২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘জয়ী’র টরন্টো জয়

‘মেয়েটার যে ক’টা কোয়ালিটি আছে, এই নাটকে পরিচালক তার সবকটিই ব্যবহার করে ছেড়েছেন। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় যে কিনা ঠিকমতো বাংলাই বলতে পারে না, সেই মেয়ে কি সুন্দর বাংলা নাটকের সংলাপ বলে যাচ্ছে!’- আলোচনাটা করছিলেন কয়েক দর্শক। ‘জয়ী’ নাটক দেখে নাটকের অন্যতম আকর্ষণ নিধাপ্রথ প্রশান্তি নির্ঝুমকে নিয়ে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন দর্শকদের কয়েকজন। কেবল নির্ঝুমই নয়, ‘জয়ী’র কলা কুশলীদের সবাইকে নিয়েই আলোচনা হয়েছে, বলাই বাহুল্য সেই আলোচনাটা ইতিবাচক আলোচনা।

প্রবাসে দেশজ সংস্কৃতি বিকাশের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু“করা অন্য থিয়েটারের পরিবেশনায় টরন্টোতে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘জয়ী’। শনি এবং রবিবারে নাটকিটির পরপর তিনটি শো পরিবেশিত হয় রয়্যাল কানাডিয়ান লিজিয়ন হলের মিলনায়তনে।

জয়া, জয় এবং জীবন তিনটি চরিত্রের সম্পর্ক এবং টানাপড়েন নিয়ে ‘জয়ী’ নাটকের কাহিনীর বিস্তৃতি। শামীম আহসানের লেখা এই নাটকটির নিদের্শনায় ছিলেন প্রবাসের জনপ্রিয় নাট্যনির্দেশক ও আবৃত্তিশিল্পী আহমেদ হোসেন। আর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মানিক চন্দ, নিশিথ প্রশান্তি নির্ঝুম, হাবিবউল্লা টরি ও জহিরুল ইসলাম।

মানিক চন্দ পেশাদার অভিনেতা। ঢাকা পদাতিকের দীর্ঘদিনের কর্মকর্তা এবং অভিনেতা হিসেবে মহিলা সমিতি মঞ্চের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তিনি। প্রবাসে অভিনয় করতে এসেও যেন পুরনো দক্ষতাকেই নতুন করে তুলে ধরেছেন দর্শকদের সামনে। ‘জয়ী’ নাটকে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি যেন প্রবাসে বেইলি রোডের মহিলা সমিতির মঞ্চের ফ্লেভারটিই দিয়েছেন দর্শকদের।

নাটকের অন্যতম আকর্ষণ এবং চ্যালেঞ্জ ছিল নিশিথ প্রশান্তি নির্ঝুম। প্রবাসে বেড়ে উঠা নির্ঝুম ২০০৫ সালে আকতার হোসেনের নির্দেশনায় ‘আলতা বানু’ নাটকে অভিনয় করেছিল। এরপর তিনি জড়িয়ে পড়েন কানাডার মূলধারার থিয়েটারের সঙ্গে। মূলধারার নাটক এবং নৃত্যে দাপটের সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা নির্ঝুম মূলত কাজ করেন ইরেজী ভাষায়। দীর্ঘদিন পর কমিউনিটি মঞ্চে বাংলা ভাষার একটি নাটকে তিনি অভিনয় করলেন। বাঙালী একটি মেয়ের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন নির্ঝুম।

হাবিবউল্লা টরি, জহিরুল ইসলাম কমিউনিটির পরিচিত অভিনেতা। বরাবরের মতোই তারা তাদের অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছেন ‘জয়ী’ নাটকে।

নাটকের নির্দেশক আহমেদ হোসেন বলেছেন, প্রবাসে বাংলা নাট্যচর্চাকে পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতেই তারা অন্য থিয়েটারের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ পর্যন্ত তাঁরা ৭টি নাটক প্রয়োজনা ও মঞ্চস্থ করেছেন। ‘জয়ী’ তাদের অষ্টম প্রযোজনা। আহমেদ হোসেন বলেন, প্রবাসের মঞ্চে ‘জয়ী’র শততম মঞ্চায়ন করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।

‘জয়ী’ নাটকের সফল মঞ্চায়নে নেপথ্যে সহযোগিতা করেছেন যথাক্রমে মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় জহিরুল ইসলাম ও আসিফ, পোশাক ও রূপ সজ্জায় শারমিন শর্মী, সেট গোলাম হিলালী, আবহ সঙ্গীতে তানজীর আলম রাজীব, আলোকসম্পাতে এনায়েত করীম বাবুল ও আমিনুল ইসলাম খোকন, নেপথ্য কণ্ঠে ফারহানা শান্তা ও আসিফ। দর্শনীর বিনিময়ে বিপুলসংখ্যক দর্শক একাগ্র মনোযোগ দিয়ে নাটকটি উপভোগ করেছেন, অভিনয়ের দক্ষতায় দর্শক-শ্রোতাদের ফিসফাস, নড়াচড়া থেকে বিরত রাখতে পেরেছে- এটিই সম্ভবত ‘জয়ী নাটকের মঞ্চায়নের সফলতা নির্দেশ করে।

আনন্দকণ্ঠ ডেস্ক