২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফিরলেন কেয়া

কেয়া কেমন? কেয়া ঠিক এমন, একটু ধীরে চলেন তিনি। অন্য অনেকের মতো একের পর এক চলচ্চিত্রে যেমন তিনি কাজ করেন না কিংবা কাজ করার পক্ষপাতিও নন ঠিক তেমনি কেয়া নিজেকে নিয়ে আলোচনার অপেক্ষাতেও থাকেন না কখনও। কেয়া কাজ করেন নীরবে নিভৃতে আর কাজের মধ্যদিয়েই নিজের মেধাকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। যশোহরের মেয়ে কেয়ার জন্ম ১২ অক্টোবর। যে বয়সে চলচ্চিত্র কী, তাই জানা থাকে না অনেকের সেই বয়সে তিনি চলচ্চিত্রের নায়িকা হয়েছেন মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কঠিন বাস্তব’ চলচ্চিত্রে। তারপরের ইতিহাস নতুন পুরোনা দর্শকের জানা। কেয়ার পর্দায় উপস্থিতি দর্শক তার প্রেমেতে মশগুল হয়েছেন। হ্যাঁ, সেই প্রেমেতে আবারও পড়েছেন দর্শক সাফি উদ্দিন সাফি পরিচালিত ও মুভি প্ল্যানেট মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘ব্ল্যাকমানি’ চলচ্চিত্রে কেয়ার অভিনয়ে। অসাধারণ এক চরিত্র চিত্রণ করেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু তার লেখা ‘ব্ল্যাকমানি’ চলচ্চিত্রে কেয়াকে নিয়ে। শুধু তাই নয় কবির বকুল তার গানে গানে কেয়াকে উপস্থাপন করেছেন প্রেমমীয় এক নারীরূপে। কেয়া বলেন, ‘এ পর্যন্ত অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি আমি। নানা ধরনের চরিত্রে আমাকে দেখা গেছে। তবে ‘ব্ল্যাকমানি’তে দর্শক আমাকে সত্যিই নতুনরূপে দেখেছেন। যে কারণে চলচ্চিত্রটি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এই চলচ্চিত্রে যারা কাজ করেছেন সবাই আমাকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেছেন। একটি চরিত্রে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে টিমওয়ার্কের বিকল্প নেই। ‘ব্ল্যাকমানি’তে সেই টিমওয়ার্কটা ছিল। তাই এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী ছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল দর্শকের কাছে ব্ল্যাকমানি হবে এই সময়ের উপযোগী একটি চলচ্চিত্র এবং হয়েছেও ঠিক তাই।’ ‘ব্ল্যাকমানি’তে কেয়ার বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক সাইমন। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন লাক্স তারকাভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। এরইমধ্যে কেয়া অভিনীত ‘ব্ল্যাকমানি’ চলচ্চিত্রের প্রায় প্রতিটি গানই ইউটিউবে এবং দর্শকের মাঝে বেশ আলোচনার ঝড় তুলেছে। বিভিন্ন চ্যানেলেও নিয়মিতভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটির গান। পুরো সপ্তাহজুড়ে কেয়া ছুটেছেন রাজধানীর এই হল থেকে ওই হলে কিংবা কোন টিভি চ্যানেলে। যতভাবে নিজের অভিনীত চলচ্চিত্রটির প্রচারণা করা যায় যেন তাই নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন কেয়া। তার এই দৌড়ঝাঁপে সঙ্গী হিসেবে ছিলেন নায়ক সাইমন ও মৌসুমী হামিদও। ২০০১ সালে কঠিন বাস্তব মুক্তির পর ‘রংবাজ বাদশা’, ‘ভালোবাসার শত্রু’, ‘দিওয়ানা মাস্তান’, ‘সাহসী মানুষ চাই’, ‘নষ্ট’, ‘মহব্বত জিন্দাবাদ’সহ আরও বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়িকায় পরিণত হন কেয়া। কিন্তু ২০০৪ সালে যশোহর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় কেয়ার ভাই রয়েল মারা যান এবং তার মা পায়ে প্রচ- আঘাত পান।

কেয়ার পরিবারে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন কেয়া। চলচ্চিত্র পরিবার থেকেও দূরে সরে যান কেয়া। একসময় সবকিছু সামলে উঠে আবারও ফিরে আসেন কেয়া তার চিরচেনা রুপালি জগতে। কেয়া নিজেকে খুব সৌভাগ্যবতী মনে করেন। কারণ তিনি নায়করাজ রাজ্জাকের মতো জীবন্ত একজন কিংবদন্তির সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পেরেছেন। ‘কঠিন বাস্তব’ চলচ্চিত্রে নায়করাজ ছিলেন কেয়ার বাবা। এদিকে কেয়া অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র হচ্ছে নায়করাজের ‘আয়না কাহিনী’।

কেয়া বলেন, ‘সত্যিই এটা আমার জন্য গর্বের বিষয় যে আমি নায়করাজ রাজ্জাক আঙ্কেলের সঙ্গে একই চলচ্চিত্রে এবং তার নির্দেশনাতেও চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পেরেছি। আল্লাহ তাকে সবসময় সুস্থ রাখুন, ভাল রাখুন।’ এদিকে কেয়া ও সাইমন অভিনীত শাহীন সুমন পরিচালিত ‘মন শুধু তোমারই’ চলচ্চিত্রের কাজ প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে।

খুব শিগগিরই কেয়া নতুন চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হবেন। শুরু হবে ‘ব্ল্যাকমানি’র পর নতুন আরেক কেয়ার পথচলা। চলচ্চিত্রের সবার এবং দর্শকের আশীর্বাদের ছায়াতলে থাকুক কেয়া, এই শুভ কামনা।