১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মনুষ্যত্ববোধ কবে জন্মাবে?

  • খন্দকার মাহ্বুবুল আলম

‘শিশুদের প্রতি নৃশংসতা’ অসুস্থ সমাজের এক বীভৎস চিত্র। যা সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে চেলেছে। যেখানে সভ্য দুনিয়ার দেশে-দেশে শিশুদের অধিকার ও তাদের সার্বিক কল্যাণে তারা কাজ করে যাচ্ছে, তখন আমাদের দেশের শিশু-কিশোররা নৃশংসতার শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে সঙ্গত কারণে এক নজরে দেখা যাক, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের প্রতি নৃশংসতার চিত্র। সিলেটের কুমার গাঁওয়ে শিশু রাজনকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেদিন এ শিশুটির বাঁচার আকুতি নির্যাতনকারীদের হৃদয় স্পর্শ করেনি। এ ঘটনার পর গত ৩ আগস্ট খুলনায় মোটরসাইকেল গ্যারেজের শিশুশ্রমিক রাকিবকে গ্যারেজে কাজ না করার কারণে তার পায়ুপথে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেয়ার পাইপ ঢুকিয়ে পেটে হাওয়া প্রবেশের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মানুষের হাতে মানুষ হত্যার আর কি কৌশল থাকতে পারে জানি না। ১৩ এপ্রিল রাজধানীর খিলক্ষেতে কিশোর নাজিমকে কবুতর চুরির অভিযোগে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ বালু নদীতে ফেলে দেয় খুনিরা। এ লেখা প্রস্তুতকালে পত্রিকায় দেখলাম, চাঁদপুরে অলৌকিক ক্ষমতার (?) প্রমাণ দেখাতে বাবা-মা মিলে সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। একই দিনে বরগুনায় মাছ চুরির অভিযোগে রবিউল নামের ১০ বছরের আরেক শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ রকম আরও অনেক শিশুর প্রতি নৃশংসতার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে, যার সবটুকু উল্লেখ করা সম্ভব নয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা অতীতের তুলনায় খানিকটা উন্নতি লাভ করলেও মানবিক ও নৈতিক দিক থেকে এখনও পিছিয়ে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগেÑ মনুষ্যত্ববোধ কবে জন্মাবে?

ভাবতে অবাক লাগে একি মানুষের কা-? যেখানে মানুষের প্রকৃত ধর্ম ‘মনুষ্যত্ব’ প্রতিষ্ঠিত হয় না, সেখানে ‘মানবতা’ বারে-বারে লঙ্ঘিত হয়। মানুষ বললেই ‘মানুষ’ হওয়া যায় না, প্রয়োজন মানবিক গুণাবলী। জ্ঞানানুশীলনের উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে কিছু মানুষ মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়। এ রকম মানুষদের পক্ষেই সম্ভব পৈশাচিক উল্লাসে মেতে ওঠা। ওরাই পারে একটি মানবশিশুর জীবনপ্রদীপ নির্মমভাবে নিভিয়ে দিতে। কারণ ওরা জ্ঞানহীন। জ্ঞানের আলো থেকে ওরা বঞ্চিত। ফলে ওদের জীবনযাপনও যৌক্তিক হয়ে ওঠে না। ওরা হয়ে ওঠে অমানবিক। একমাত্র মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্ভব এই অন্ধকার দূর করা। এ রকম মানবিক সমাজপ্রতিষ্ঠা করতে হলে চাই মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ। এই বোধটুকু সৃষ্টি করতে হলে সর্বত্রই অতি গুরুত্বসহকারে শিক্ষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির সাবলীল চর্চা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তবেই সৃষ্টি হবে মানুষের মধ্যে যুক্তিবোধ। আর সেই যুক্তিবোধ থেকেই সৃষ্টি হবে সুন্দর এবং নির্মল পরিবেশ। সেই ক্ষেত্র যতক্ষণ না তৈরি হবে, ততক্ষণ আমরা মানবিক সমাজ গঠনে সফলকাম হব না।

হালিশহর, চট্টগ্রাম থেকে

নির্বাচিত সংবাদ