্যালন ডি’ওর জয়ী মেসি। তিনি বলেন, বার্সার হয়ে পারফর্ম করুক পেড্রো। আমি জানি না, কি হয়েছে। আর তা জানতেও চাই না। তবে তাকে তার যোগ্যতার পুরস্কার দেয়া উচিত।

সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় বিসিবি

সালমাদের পাকিস্তান সফর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘পাকিস্তান সফর নিয়ে আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। বিসিবি চাইলে তো আমাদের যেতেই হবে। তবে সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে, তা একজন সাধারণ মানুষের মনেও ভীতি জাগাবে। স্বাভাবিক কারণে আমাদের মধ্যেও কিছুটা ভয় কাজ করছে।’ কয়েকদিন আগে কথাগুলো বলেছিলেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন। তার কথাতেই বোঝা যাচ্ছে, পাকিস্তান সফর নিয়ে কতটা ভয়ে আছেন সালমারা। এরপরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চাচ্ছে, বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটারদের পাকিস্তানে সফর করাতে। তিন ওয়ানডে ও এক টি২০ ম্যাচের সিরিজ খেলাতে। যে দেশে কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরামের জীবনও ঝুঁকিতে থাকে। তার উপর হামলা হয়, সেই দেশে অন্য দেশের ক্রিকেটাররা কিভাবে নিরাপদ থাকে? তাই তো সালমা খাতুন বলেছেন, ‘ওয়াসিম আকরামের মতো ক্রিকেটারের ওপর হামলা হয়েছে কিছুদিন আগে। তাতে বোঝাই যাচ্ছে সেখানকার নিরাপত্তার অবস্থা কেমন। আমরা আশা করছি বিসিবিও ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবে।’ বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্য সরকারের গ্রীন সিগনেলের অপেক্ষাতেই আছে। সালমা খাতুন কেন, দলের কোচ শ্রীলঙ্কান চম্পিকা গামাগেও পাকিস্তান সফর নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার কথাতেই পরিষ্কার, ‘পাকিস্তান সফরে যেতে আমার কোন আপত্তি নেই। তবে বিসিবি নিশ্চয়ই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ কিছুদিন আগেও ওয়াসিম আকরামের ওপর হামলা হয়েছে।’ ওয়াসিম আকরাম কেন, পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক যে দলই খেলতে যায়, তাদের ওপরই হামলা হয়। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর জঙ্গী হামলা হয়। এরপর প্রায় ৬ বছর টেস্ট খেলুড়ে কোন দলই পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে যায়নি। অবশেষে জিম্বাবুইয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারাও বিপত্তির মধ্যেই পড়েছিল। জিম্বাবুইয়েকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল’ নিরাপত্তাই দেয়া হয়েছিল। বুলেটপ্রুফ গাড়িতে হোটেল থেকে মাঠ, মাঠ থেকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপরও যখন সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে চলে, এমন সময় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। ক্রিকেটারদের ওপর কোন আঘাত আসেনি। তবে হামলায় একজন সাব-ইন্সপেক্টরসহ ২ জন নিহত হন। এরপর জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেটাররা তৃতীয় ওয়ানডের আগে আর মাঠেই যায়নি। সিরিজ শেষ করেই নিজ দেশ চলে যায়। তবে এ হামলা আবারও বিশ্ব ক্রিকেটকে পাকিস্তানে যাওয়া নিয়ে ভাবিয়ে তোলে। সেই লাহোরেই বিসিবি চাচ্ছে বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটাররা পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেটারদের সঙ্গে সিরিজ খেলুক। সরকারের গ্রীন সিগনেল পেলেই নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল পাঠানো হবে। বাংলাদেশের একটি ক্রিকেট দলকে পাকিস্তান সফরে নিতে কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এক্ষেত্রে বার বারই প্রধান বাধা হয়ে এসেছে দেশটির নিরাপত্তা ইস্যু। যা এখনও বিদ্যমান। যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক থাকে তাহলে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলকে পাকিস্তানে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিসিবি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে পাকিস্তান সফরের আগে সেখানে পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বিসিবি।