১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবৈধভাবে বাড়ি দখল করিনি- কাজী ফিরোজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাড়ি দখলে অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয় পার্টির নেতা ও ঢাকা-৬ আসনের সাংসদ কাজী ফিরোজ রশিদ বলেছেন, ‘আমি অবৈধভাবে কোন বাড়িটি দখল করিনি। যদি অবৈধভাবে দখল নিতাম তাহলে মন্ত্রী থাকা অবস্থায় তা করতাম’

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জালিয়াতির মাধ্যমে ধানমন্ডিতে সরকারি বাড়ি দখলের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রায় দুই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, দুদক আজ শুধু কাগজপত্র চেয়েছিল। এজন্য কাগজপত্র নিয়ে এসেছি । এ ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি কোন বাড়ি দখল করিনি। যদি অবৈধভাবে বাড়িটি দখল নিতাম তাহলে মন্ত্রী থাকা অবস্থায় তা করতাম।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির মালিকরা ইতিমধ্যে অমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সাব-জুডিসিয়াল কোর্ট এ মামলায় আমার পক্ষে রায় দেয়। পরবর্তীতে মালিকপক্ষ আবার আপিল করে। ফলে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। যেহতেু বিচারাধীন বিষয় তাই এ ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।

দুদকের উপ-পরিচালক ও অভিযোগটির অনুসন্ধানি কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্র জানায়, রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডে অবস্থিত এক বিঘা আয়তনের ১০ নম্বর (পুরাতন ৭০) প্লটটি ভুয়া দাতা সাজিয়ে আত্মসাৎ করেন কাজী ফিরোজ রশীদ। এক সময় বাড়িটির মালিক ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী। পরে তার উত্তরাধিকারীরা বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে লিজ নেন। মোহাম্মদ আলীর ওয়ারিশ মাহমুদ আলীর তত্ত্বাবধানে বাড়িটি থাকা অবস্থায় তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী সাফিয়া আলী নিজ দখলীয় সম্পত্তি দাবি করে জাল কাগজপত্র তৈরি করে কাজী ফিরোজ রশীদের কাছে হস্তান্তর করেন।

অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে ইতিমধ্যে দুদক কর্মকর্তা গণপূর্ত, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করেন দুদক কর্মকর্তা। প্রাক্তন মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল অভিযোগ চলতি বছরের ৮ মার্চ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এর একদিন পর উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীকে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা ও পরিচালক মো. নূর আহাম্মদকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় দুদক।