২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্লগার হত্যা ॥ নিউ ইয়র্কে গান, কবিতা, ছবিতে প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক ॥ ছবি, গান আর কবিতায় বাংলাদশের মাটিতে লেখক-ব্লগার হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক প্রবাসী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

বুধবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘প্রতিবাদই প্রতিরোধ’ নামের এই কর্মসূচি থেকে ব্লগার হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের যুক্তরাষ্ট্র শাখার এই আয়োজনে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী চিত্র অঙ্কন করেন প্রবাসী তিন চিত্রশিল্পী মাসুদা কাজী, ফজলে আলী কচি ও কাজী রকিব।

গত শুক্রবার ঢাকার পূর্ব গোড়ানে ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে এবছরই ঢাকায় লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও সিলেটে অনন্ত বিজয় দাশকে একই কায়দায় খুন করা হয়।

কাজী রকিবের আঁকা শান্তির পায়রার ক্ষত-বিক্ষত দেহ এবং বিস্ফোরিত চোখ যেন সেই হত্যাকাণ্ডের বিভৎসতাই ফুটিয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মুক্তমনা মানুষগুলোকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ আমার। শান্তিপ্রিয় মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে নির্বিচারে।

মাসুদা কাজী বলেন, কেন ঘন অনামিশায় ছেয়ে যাচ্ছে বাংলার মুক্ত আকাশ। কেন এমন হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেতেই আমি কালো মেঘে ঢাকা বাংলার আকাশ এঁকে প্রতিবাদে সাথী হলাম।

ফজলে আলী আঁকেন তালাবন্ধ মানুষের মুখচ্ছবি। তিনি বলেন, “ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ যদি সমালোচনা করে, তাহলে তার জবাব দিতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে, যুক্তির মাধ্যমে। অথচ বাংলাদেশে মুক্তমনাদের মুখে তালা লাগানোর জঘন্য অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমার ছবি সে কথাই বলছে।

একদিকে চিত্রাঙ্কন, আরেকদিকে প্রতিবাদি মানুষের কন্ঠে দেশের গান, মুক্তির গান। পাশাপাশি সমবেত প্রবাসীরা এ অনুষ্ঠানে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন তাদের বক্তব্যে, কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে।

লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিক ও লেখক হাসান ফেরদৌস খুনিরা ধরা না পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে, বাঙালি হিসেবে, একজন প্রবাসী হিসেবে আমরা মনে করি হত্যাকারীদের ধরার ব্যাপারে সরকারের আরও তৎপর হওয়া উচিত। আমরা মনে করি, সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট নয়। এ ধরনের হত্যার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিকভাবে সবাইকে সক্রিয় হওয়ারও আহবান জানান হাসান ফেরদৌস।

একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা জামালউদ্দিন হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে আবার পিছিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হত্যাজ্ঞ চালানো হচ্ছে ধর্মের দোহাই দিয়ে।

এহেন বর্বরতার বিরুদ্ধে সমগ্র মুসলিম সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘে গিয়ে আবেদন জানাতে হবে যে, ধর্মের দোহাই দিয়ে অবিরতভাবে বিধর্মের আচরণ চলতে দেয়া উচিত নয়।

অন্যদের মধ্যে সাংবাদিক সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ, ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, মিনহাজ সাম্মু, অভিনেত্রী রওশন আরা হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। কবিতা আবৃত্তি করেন তাহরিন পারভিন, পারভিন সুলতানা। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এ সমাবেশে যোগ দেন।