১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিল্পকলায় তারেক মাসুদ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী যৌথভাবে আয়োজন করছে ′তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর স্মরণে...′ শীর্ষক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও স্মরণ অনুষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে বিকাল চারটায় অনুষ্ঠান উদ্বোধনের কথা রয়েছে। বিকাল সাড়ে চারটায় তারেক মাসুদ নির্মিত ‘রানওয়ে’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নরসুন্দর’ প্রদর্শিত হবে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ নিহত চলচ্চিত্রকর্মীদের স্মরণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পর শুরু হবে স্মরণসভা। তারেক মাসুদের কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করবেন ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি স্থপতি লাইলুন নাহার স্বেমি, চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম, চলচ্চিত্র গবেষক ড. সাজেদুল আউয়াল, চলচ্চিত্র নির্মাতা জাঈদ আজিজ।প্রারম্ভিক আলোচনা করবেন ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রদর্শিত হবে তারেক মাসুদ নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘আদম সুরত’।

এদিকে প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নূরপুর গ্রামেও থাকছে আয়োজন। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত তারেক। বিকাল তিনটার দিকে নূরপুর গ্রামের পারিবারিক আয়োজনে থাকছেন তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ।

১৭ অগাস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে তারেক মাসুদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও তাঁকে নিয়ে একটি স্মরণসভার আয়োজন করবে। তাতে ক্যাথরিন মাসুদ তারেক মাসুদের প্রামান্যচিত্র ও চলচ্চিত্র ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রসূন। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম ক্লাবও একটি অনুষ্ঠান করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০১১ সালের ১৩ অগাস্ট শুটিং লোকেশন দেখে ঢাকায় ফেরার পথে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুড়ির কাছে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীর প্রাণ হারান। একই দুর্ঘটনায় মারা যান আরও তিনজন।

ছাত্রাবস্থাতেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন তারেক মাসুদ। ১৯৮২ সালে তিনি চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জীবনের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় তারেক মাসুদ-ক্যাথরিনের ‘মুক্তির গান’। এই প্রামাণ্যচিত্রটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ২০০২ সালে তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ মুক্তি পায়। ২০১০ সালে পোশাক শিল্পের নারীশ্রমিক, ক্ষুদ্রঋণনির্ভর এনজিও কার্যক্রম এবং বিদেশে অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনার মতো বিষয় নিয়ে তিনি নির্মাণ করেন ‘রানওয়ে’ সিনেমাটি।