২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়ক দুর্ঘটনায় জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে- মানববন্ধনে বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সড়ক দুর্ঘটনা মহামারী আকার ধারণ করেছে। এতে একদিকে যেমন অকালে অনেক অমূল্য প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে এর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কিন্তু সরকার কিংবা একক কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষে এটা ঠেকানো সম্ভব নয়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সকল মহলকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে সরকারকেই।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংলগ্ন ‘সড়ক দুর্ঘটনা স্মৃতিফলক’ এর পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা এসব কথা বলেন। মানববন্ধন শেষে ফুল দিয়ে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এটিএন নিউজের প্রধান সম্পাদক আশফাক মুনীরের (মিশুক মুনীর) চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর) এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ‘জোকা’ নামক স্থানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও বরেণ্য সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন।

জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে’র সভাপতিত্বে মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন- প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মনজুরুল আহসান খান, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও কলাম লেখক প্রকৌশলী ম ইনামুল হক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়া, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি তুসার রেহমান, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাসান তারিক চৌধুরী ও সাবেক সাংসদ এডভোকেট তাসনীম রানা।

বক্তারা দুর্ঘটনার প্রধান কয়েকটি কারণ হিসেবে সড়ক-মহাসড়কে চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যাধিক্য, অদক্ষ ও ভূয়া লাইসেন্সধারী চালকদের দিয়ে যানবাহন পরিচালনা, দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যথাযথ তদারকির অভাব, গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত মহাসড়কে বিভাজক কিংবা চার লেন না থাকা, অসচেতন-অদক্ষ চালকদের মাঝে প্রতিযোগীতামূলকভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত সড়ক-মহাসড়কের বাঁকগুলোর ওপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশের কঠোর নজরদারির অভাবকে দায়ী করেন।