২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জনকণ্ঠ সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের প্রতিকী সাজা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে প্রতিকী সাজা দিয়েছে আদালত।

পত্রিকায় প্রকাশিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিচারপতিদের ‘যোগাযোগের’ তথ্য সংবলিত কলামকে আদালত অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করে তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করে আজ বৃহস্পতিবার কোর্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে বসে অবস্থান করার নির্দেশ দেন আদালত। এটাই তাদের দণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। আজ কোর্ট চলার কথা রয়েছে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত। সে হিসেবে সোয়া ১টার পরই তাদের সাজা শেষ।

পাশাপাশি দুজনকে দশ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। তা আগামী সাতদিনের মধ্যে যে কোন চ্যারিটেবল ফান্ডে দিতে বলা হয়।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বৃহত্তর আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রায় ঘোষণা শুরুর সময় মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও স্বদেশ রায় আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের আসনে বসে ছিলেন। প্রধান বিচারপতির রায় পড়া শেষ করতে সাত মিনিটের মত সময় লাগে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই জনকণ্ঠ পত্রিকায় উপসম্পাদকীয়তে প্রকাশিত ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা/পালাবার পথ কমে গেছে’ নিবন্ধটি প্রকাশিত হয় । যা লেখেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।

ওই নিবন্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এরপর গত ২৯ জুলাই বুধবার যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়ার পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ স্বপ্রনোদিত হয়ে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। এতে ৩ আগস্ট তাদের আদালতে তলব করা হয়। জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিচারপতিদের ‘যোগাযোগের’ তথ্য সংবলিত স্বদেশ রায়ের লেখা কলামের ব্যাখ্যা চায় আদালত।

এরপর ৩ আগস্ট সকাল ৯টায় সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও স্বদেশ রায় আদালতে হাজির হন। তাঁদের আইনজীবী জবাব দানের জন্য ৩ মাসের সময় চাইলে আদালত ৯ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করেন। সেদিন শুনানির পর পুনরায় ১০ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ। ওই দিন শুনানি শেষে ১৩ আগস্ট রায় ঘোষনার দিন ধার্য করা হয়।