২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এমন কোন কাজ করবেন না যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পায় ॥ তোফায়েল

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন বিতর্কিত কাজ না করতে যুবলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এমন কোন কর্মকা- করবেন না, যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পেয়ে যায়। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- কলঙ্কিত না হয়। ষড়যন্ত্র হবে, ষড়যন্ত্র অতীতেও হয়েছিল। কিন্তু নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ কোন কিছু করতে পারবে না।

বুধবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুবলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, শহীদ সেরনিয়াবাত, ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরণ, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ইসমাইল হোসেন, রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।

৫ জানুয়ারি নির্বাচন উত্তর ও পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংসতার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে তোফায়েল আহমেদ বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন যে, শেখ হাসিনা সরকারের পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন না। কিন্তু ৯২ দিন পরে কোর্টে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে তিনি ঘরে ফিরে গিয়েছেন। খালেদা জিয়া ঘরে ফিরলেও ফিরেনি পেট্রোল বোমায় নিহত সেই অসহায় মানুষের সন্তানরা, নিষ্পাপ শিশুরা।

তিনি বলেন, পাকিস্তানী সেনারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে সাহস পায়নি। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, পাকিস্তান সামরিক জান্তারা তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের যে, বাঙালীর হাতেই জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলেরর ষড়যন্ত্রের কারণেই তাঁকে হত্যার শিকার হতে হয়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধী চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। জিয়াই প্রথমে রাজাকারদের পুনর্বাসন করছেন। আর তাঁর হাত ধরেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি (খালেদা) মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সংগঠন জামায়াতের শক্তির ওপর ভর করে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন। খালেদা জিয়া রাজাকার নিজামী-মুজাহিদের হাতে পতাকা দিয়ে আমাদের হাতকড়া পরিয়েছিলেন। বাংলাদেশে জঙ্গী সৃষ্টির মূল কারিগর হলেন খালেদা জিয়া। না হলে তাঁর আমলে বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি হতো না, মানুষকে গাছে ঝুলিয়ে মারা হতো না। ’৭১-এর পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিঃশেষ করতে এখনও তৎপর। এই ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা দৃঢপ্রতিজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু যেমন লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোতেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ষড়যন্ত্রকারীরা শত চেষ্টা করেও এই অগ্রযাগ্রা ব্যাহত করতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর জিয়াউর রহমানই সবচেয়ে সুবিধা ভোগ করেছিলেন। আর এ থেকেই প্রমাণিত হয় বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে জিয়ারও ষড়যন্ত্র ছিল।

বঙ্গবন্ধু পরিবার ঝুঁকির মধ্যে- সংস্কৃতিমন্ত্রী নূর ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মন্তব্য করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারী ও সুবিধাভোগী কে মানুষ তা জানে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া (জিয়াউর রহমান) ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এরপর তিনি রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যতটা জেনেছি, সেনাবাহিনীর বিপথগামী সৈনিকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। জিয়া এ হত্যাকারীদের বিচার না করে পুরস্কৃত করেছেন এবং পুরস্কার হিসেবে নিজেও দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমানকে তার দলের লোকেরা মুক্তিযোদ্ধা বললেও মুক্তিযুদ্ধকালে তার বীরত্বের কোন কাহিনী খুঁজে পাওয়া যায় না। আসলে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জিয়া মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এ ষড়যন্ত্রকারীরাই বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এখনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংগঠনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সুজিত রায় নন্দী, বিশিষ্ট অভিনেতা ড. এনামুল হক, জোটের সভাপতি সালাউদ্দিন বাদল প্রমুখ।