১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিশুবান্ধব সমাজ নির্মাণে-

  • রাসমান মুবতাসিম স্বর্গ

ছোটবেলায় স্কুলে ভর্তির সময় বাবা-মাকে আলোচনা করতে শুনেছি, ‘জিলা স্কুলে পড়াশোনা বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ঐ স্কুলটা ভাল।’ খেলার মাঠ বা পরীক্ষার হল, সবখানেই তুমুল প্রতিযোগিতা সকলের আকাক্সিক্ষত। আজও আমরা দেখছি এক প্রতিযোগিতা। কিন্তু এ প্রতিযোগিতা কারো প্রার্থিত নয়, এই প্রতিযোগিতা নৃশংসতার, এ প্রতিযোগিতা বর্বরতার। ‘শিশু নির্যাতন’ নামক এই প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক কোন ব্যাধির মতোই। শিশু রাজনের হত্যার ঘটনায় আমরা যখন বিস্ময়ে হতবাক, তখন আরও বেশি নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো রাকিবসহ বেশ ক’জনকে। দেশের সকল বিবেকবান মানুষের মনে আজ একটাই প্রশ্ন, ‘কেন এই নৃশংসতা? মানুষের ন্যূনতম মানবিকতাটুকুও কি তবে জাগ্রত হবে না?’ মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার মতে, শিশু নির্যাতন হলো শিশুদের প্রতি যে কোন ধরনের শারীরিক বা মানসিক অসদাচরণ। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যানে দেখা যায় গত সাড়ে তিন বছরে এদেশে ৯৬৮ শিশুকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এবং এই সংখ্যা প্রতি বছর ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সত্যি কথা বলতে, শৈশবে কোন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়নি, এমন মানুষ এদেশে খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। যারা ছোটবেলা থেকে বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা সবার কাছ থেকে পেয়ে এসেছে শুধুই লাঞ্ছনা, যাদের সামনে তাদের অভিভাবক শিক্ষকদের বলেছেন, ‘কথা না শুনলে আমার ছেলেকে মেরে পিঠের ছাল তুলে ফেলবেন’, যাদের সামনে সামান্য অপরাধে গৃহকর্মীকে দেয়া হচ্ছে জ্বলন্ত শিকের ছ্যাঁকা, তাদের কাছ থেকে একজন দরিদ্র পথশিশুর জন্য কতটুকু মমতাই বা আমরা আশা করতে পারি? তাদের পক্ষে নিজের ছেলের বয়সী একটা ছেলেকে মারতে মারতে হত্যা করে ফেলাও কি অস্বাভাবিক কোন ঘটনা? তবে এসব কিছু নয়, আমার মতে শিশু নির্যাতনের প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য এবং অশিক্ষা। আমাদের দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। তারা একজন শিক্ষিত সন্তানের চেয়ে পরিবারে একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বৃদ্ধিতে বেশি জোর দেন। যে কারণে পৃথিবীকে চেনার আগেই একজন শিশুকে বের হতে হয় অন্নের সংস্থান করতে। এ সময় অতিক্ষুদ্র ভুলের জন্যও তাদের হতে হয় বড় নির্যাতনের শিকার। তারা দেশে বিদ্যমান আইনগুলো সম্পর্কেও অবগত নয় যেগুলো তাদের বিচার পেতে সহায়তা করতে পারে। তাদের এই দারিদ্র্য আর অশিক্ষার সুযোগ নিচ্ছে নির্যাতনকারীরা। একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েও কোন বিচারের সম্মুখীন হচ্ছে না তারা। এই পরিস্থিতি রোধে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সচেতন মানুষদেরই। সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলতে হবে শিশুবান্ধব একটি সমাজ, যেখানে আমরা দুঃস্বপ্নে রাজনে-রাকিবদের হাহাকার শুনব না। স্বপ্নে ভেসে উঠবে একটি সবুজ মাঠের ছবি যেখানে শিশুরা হই চই করে খেলছে, মুক্তির বাঁধভাঙ্গা আনন্দ নিয়ে।

দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে